ইমাম তার উত্তম ভাষায় আমার জন্যা দুআ করলে দোষের কি?

ইমাম আমাদের নেতা তার উত্তম ভাষায় আমার জন‌্য দুআ করলে দোষের কি?

প্রিয় পাঠক আমি আজকে একটা সাধারণ জ্ঞানের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। আমার আলোচ‌্য বিষয় “ইমাম আমাদের নেতা তার উত্তম ভাষায় আমার জন‌্য দুআ করলে দোষের কি “ বিষয়টির উপর আলোচনার করার আগে একটি গল্প দিয়ে শুরু করি। আমি আমার গ্রামের যানবহন ভ‌্যানে চড়ে বাজারে যাচ্ছিলাম। ভান চালক আমার পরিচিত। কিন্তু কোন শিক্ষাগত সার্টিফিকেট নাই। তবে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত। কোন এক মসজিদের মোনাজাত  প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল। শুক্রবার দিন। নামায পড়াচ্ছিলেন বাহিরের এক ইমাম।(নতুন ইমাম)  সবাই বলল লোকটি ভালই জানে। নামাজ শেষে মুক্তাদির দিকে মুখ করে বলল এখানে কি মোনাজাত হয়? এর মধ‌্যে এক মুক্তাদি বললেন আপনাকে নেতা মেনে ইমামতি করতে দিয়েছি।আপনে কেন ভুল প্রশ্ন করবেন। আপনে যা করবেন আমরা তাই করবো। এর মধ‌্যে দুজন লোক বললেন মোনাজাত করা যাবে না। তাহলে ইমাম প্রশ্ন করলো কেন? যে এখানে মোনাজাত হয় কি না? উত্তর হলো কোন মসজিদে হয় আবার কোন মসজিদে হয় না। তার মানে ইমাম এর মতে ইচ্ছা করলে মোনাজাত করা যাবে। তখন ঐ ভ‌্যানচালক বলল যার মোনাজাত তাই করবে। ইমাম তো তার নিজের জন‌্য মোনাজাত করবে। মুক্তাদির জন‌্য তো মোনাজাত করবে না। আমি বললাম, কাকা অনেক মানুষ আছে তারা দুআ কিরাত কিছু জানেনা। তারা তাকে নেতা মেনে নিজের জন‌্য, মহল্লার জন‌্য, গ্রামবাসীর জন‌্য, দেশবাসীর জন‌্য,  আল্লাহর মনোনীত ভাষায় মঙ্গল কামনা করলে দোষের কি? তখন ঐ ভানআলা কাকা উত্তর দিচ্ছে , তুমি তো মুসলমান ।তোমার জন‌্য মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। কবরে যাওয়ার আগে পযর্ন্ত তুমি দুআ কালাম শিখতে পারবে। কেন তুমি দুআ কালাম শিখো না। কেন তুমি ইমামের দআর আশায় বসে থাকবে। কথাটি সত‌্যি। খুব ভাল লাগলো। আমার জানামতে ঐ ভানালা চাচা ফাইভ পাসও করেনি। আর সত‌্যই যদি সমাজটি এরকম হতো যে প্রত‌্যেকে জানার জন‌্য যারা জানে তাদের কাছে যাবে। ভাল কিছু শিখবে। কিন্তু সমাজ তো তার উল্টা দিকে চলছে। কেউ কাউকে মানে না। প্রত‌্যেকে একে অপরের দোষ ধরে বেড়ায়। আরো সত‌্য কথা যে চাচা এতো সুন্দর কথা বলল সে চাচাই দিন শেষে সন্ধ‌্যা হলে বাজারে পাড়ার মোড়ে সিনেমা দেখার জন‌্য চলে যায় রাত ১২ টা পযর্ন্ত। এটা তার নিজের স্বীকারউক্তি। সে তো দুআ কালাম শিখা দুরের কথা তার ছোট্র বাচ্চা আছে তাকে নিয়ে সন্ধ‌্যায় পড়তে বসলে অন্তত নিজের বাচ্চাটা ভাল হতো। আমি এটা উদাহারণ দিলাম ঐ চাচাকে দিয়ে। বাস্তবে সমাজের অবস্থা দেখেন প্রত‌্যেক জায়গায় মোড়ে মোড়ে টিভি সিডি আর বিড়ির ধোয়ার আসর বানিয়ে ফেলছে। বিড়ি খাওয়ার জন‌্য ঔষুধে কাজ করছে না জেনেও বিড়ি খাওয়া ছাড়ছে না। একজন বিড়ি খোরের জন‌্য গোটা বাড়ির বউ বাচ্চা সকলের সমস‌্য হচ্ছে জেনেও বিড়ি ছাড়ছে না।দুআ কালাম তো দুরের কথা বাংলা ভাল ভাবে জানে না অনেক উচ্চ শিক্ষিত মানুষ। আজকাল অনেক দুআর বই বাংলায় পাওয়া যায়। কোরআন বাংলায় অনুবাদ করা যায়। কিন্তু সেগুলো শিখতে ও শিখাতে মানুষকে উৎসাহিত না করে সমাজে এটা করা যাবে না,  সেটা করা যাবে না। এগুলো্র মাধ‌্যমে শুধু বিবেধ সৃষ্টি করছে।

আমার আলোচ‌্য বিষয় ইমাম আমাদের নেতা তার উত্তম ভাষায় আমার জন‌্য দুআ করলে দোষের কি? if you want to watch video for this post you follow this link

এখন আমার কথা হলো আমি বাঙালি। বাংলা আমার মায়ের শেখানো ভাষা। যে ভাষায় লেখা কবি নজরুলের অনেক বই পড়তে আমাদের অনেক সময় হিমসিম খেতে হয়। আর মহান আল্লাহ সকল সৃষ্ট জীবের মালিক। তিনি তো সকলের ভাষা বুঝেন। কি বাংলা, কি উর্দু, কি হিন্দি। মহান আল্লাহ সকল ভাষা বুঝেন বিধায় আমরা বাংলা ভাষায় নামায পড়লে নামায হবে না। কারণ আল্লাহ সকল ভাষা বুঝলেও আল্লাহর মনোনীত ভাষা আরবি। কারণ আমার প্রিয় হাবীব ছিলেন আরবি ভাষাভাষির লোক। তাছাড়া আরো কারণ থাকতে পারে।। আমি আমার অল্প বুদ্ধিতে এটা বুঝাতে পারছি যে আরবি ভাষায় যেমন সালাত আদায় করা জরুরি তেমনি দুআ কালামের জন‌্য কিছু আল্লাহর শিখে দেওয়া আয়াত আছে তা আরবিতে পাঠ করা জরুরি। এখন প্রশ্ন হলো আমি বাঙালি। সারা জীবন ধরে বাংলায় শুদ্ধ করে শিখতে পারলাম না। আজ বাংলাদেশ মধ‌্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বলে প্রচার প্রচারণা চলছে। কিন্তু এক সময় বেশির ভাগ মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা ছিল। এখনো অনেক মানুষ জীবনের মৌলিক চাহিদা পুরণে হিমসিম খাচ্ছে। আমরা বাংলা ভাষা ঠিক মতো আয়ত্ব করতে পারছি না। আরবি ভাষা তো দুরে থাক। বাংলা শেখার জন‌্য বহুত সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে হাতের কাছে তারপরও অনেকে সন্তানকে মানুষ করতে পারছে না। ঠিক মত খাতা কলম কিনে দিতে পারছে না। তার পর উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। কত সুযোগ সুবিধা থাকার পরও লেখা পড়া চালিয়ে যেতে পারছে না। সেখানে আরবি শেখার জন‌্য আমাদের সমাজে কি ধরনের মুক্ত ব‌্যবস্থা আছে যা থেকে আমরা সহজে আরবি শিখতে পারি। সোজা কথা হলো আরবি শেখার জন‌্য সেরকম উত্তম ব‌্যবস্থা আমাদের এলাকায় নাই। যদিও দু একটা সমাজ ব‌্যবস্থাপনায় থাকে তাও অযত্নে অবহেলায় সেখানে ছাত্রছাত্রী যায় না। কারণ আমাদের সংস্কৃতি বিড়ি খোর আর মোড়ে মোড়ে সিডি টিভি। কিন্তু উপর পর্যায় থেকে আরবি শেখানোর জন‌্য যদি চাপ থাকতো। যদি আমাদের সংস্কৃতিতে আরবি শিক্ষার বিভিন্ন উপাদান বা মাধ‌্যম থাকতো তাহলে মানুষ এতোটুকু হলেও অনুপ্রাণীত হতো। আমি বাঙালি । আমি কাউকে আরবি শিখতে বলিনি। দুআ কালামের জন‌্য মুসলিম হিসাবে আমার যা না জানলেই নয় তা বুঝাতে আমি এই কথা গুলো লিখছি। তাহলে আমরা কতজন দুআ কালাম জানি। আরবি ভাষা বা শিক্ষা আমাদের পক্ষে অসম্ভব নয়। কিন্তু কত জনের পক্ষে সম্ভব। একটা মসজিদে কতজন মানুষ কোরআন পড়া জানে। একটা মসজিদে কতজন মানুষ ইমামতি করাতে পারে। একটা মসজিদে কতজন মানুষ আল্লাহর শেখানো ভাষায় দুআ পাঠ করতে পারে? যে পারে তাকেই তো আমরা ইমাম বানয়েছি। যেন আমাদের সঠিক পথে চালিত করতে পারে। সেই আর্জিটুকু মহান আল্লাহর দরবারে জানানোর ভাষা আমার জানা নাই। তাই তো আমি যে জানে তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। প্রিয় পাঠক আমি কিন্তু আরবি জানি না। আমার লেখায় কোন জায়গায় আয়াত বা হাদীস উল্লেখ নাই। কিন্তু আমার বাংলা ভাষায় যা বুঝাতে চাই তা হয়তো আপনার অনেকটা বুঝতে পারছেন।