ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে খুব ভাল পরামর্শ সবার জানা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে খুব ভাল পরামর্শ সবার জানা প্রয়োজন।
বর্তমানে সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশেও যে হারে ডায়াবেটিসের রোগী বেড়ে গেছে তাতে সুস্থ মানুষেরও চিন্তার উদ্বেগ বেড়ে গেছে। প্রত্যেকটি পরিবারে এ রোগ মহামারী আকারে প্রবেশ করতে পারে।তাই একটি পরিবারে বাবা-মা ভাই বোন সকলের এ বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি। সেই উদ্দ্যেশেই আজকের পোষ্ট আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।পোষ্ট আমাকে খুব ভাল লেগেছে। (ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে খুব ভাল পরামর্শ সবার জানা প্রয়োজন।)
প্রতি বছর বিশ্বের যে হারে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে সুস্থ ব্যক্তিদের দুশ্চিন্তা কমছে না। বাংলাদেশেও এ রোগে বৃদ্ধির হার আশঙ্কাজনক। খাদ্যাভাসে অনিয়ম ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারন। তবে নিয়মিত সময় মেনে পরিমিত খাবার খেলে এ রোগে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে খাবার খাবেন সে জন্য চিকিৎসক বা নির্দেশেকের সঙ্গে পরামর্শ করে তালিকা তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দিয়েই শুরু হোক সকালের নাস্তা । বেশি খেলেই বুঝি স্বাস্থ্য ভালো থাকে এত দিন এমনই মনে করে আসছি আমরা! কিন্তু বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিপর্যয় থেকে আজ প্রমানিত হচ্ছে এটা খুব ভুল একটি ধারনা। আর স্বাদযুক্ত খাবারের কথা যদি বলি, এ সবের প্রতি কত সহজেই না আমরা আসক্ত হয়ে পড়ি। এটাও খুব ভুল অভ্যাস। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব ভুল অভ্যাসের ফলেই বিশ্বব্যাপী। ডায়াবেটিস মহামারী রূপ ধারণ করেছে। এ সংকট থেকে মুক্তির উপায় কী? এ ক্ষেত্রে তাদের একটাই পরামর্শ খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করুন! আজকের বিশ্বে সুস্থ থাকার এটাই মূলমন্ত্র । ডায়াবেটিসের বেলায় এ কথা আরও বেশি সত্য! সব বয়সীদের বিশেষ করে স্কুলগামী বাচ্চাদের জন্য সকালের নাস্তাসহ পরিমিত খাদ্যাভাস খুবই জরুরী। ডায়াবেটিস চিহ্নিত হওয়ার পর খাদ্যের ধরন নির্ধারিত হয়। তবে সব ধরনের মিষ্টি (গুড়, চিনি, শরবত, কেক, পেষ্ট্রি, জ্যাম), কোমল পানীয়, কৌটার দুধ একেবারেই বাদ। রোগীদের শর্করা ও আমিষ জাতীয় খাদ্য ঘাটতি পূরনের জন্য প্রতিদিন নিয়মিত ভাত, রুটি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে। খাদ্যমানের বিশেষ কোনো তারতম্য হবে না এমন খাদ্যের তালিকা তৈরি করা দরকার। সেখান থেকে পরিমান ঠিক রেখে নিয়মিত খাদ্য বদল (তালিকা থেকে বিনিময়) করে খেতে। হবে। একটি তালিকায় যদি সকালের নাস্তায় তিনটি আটার রুটি (৯০ গ্রাম) থাকে, আরেক দিন অন্য তালিকা থেকে রুটির পরিবর্তে পাউরুটি মুড়ি বা অন্য কোনো খাবার খাওয়া যেতে পারে । দুপুরের খাদ্য তালিকায় ৩০ গ্রাম মাছের পরিবর্তে অন্য যে কোন আমিষ খাবার খাওয়া যেতে পারে, তবে পরিমাণ ঠিক থাকতে হবে। এতে খাদ্যে বৈচিত্র আসবে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকবে । অসুস্থতার কারনে তালিকার খাদ্য খেতে পারলে সে সময় প্রতি বেলায় এক কাপ দুধ-বার্লি বা দুধ-সাগু, ফলের রস অথবা ডাবের পানি খেতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা জেনে এসেছি, খাদ্যে প্রাণিজ চর্বি অস্বাস্থ্যকর। | বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এতদিন স্বল্প চর্বিযুক্ত ও দানাদার শস্য জাতীয় খাবার-দাবার গ্রহণের পরামর্শ দিতেন। শেষ পর্যন্ত পৃথিবীবাসীর জন্য শুভ হয়নি। হয়তো এরই দীর্ঘকালীন প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টাইপ টু ডায়াবেটিসের প্রকোপ আরও বেড়ে গেছে। এর প্রকোপ বলা যায়, বর্তমানে দ্বিগুন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এখানেই শেষ নয়। অল্প বয়স্কদের মধ্যেও এখন দেখা দিচ্ছে এই রোগ। চিনি এবং শস্যকনা জাতীয় খাদ্যকেই বরং ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ার জন্য দায়ী করেছেন এখন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যাভাসের জন্য তিনটি জরুরি বিষয় হচ্ছে খাবার গ্রহনের সময়, খাদ্যের পরিমান এবং খাবারের ধরন। কোন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব বিষয় মেনে চললে তিনি সুস্থ থাকতে পারবেন। