জীবন গেল আগুনে ১৯ বাসে ২১ কোনটার ভয়াবহতা বেশি।

জীবন গেল আগুনে ১৯ বাসে ২১ কোনটার ভয়াবহতা বেশি।
সালাম ও শুভেচ্চা গ্রহণ করবেন।সম্মানিত পাঠক আমার আজ অন্য বিষয় নিয়ে লেখার ইচ্ছা ছিল।কিন্তু সমসাময়িক কিছু বিষয় আমাকে একটু বেশি নাড়া দিচ্ছে তাই আজ এই বিষয়ে লিখতে বসলাম।আপনারা হয়তো শিরোনাম দেখে বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাই।
আমরা আজ যন্ত্র মানবে সবাই পরিণত হয়ে গেছে। শুধু প্রোডাক্টাশনের উপর ঝুকি নিয়ে আছি।ভুলেই গেছি বিশ্রামও কাজের অংশ।যে কোন সেক্টরে শ্রমিক গুলোকে খাটানো হচ্ছে যন্ত্র মানবরে মত।তার উপর মাঝে মধ্যে শ্রমিক ছাটাই, বেতন বৈষম্য, বেতন প্রদানে বিলম্ব।সব কিছু মিলে এক হতাশাগ্রস্ত অবস্থা। মানুষ কোথাও শান্তি পাচ্ছে না। তবে ভাল সেক্টর নাই তা বলবো না।এমনও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যাদের পরিবেশ কাজ কর্ম দেখলে খুব ভাল লাগে মনে হয় যদি এরকম জায়গায় চাকরি করতে পারতাম!
মাঝে মধ্যে অফিস গুলো ডেকোরশেন বদলাতে হয়। অফিস যন্ত্রপাতি ব্যবহার সর্ম্পকে মহড়া দিতে হয়।কিসের মহড়া, কিসের বিশ্রাম। এক ঘন্টা কাজ বন্ধ থাকলে কোম্পানির মনে হয় আমি অনেক ক্ষতি করলাম। তাই কর্মকর্তা কর্মচারীরদের উপর বন্ধুসুলভ আচারণ না করে প্রভুর মতো আচারণ করে। ভুলেই যায় দেওয়ার মালিক যে, নেওয়ার মালিকও সে। তাকে পেতে হলে আগে মানুষকে ভালবাসতে হবে।ভালবাসা তো দুরে থাক মিষ্টি করে কথা পর্যন্ত বলে না নিজের লোক মনে করে।এখন বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা খুব উন্নত হয়েছে।সেই সাথে তার যন্ত্রপাতিও উন্নত হওয়া দরকার। সেই পুরনো আমলে লাগানো তার সুইচ বোর্ড পরিবর্তন করার কোন লক্ষই নাই প্রোডাক্টশনের ভিড়ে।নাই কোন দক্ষ কারিগর। থাকলেও রাখবে না বেশি বেতন দেওয়ার ভয়ে।কম বেতন দিয়ে একজন অদক্ষ কারিগর নিয়োগ করবে আর তার কাজ বুঝতে বুঝতে একটা অঘটন ঘটে যাবে, বুঝতেই পারবে না।দক্ষ লোক নিয়োগ করবেন না, শ্রমিক কর্মচারীর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবেন না টাকার অহংকারে বা ক্ষমতার জোরে। কিন্তু এখন ঠিক সহ্য করতে পারবেন যখন শ্রমিক গেল,প্রাণ গেল,জান গেল মাল গেল, মান গেল, সম্মান গেল।এর থেকে কেউ রেহাই পাবেন না যত দিন যারা পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, অথচ কিছু হারানোর ভয়ে অথবা আপনার যথপযোক্ত ভুমিকার অভাবে এধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।
আগুন লাগা দৃশ্য মিডিয়াতে দেখতে পাচ্ছেন।কিন্তু রাস্তাতে প্রতি ঘন্টা রক্ত ঝরছে।সেটা তো সরাসরি দেখতে পারছেন না।রাস্তা যখন আছে এরকম দুর্ঘটনা কমবেশি হতেই পারে।
কিন্তু একই দিনে একই দেশে ৬ ঘন্টার ব্যবধানে জীবন গেল ১৯ জনের অপর দিকে কিছুক্ষনের মধ্যে প্রাণ গেল ২১ জনের। কোনটার ভয়াবহতা বেশি? কোন ক্ষেত্রে আপনার বা আপনাদের কতখানি অবহেলা আছে।কতখানি আরো সু-ভুমিকায় অবর্তীন হলে আমরা হতশা থেকে মুক্ত হতে পারবো?