দুষ্টু লোকের মরার পরও আনন্দ লাভের ফন্দি

একটি শিক্ষনীয় গল্প।

আনন্দহীন জীবন মরা বৃক্ষের মতো। জীবনে আনন্দ না হলে কোন কাজেই আনন্দ পাওয়া যায় না।  আনন্দ তাকেই বলা যাবে যে কাজটা করলে, দেখলে  সকলের খুব ভালা লাগে। মনটা প্রসন্ন হয়। মনে তৃপ্তি জাগে। যে কাজে মন পরিপাত, সায় দেয়।মানুষের প্রকৃতি অনুসারে আনন্দের আবার রকমফের আছে। এতে এক এক জন তা একেকভাবে আনন্দ পায়। কেউ কেউ আনন্দ পায় অপরের ক্ষতি দেখতে পেরে। যেমন রোম যখন পুড়ছিল তখন নিরো বাশি বাজাচ্ছিলেন। বিপদগ্রস্ত লোকের আর্তচিকার শুনে তার খুব আনন্দ হচ্ছিল। যারা সমাজবিরোধী, ভালো কাজে যাদের আগ্রহ নেই, তারা মানুষের ক্ষতি করে, মানুষকে খুন করে আনন্দ পায়।

খারাপ লোকেরা নিজের মৃত্যুর পরেও মানুষের ক্ষতির ব্যবস্থা করে যাওয়ার কথা ভাবে। এতে সে আনন্দ পায়। আমাদের গ্রামের এক দুষ্ট লোকের কথা বলছি। তার কাজ ছিল গ্রামের সবাইকে উত্যক্ত করা এবং কৌশলে বিপদে ফেলে আনন্দ পাওয়া। হঠাৎ তার মাথায় এক নতুন দৃষ্টবুদ্ধি এলো। একদিন সে গ্রামের সবাইকে ডেকে অনুশোচনার ভঙ্গিতে বলল, তোমাদের অনেক যন্ত্রণা দিয়েছি, এ জন্যে আমি খুবই দুঃখিত ও ব্যথিত। এখন বয়স হয়েছে, কবে মরি ঠিক নেই। তোমাদের কাছে আমার একটা বিশেষ অনুরোধ, আমি মারা যাওয়ার পর আমার লাশটা পথের ধারে একটা গাছে বুলিয়ে রেখো।’

 একদিন লোকটি মারা গেল। তারপর গ্রামের লোকেরা তার শেষ ইচ্ছে পূরণের জন্যে সত্যি সত্যি তার লাশটা রাস্তার পাশের বটগাছে ঝুলিয়ে রাখল। | ব্যস, আর যায় কোথায় ? খবর শুনে দলে দলে পুলিশ এলো।তাদের সন্দেহ হলো গ্রামমবাসী লোকটিকে মেরে তার দেহ বটগাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। পুলিশের ভয়ে অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। অনেককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বহুদিন ধরে বহু ঝামেলার সঙ্গে লড়াই করে গ্রামের লোকেরা মুক্তি পেয়েছে। গ্রামের লোকেরা বুঝতে পারল বদলোকেরা মৃত্যুর আগেও একটা ফাঁদ পেতে যায়। এই ফাঁদে পড়ে গ্রামবাসী কষ্ট পাবে—একথা ভেবেই হয়তো সে মৃত্যুকালীন আনন্দ উপভোগ করে গেছে। নির্মল আনন্দ পেতে হলে মনকে সুন্দর রাখতে হয়। তা না হলে জীবনে প্রকৃত সুখ লাভ করা যায় না।


2 thoughts on “দুষ্টু লোকের মরার পরও আনন্দ লাভের ফন্দি

Comments are closed.

%d bloggers like this: