খুব গুরত্বপূর্ণ মনকাড়া সর্বদা পালনীয় কতগুলো উপদেশ।

সমস্ত পোষ্ট না পড়ে কোন মন্তব্য করবেন না দয়া করে। সেটা মনে মনে হোক কি, বাস্তবে। 

১. জরুরত পরিমাণ ধর্মীয় এলেম প্রত্যেকেরই শিক্ষা করা দরকার।চাই কিতাব পড়ে হোক বা জিজ্ঞাসাবাদ করে হোক।                                    

২। সব রকম গোনাহ হতেই বেঁচে থাকা চাই। 

৩। কখনও কোন গোনাহের কাজ হয়ে পড়লে সাথে সাথে তাওবাহ করবে।                                                

৪। কারো কোন হক নষ্ট করবে না। কাউকেও কোন কথা বা ব্যবহার দ্বারা মনে কষ্ট দেবে না। কারো কোন গীবত শেকায়েত করবে না।      

৫। অর্থের লিপ্সা বা নাম ডাকের আকাঙ্খা রাখবে না । বিলাসিতা ও আলস্য পরিহার করবে। কাজ করতে আলস্য বা লজ্জাকে প্রশ্রয় দেবে, না। ভাল খাওয়া পরা ও ভাল ভাল মাল-সামান যোগাড়ের ফিকিরে থাকবে না।                                                  

৬। কোন কথায় বা কাজে ভুল হয়ে গেলে অন্য কেউ সেই ভুল ধরিয়ে দিলে তৎক্ষনাৎই সে ভুল স্বীকার করে নেবে, ক্ষমা চাইবে ও তাওবাহ করবে।                                                                                 

৭। প্রয়োজন ব্যতিরেকে বিদেশ সফর করবে না। প্রয়োজন বলতে এলেম হাসিল, হজ্জ আদায়, জিহাদ ও তাবলীগ ইত্যাদি। কারণ সফরের মধ্যে সব কাজ ঠিকমত আদায় করা সম্ভব হয় না। অনেক নেক কাজই ছুটে যায়। তাছাড়া সফরের ভেতরে অনেক সময় পর্দা রক্ষা করা ও চোখের হেফাজত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।                                              

৮। বেশী হাসতে ও বেশী কথা বলতে নেই।   

৯। কারো সাথে ঝগড়া বিবাদ এবং কলহ কোন্দল করবে না।

 ১০। প্রতিটি কাজে ও কথায় শরীয়তের অনুবর্তিতা ও সুন্নাতের অনুসরণের খেয়াল রাখা চাই।                                                

১১। নামাজ, রো্জা ও অন্যান্য ইবাদাতের মধ্যে কখনও আলস্য বা অবহেলা করবে না।                                        

১২। যদি কোন বিপদ আসে, রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়, শত্রু শত্রুতা করে, ব্যবসায় লোকসান হয়, অভাব-অভিযোগ আসে, তবে অস্থির হবে না, ঘাবড়াবে না। সবই আল্লাহর তরফ হতে হয় মনে করবে এবং ধারণা রাখবে যে, তাতে আল্লাহ ছওয়াব দেবেন। খবরদার! আল্লাহর উপরে প্রতিবাদ করবে না। মনে করবে, এসব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে পারলে অনেক ছওয়াব মিলবে এবং দরজা বুলন্দ হবে । এরূপ খেয়াল না করা চাই যে, আমি তো আল্লাহর পথেই চলতে চাই কিন্তু এসব বাঁধা কেন আসে? এরূপ চিন্তা করা অত্যন্ত অন্যায়। জেনে রাখবে, প্রতিবন্ধকতার কারণেই তো আল্লাহ্র রাস্তা মুখর এবং মূল্যবান হয়।      

১৩। দুনিয়ার কাজ অবশ্য করবে-তাতে আলস্য করবে না, কিন্তু কেবলই দুনিয়ার আলোচনা ও ভাবনা করবে না। সর্বদাই মন আল্লাহর দিকে ন্যস্ত রাখবে। এমনকি কাজ-কর্ম করার সময়ও মন সেদিকে রাখতে চেষ্টা চালাবে।                                                    

১৪। মানুষের উপকারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। তা দ্বীন বা দুনিয়ার যাই হোক না কেন। শত্রু বা মিত্র প্রত্যেকেরই উপকারের চেষ্টা করবে ।                                                                             

১৫। খানা-পিনা এতো বেশী কম করবে না যে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, আবার এতো বেশী খানা-পিনা করবে না যে, শরীরে আলস্য এসে পড়ে। ক্ষুধা রেখে খাবে এবং বিনা ক্ষুধায় খাবে না ।       

