অবাধ্য মায়ের সন্তান যতই ঈমানদার হোক না কেন, তবুও জাহান্নামী

অবাধ্য মায়ের সন্তান যতই ঈমানদার হোক না কেন, তবুও জাহান্নামী এক ব্যক্তি মৃত্যুকালে কালেমা পাঠ করতে পারছিল না অথচ সে সারা জীবন কালেমা পাঠ করছে। তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে উত্তরে বলল, আমি এরূপ একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে ছিলাম যারা সর্বদা হযরত আবুবকর ও উমর (রা) এই দু’জন লোকের প্রতি কুবাক্য প্রয়োগ করতে আমাকে উৎসাহিত ও প্ররোচিত করতো। | হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি, যা মৃত্যুকালে পাঠ করলে রূহ আরামের সাথে দেহ হতে বের হয়। মৃত্যুযন্ত্রণা দূর এবং পূর্বেই বেহেস্তের মনোরম বস্তু তাকে দেখান হয়। তা কিয়ামতের দিন তার জন্য দূর হবে এবং মিজানে নেকীর পাল্লা ভারী হবে। তা কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।

কোন লোকের শেষ সময় সন্নিকট বলে বুঝতে পারলে তার নিকটে বয়স্ক ও পরহেজগার লোক উপস্থিত থাকা উচিত। মুমুর্ষ ব্যক্তির মুখে মাঝে মাঝে একটু একটু করে পানি দেওয়া উচিত এবং তাকে কালেমা তালকীন করা আবশ্যক। সে যদি কালেমা পাঠ করতে অসমর্থ হয়ে থাকে তবে তার কানের কাছে একটু বড় বড় করে কালেমা পাঠ করা উচিত যাতে মুমূর্ষ ব্যক্তি শুনতে পায়।( মায়ের অবাধ্য ছেলের মৃত্য কাহিনী।) আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি হযরত  রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট এসে আরজ করলো ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাঃ) অমুক স্থানে একটি বালক কালেমা পাঠ করতে পারছে না। তিনি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, সে কি সুস্থ অবস্থায় কালেমা পাঠ করতো? লোকটি উত্তর করল, হা করতো। হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বালকটির নিকট উপস্থিত হলেন, আমরাও তাঁর অনুগামী হলাম। | হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বালকটিকে বললেন, হে বালক! পড়- লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। সে উত্তর করলো, আমি তা বলতে পারছি না। তিনি প্রশ্ন করলেন, কেন? বালকটি উত্তর করলো, আমি আমার মাকে অপমান  করতাম ও তার নাফরমানী করতাম, হয়তো সেই জন্যই আমি কালেমা পাঠ করতে পারছি না। হযরত জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা কি জীবিত আছে? সে বললো- জি , আছে। | হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বালকের মাকে ডেকে এনে তাকে বললেন, তোমার ছেলের অপরাধ মাফ করে দাও। সে উত্তর করলো না, আমি তাকে মাফ করবাে না। সে আমার নিতান্ত অবাধ্য ছেলে হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বললেন, তুমি মাফ না করলে তােমার ছেলেকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হবে, তখন কি তুমি তা সহ্য করতে পারবে? তখন স্ত্রীলােকটি বললাে, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমি আপনাকে সাক্ষী করেই আমার ছেলের অপরাধ মাফ করে দিলাম।অতঃপর হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সেই বালককে পুনরায় বললেন, হে বালক! এখন আমার সঙ্গে কালেমা পাঠ কর। বালকটি হযরতের সঙ্গে সঙ্গে এবার সুস্পষ্টভাবে কালেমা পাঠ করতে করতে মৃত্যুমুখে পতিত হলো। হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন- সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমার মধ্যস্থতায় এই বালকটিকে দোজখের অগ্নি হতে রক্ষা করলেন।

উপরোক্ত ঘটনাটা এখানে উল্লেখ করার কারণ এই যে, পাঠকপাঠিকাগণের সম্মুখে যদি কারও মুমূর্ষকাল উপস্থিত হয় এবং কালেমা তালকীন করা সত্ত্বেও যদি কেউ কালেমা পাঠ না করতে পারে তবে অনুসন্ধান করা সত্ত্বেও যদি কেউ কালেমা পাঠ না করতে পারে তৰে অনুসন্ধান করে দেখবেন সে কারও নিকট কোন অপরাধ করেছে কিনা। অথবা কারও নিকট কোন ঋণ আছে কিনা, অথবা কাউকেও ফাকি দিয়েছে কিনা? যদি এরূপ কোন অন্যায়ের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তার প্রতিকার করবেন। তবেই সে কালেমা পাঠ করতে পারবে।হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- যে ব্যক্তি মৃত্যুকালে নিম্নের তসবীহ পাঠ করবে দোজখের অগ্নি তাকে স্পর্শ করবে না।

لا اله الا الله والله اكبر ولا حول ولا قوة الا بالله العلى

উচ্চারণ : “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা-কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।”আপনাদের যে কোন জিজ্ঞাসার জন্য ভিজিট করুন এই লিংক যে কোন প্রশ্ন জানাতে ক্লিক করুন এখানে।

আমার ফেসবুক পেজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

অবাধ্য মায়ের সন্তান যতই ঈমানদার হোক না কেন, তবুও জাহান্নামী