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী ও সুস্থ ব্যক্তির মধ্যে শুধু মিষ্টি জাতীয় খাবার ছাড়া খাবারের আর কোন পার্থক্য নেই। নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরাও সব ধরনের খাবার খেতে পারবেন । সুস্থ ব্যক্তির জন্যও সময় মতো পরিমিত খাবার খাওয়া খুবই প্রয়োজন । বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা না খেয়ে থাকলে হাইপো গ্লাইসিমিয়া (ডায়াবেটিসের মাত্রা যাওয়া নিচে) হতে পারে। এ অবস্থায় রোগী মারাও যেতে পারে। নিয়মানুযায়ী রোগীদের খাবার খেতে হবে । সে হিসাবে দিনে ছয় বার খাবার খাওয়া দরকার। যারা ইনসুলিন বা ওষুধ সেবন করেন তাদের জন্য সময় মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। কোন ওষুধ যদি খাবারের ২০ মিনিট পূর্ব খেতে হয় তা ওই ঠিক সময়ে খেতে হবে। প্রতিদিন যে সময়ে ইনসুলিন বা ওষুধ গ্রহন করেন সে সময়ের গড়িমসি করা যাবে না। রোগীর আলাদা খাবার তালিকা তৈরি করতে হবে। রোগের মাত্রার ওপর রোগীর খাবার তালিকা ভিন্ন হতে পারে । রোগীর বয়স, ওজন এবং উচ্চতার ওপর খাবারের পরিমাণ ভিন্ন হয়। তবে রোগের মাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের পরমানও পরিবর্তন হয় । ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার মানে জটিল বা দুঃসাধ্য কিছু নয়। একে নিয়ন্ত্রণের মূলমন্ত্র এটাই খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ । অর্থাৎ কোন খাদ্য আর কী পরিমাণে খেতে হবে তা কঠোরভাবে মেনে চলা। এর সঙ্গে যোগ করতে হবে শরীর চর্চা। তবে খাদ্যের পরিমান আর খাদ্যের ধরন- এ দুটো বিষয়ই সবচেয়ে জরুরি । ডায়াবেটিস রোগী যদি বেশি পরিশ্রম না করে তাহলে তাকে প্রতি ঘন্টায় 1kcal/kg/1hour খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। যদি একজন লোকের ওজন ৫০ কেজি হয়। তাহলে তার এমন খাদ্য গ্রহণ করতে হবে যাতে প্রতি ঘন্টায় 50x1kalx1=50kcal শক্তি উৎপাদন করতে পারে । তাহলে ১দিনে 50X24=1200 কিলো শক্তি উৎপাদন করতে পারে । যদি বেশি পরিশ্রম করে তাহলে আরও বেশি ক্যালরি শক্তির খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। ১ গ্রাম গুকোজ 5kcal এবং ১ গ্রাম প্রটিন 5kcal এবং ১ গ্রাম ফ্যাট প্রায় ৯ ক্যালরি শক্তি উৎপাদন করে । খাদ্যের পরিমান শর্করা ৪৫-৬০%, চর্বি জাতীয় ১০-২০% বাকী প্রোটিন খেতে হবে। যদি কারো ওজন কম থাকে তাহলে ক্যালরি বেশি খেতে হবে এবং ওজন বেশি থাকে তাহলে ক্যালরি কম খেতে হবে। সাধারণভাবে। বলা যায় ভাত, রুটি পরিমান মত মাংস, মাছ, ডিম, দুধ পরিমান মত সীমিত আকারে কিন্তু ফল, শাক সবজি ইচ্ছা মত খেতে পারবে। খাবারের ব্যাপারে সারমর্ম হচ্ছে আমাদের BMI ঠিক রাখা । BMI হচ্ছে Kg/m এজন মানুষের ওজন 100 কেজি এবং উচ্চতা 2 মিটার। তার BMI 100/22–25। আমাদের শরীরের BMI স্বাভাবিক লেভেল ১৮-২৪। ১৮ নীচে হলে আমরা বলি Under Weight এবং ২৪ এর উপরে আমরা বলি obese। অতএব খাবার এমনভাবে বাছাই করতে হবে যাতে BMI ১৮-২৪ এর মধ্যে থাকে। ডায়াবেটস নিয়ন্ত্রনের মোদ্দা কথা হচ্ছে সকাল ৮টায় নাস্তা ২টা মাঝারী আকারের রুটি, সবজি প্রয়োজন মত, দুধ/চা (চিনি ছাড়া), সকাল ১১ টায় । – বিস্কুট বা ১ কাপ মুড়ি, দুপুর ২টায় ভাত মাঝারী ১ প্লেট (২০০ গ্রাম), সবজি ইচ্ছামত, মাছ/মাংস-১ টুকরা, ডাল-১ কাপ। বিকেল ৫টায় ২-৩টা বিস্কুট, দুধ ১কাপ চিনি ছাড়া এবং রাত ৯টা ২টা রুটি এবং সবজি পছন্দমত । ঘুমানোর পূর্বে ২টা বিস্কুট, ১টা ফল ও দুধ ১কাপ চিনি ছাড়া। যদি কেউ আন্ডার ওয়েট থাকে তবে খাবারের পরিমাণ একটু বাড়াতে হবে এবং ওভার ওয়েট থাকে