১৬। একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট কিছু আশা করবে না। এ খেয়াল করা চাই না যে, অমুকে আমার সাহায্য করবে, অমুকে আমাকে সেবা যত্ন করবে। মোটকথা, মানুষের উপর নজর  রাখবে না, নজর রাখবে আল্লাহর দিকে ।                                     

১৭। সর্বদা আল্লাহর তালাশে তৎপর এবং উদ্বিগ্ন থাকবে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টায় কখনও ক্ষান্ত হয়ে বসে থাকবে না।    

১৮। অতি সামান্য নেয়ামত হলেও তার শোকর করবে। এরূপে কেউ কোন উপকার করলেও আজীবন তা স্মরণ রাখবে এবং তার জন্য তার নিকট কৃতজ্ঞ থাকবে। অভাব অভিযোগ দেখা দিলে মনে কোনরূপ কষ্ট আনবে না। তবে তা দূর করার জন্য অবশ্য চেষ্টা করবে। কিন্তু তাতে ফলোদয় না হলে সেজন্য চেষ্টায় ক্রটি করবে না এবং ঘাবড়িয়ে যাওয়াও ঠিক হবে না।                                            

১৯। তোমার অধীনে যারা কাজ করে, তাদের ভুল-ত্রুটি”.ক্ষমা করবে। তাদের প্রতি দয়া ও স্নেহ প্রদর্শন করবে।                                  

২০। কারো দোষ দেখলে তা গোপন রাখবে। অন্যের কা প্রকাশ করবে না। বরং পারলে গোপনে সহানুভূতির সাথে তাকে ও সংশোধন করে দেবে। নতুবা মনের মধ্যে গোপন রাখবে। কিন্তু জানতে পার যে, কেউ হয়ত গোপনে কারো কোন ক্ষতি  করছে, তবে যার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে,গোপনে তাকে সতর্ক কত দেয়া আবশ্যক। 

২১। মেহমান, মুসাফির, গরীব-দুঃখী, আলেম তালেবে এলা পীর-বুযুর্গদের খেদমত করবে। পুরুষগণ তো সব রকমের খেদমত করতে পারে। স্ত্রীলোকগণ পর্দায় থেকে আর্থিক খেদমত করতে পারে বা খানা রান্না করে দিতে পারে বা কাপড়-চোপড় ধুয়ে দিতে পারে। এসব খেদমতেও বহু ছওয়াব পাওয়া যায় ।      

২২। কুসংসর্গ হতে বেঁচে থাকবে। সৎ সংসর্গ অবলম্বন করবে ।        

২৩। খোদাভীতি সদা-সর্বদা অন্তরে জাগরিত রাখবে।              

২৪। মৃত্যুকে স্মরণ করবে।             

২৫। প্রত্যহ কিছু সময় নির্দিষ্ট করে নির্জনে বসে সমস্ত দিনের হিসাব-নিকাশ নিজের নফসের নিকট হতে গ্রহণ করবে এবং যেসব নেক কাজ দেখবে তার জন্য আল্লাহর নিকট শোকর করবে এবং যে সব গোনাহের কাজ দেখবে, সেজন্য নফসকে তাম্বীহ করবে এবং আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে তাওবাহ ইস্তেগফার করবে।                                                 

২৬। কখনও মিথ্যা বলবে না- সদা সত্য কথা বলবে।

 ২৭। শরীয়ত বিরোধী মজলিসে কখনও যাবে না।   

২৮। লজ্জা শরম রেখে চলবে, দয়ামায়া দেখাবে-হারাম কাম করিবে না।।

২৯। নিজের পরহেজগারী, এলেম, অভিজ্ঞতা বা রূপ ও কারণে কখনও গৌরব করবে না যে, আমি এ গুণের অধিকার, করবে যে, এটা আল্লাহর দান। আমি অধমকে দয়া করে আর করেছেন। আমি যদি গৌরব করি বা এটা আমার নিজস্ব বলে দাও তবে তিনি যে কোন মুহূর্তে এসব ছিনিয়ে নিতে পারেন। অতএব । নম্র এবং দয়ালু হওয়া চাই।

৩০। সর্বদা আল্লাহর কাছে অনুনয় বিনয় করে দোয়া চাইবে যে, হে মাবুদ! দুনিয়াতে আমাকে হক রাস্তার উপর, দ্বীনের উপর, রছুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের তরীকার উপর রাখুন এবং ঈমানের উপর মৃত্যু নসীব করুন। (আমিন।)

শ্রদ্ধেয় পাঠক বুঝতেই পারছেন এগুলো এ অধমের সংগৃহীত খুব ভাল কথা আপনাদের জন্য আমার সাইটের দ্বারা শেয়ার করলাম্।ধন্যবাদ সবাইকে ।