আমি কোন গোত্রের বা মহল্লার বা ধর্মের বিরুদ্ধে লিখেনি। আমি ব‌্যক্তিগতভাবে এই ভাবনাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি। তাই আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। আমি গুণাহগারকে যদি কেউ থাকে এগুলো সমন্ধে সঠিক দিক্ষা দিলে উপকৃত হবো ও কৃতজ্ঞ থাকবো।আমাদের সমাজের সহজ সরল মানুষগুলোকে পুজি করে হাদিসের জাল জয়িব দিয়ে বন্দি করে ফেলছ। প্রতিনিয়তো মানুষ ফেতনা ফাসাতের সাথে জড়িত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রশ্নবানে বিদ্ধ হয়ে মানুষ গুলো ইসলামের প্রতি বিরুপ ধারণা পোষণ করছে। আমি কোন দিকে যাবো। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন। কারণ মাওলানারা তো এক নয়।আমাদের ছোট্র গ্রামে অর্ধেক মানুষ শরিয়ত আর অর্ধেক মানুষ মারফত। কি আশ্চর্য ! শরিয়তের মধ‌্যে যে কজন আছে তার মধ‌্যে জামাতে মসজিদ প্রতি উপস্থিত হয় খুব জোড় গড়ে ১২ জন। যে কজন উপস্থিত হয় তার মধ‌্যে আবার দন্দ যে, এটা করা যাবে, এটা করা যাবে না। মানুষকে মসজিদ মুখি করার কথা নাই কিন্তু বিমুখি করার বহুত হাদিস নামক ভুলবুঝাবুঝির বা ভুল / সঠিক বুঝানোর বহু চটি বই পড়ুয়া মৌলবি আছে। আমার মতে বা আমি যতটুকু জানি তাতে দেখেছি জ্ঞানী মানুষেরা কখনো তর্কে জড়ায় না। কারণ তারা যত জানে তত বিনয়ী হয়। যেহেতু আমার পক্ষে মহান আল্লাহর মনোনীত ভাষায় মহান আল্লাহর নিকট চাওয়ার জ্ঞান নাই । তাই আমি ইমামকে দায়িত্ব দিয়েছি আমাদের অভাব অভিযোগ সর্ম্পকে মহান আল্লাহর নিকট আর্জি পেশ করতে। তাই তো ইমামসাহেব বলেন , আল্লাহ কার কি নেক বাসনা আছে তুমি তা পুরণ করে দাও। পুরো দেশবাসীসহ সকল মুসলিম উম্মার জন‌্য দুআ করে। আবার বলে আল্লাহ এই আমিন আমিন করা মানুষগুলোর মধ‌্যে যার হাত পছন্দ হয় তার হাতের অছিলায় আমাদের সকলকে ক্ষমা করে দাও। ইমাম তো এখানে শুধু নিজের জন‌্য দুআ করে না। আমার ভুল ত্রটির শেষ নেই। সেজন‌্য আমি অনুতপ্ত। সেই অনুতপ্তের বিষয়গুলোসহ সব কিছু বিষয়ে মহান আল্লাহর নিকট তার মনোনীত ভাষায় ইমামসাহেব  আমাদের জন‌্যে চাইলে দোষের কি?

শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন লেখা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
যেকোন প্রশ্ন করতে ও জানাতে এখানে ক্লিক করুন
আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

video or video for little children

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.