তাহলে খাবারের পরিমাণ একটু কমাতে হবে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য রক্ত গুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখত হবে । রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনের। জন্য প্রয়োজন শৃঙ্খলা, ব্যায়াম, খাবার ও ওজন নিয়ন্ত্রন । যদি এসব করেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে সঙ্গে ওষুধ ও ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয় । ডায়াবেটিস চিকিৎসার প্রধানতম ঔষধ হলো ইনসুলিন । ইনসুলিন আবিস্কারের আগে অধিকাংশ টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগী রোগ শনাক্তকরনের পাঁচ বছরের মধ্যে মারা যেতেন । ইসুলিন আবিস্কারের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীর একটি বড় অংশ ইনসুলিন ব্যবহার করেন। ইনসুলিনের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া ইনসুলিন তৈরির পদ্ধতিতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন । ১৯২১ সালে বেন্টিং পশুর প্যানক্রিয়াস (অগ্ন্যাশয়) থেকে ইনসুলিন তৈরি করা হয়। এরপর থেকে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু পশুর ইনসুলিন ব্যবহার করলে অনেক জটিলতা হত । তবে ঈস্পিত মানের ইনসুলিন, যা মানুষের শরীরের ইনসুলিনের মতো ক্রিয়াশীল, তা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু থেকে চলে আসছিল । ১৯৮০ সালে এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ডিএনএ টেকনোলজির মাধ্যমে হিউম্যান ইনসুলিন তৈরি হয়। ১৯৯৯ সালে ডিএনএ টেকনোলজির মাধ্যমে আসে ইনসুলিন এনালগ বা মর্ডান ইনসুলিন ।
ইনসুলিন সাধারণ ত্বকের নিচে ইনজেকশনের মতো করে নিতে হয়। ইনসুলিন নেওয়ার মূল উদ্দেশ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যতটুকু সম্ভব স্বাভাবিক রাখা । রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রন ইনসুলিনের মাধ্যমে করা ভালো ও সহজ। সঠিকভাবে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রন করলে রোগীরা ডায়াবেটিসে বিভিন্ন জটিলতা যেমন-অন্ধত্ব, কিডনির জটিলতা, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ডায়াবেটিক ফুট প্রভৃতি জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অনেক ডায়াবেটিস রোগী কেডায়াবেটিস রোগীকে ইনসুলিন গ্রহনের পরামর্শ দেওয়ার পরও ধারনা বশবর্তী হয়ে ইনসুলিন গ্রহণের আগ্রহ দেখান না। এমনকি চিকিৎসক কর্তৃক বার বার নির্দেশিত হওয়ার পরও ইনসুলিন গ্রহনে দ্বিধা করেন । বাংলাদেশের গ্রামীন এলাকায় ডায়াবেটিক নিয়ে পারিচালিত একটি গবেষনায় দেখা গেছে ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন নেওয়া শুরু করলে
বা মনে করে এটাই শেষ চিকিৎসা। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ (৭২ শতাংশ) যেহেতু গ্রামীন এলাকায় বসবাস করেন, তাই গ্রামীন মানুষদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও এর কারনসমূহ খুজে দেখার উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ডায়াবেটিক সমিতি ও নরওয়ের অসলো। বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে চন্দ্রা রুরাল ডায়াবেটিস স্টাডি নামে গবেষনা প্রকল্পটি শুরু করে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে গাজীপুর জেলার চন্দ্রা এলাকার। ২০ গ্রামে ১৯৯৯ সালে চার হাজার ৭৫৭ জন ২০০৪ সালে তিন হাজার ৯৮১ জন এবং ২০০৯ সালে তিন হাজার জনের ওপর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা । চালানো হয়েছে। ডা. বিশ্বজিৎ ভৌমিক এ গবেষনার রিসার্চ ফেলো। তিনি বলেন, শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের মধ্যে ইনসুলিন নিয়ে ভীতি বেশি। দেখা যায়। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি দেখেছেন অনেক চিকিৎসকের মধ্যে ইনসুলিন নিয়ে ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে। তারাও মনে করেন, একবার ইনসুলিন নিলে আর পরিত্রান নেই। বর্তমান বাংলাদেশে সাধারণ ইনসুলিনের পাশাপাশি বিশ্বমানের আধুনিক ইনসুলিনও পাওয় যায় । কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করলেও পরে অবস্থার উন্নতি হলে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা যেতে পারে । শরীরে ইনসুলিন ইনজেকশন দেওয়ার স্থান হলো পেটের (নাভির পাশের)। ত্বকের নিচে, উরুর সামনের ত্বকের নিচে এবং কোমরের ত্বকের নিচে। সাধারণত ইনসুলিন ফ্রিজে সংরক্ষন করা হয়। তবে কোনভাবেই ঠান্ডায় জমে যেতে দেওয়া যাবে না। ঠান্ডায় জমে গেলে এর কার্যকারিতা হারাবে। ফ্রিজে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রাখা যাবে । একবার ব্যবহার শুরু করলে ভায়ালটি যদি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা হয়, তবে এক মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে । সারমর্মে বলা যায়, ডায়াবেটিস এর কারন হচ্ছে শরীরে ইনসুলিন কমে যাওয়া। আমাদের। পরে ভতরে Pancreas নামক অঙ্গ আছে যাহা অনববরত ইনসুলিন নিঃসরন করে। যদি কোন কারনে ইনসুরিন নিঃসরন কমে যায় তাহলে ডায়াবেটিস দেখা দেয়। ডায়াবেটিস দুই ধরনের টাইপ-১ এবং টাইপ যদি কারও প্যানক্রিয়াস মোটেও ইনসুলিন তৈরী করতে পারে না তাই টাইপ-১ ডায়াবেটিস দেখা দেয়। যদি কারও প্যানক্রিয়াস ইনসলিন নিঃসরন হয় কিন্তু পর্যাপ্ত নয় তাহলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হয় । তাই টাইপ-১ ডায়াবেটিসে যেহেতু মোটেও ইনসুলিন নিঃসরন হয় না তাই টাইপ-১ ডায়াবেটিসে অবশ্যই ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। ঔষধে কোন কাজ হবে না। সাধারণ অল্প বয়সে এবং যাদের বিএমআই কম তাদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস হয়ে থাকে । আবার টাইপ-২ ডায়াবেটিসে যেহেতু অল্প ইনসুলিন নিঃসরন হয় তাই এই ধরনের ডায়াবেটিসে মুখের ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব । টাইপ-২ ডায়াবেটিস সাধারণত মোটা মানুষের এবং বয়স্ক লোকদের হয়ে থাকে । তবে মনে রাখতে হবে টাই-২ ডায়াবেটিসের রোগী যদি কোন জটিলতা নিয়ে আসে যেমন (ডায়াবেটিক কিটোএসিডেসিস, ডায়াবেটিক গ্যাংগরিন, স্ট্রোক, হার্ট এটাক ইত্যাদি) অবশ্যই ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। তখন ঔষধে কোন কাজ হবে না। কোন রোগীর যদি বাচ্চা পেটে আসে তাহলে ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব নয় সেক্ষেত্রে ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে ।
উল্লেখ্য যে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস সাধারন মুখের ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয় । কিন্তু সর্বোচ্চ ঔষধ দেওয়ার পরও যদি ডায়াবেটিসের মাত্রা সকালে খাবার পূর্বে ৩০০ মিঃ গ্রামঃ/ডিএল অথবা খাবার পর ৪০০ মিঃ গ্রামঃ/ডিএল এর উপড়ে যায় তাহলে অবশ্যই ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত।
পোষ্টাট স্ট্রোক ও মাথা ব্যথার সাতকাহন নামক বই থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। লেখক ডা: মো: আনোয়ার হোসেন বাবলু।
আমি জনস্বার্থে পোষ্ট তুলে ধরেছি। ভুল হলে ক্ষমা করবেন।
শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন লেখা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
যেকোন প্রশ্ন করতে ও জানাতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন। (ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে খুব ভাল পরামর্শ সবার জানা প্রয়োজন।)
ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে খুব ভাল পরামর্শ সবার জানা প্রয়োজন।ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে খুব ভাল পরামর্শ সবার জানা প্রয়োজন।
ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে খুব ভাল পরামর্শ সবার জানা প্রয়োজন।
ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে খুব ভাল পরামর্শ সবার জানা প্রয়োজন।
ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে খুব ভাল পরামর্শ সবার জানা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.