দেহের শক্তির যুক্তি নয়, যুক্তির শক্তি চাই

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত শিক্ষাবিদ Norman Cousins বলেছিলেন, “The first purpose of education is to enable a person to speak clearly and confidently.’ স্পষ্টতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে পারার সামর্থ্য অর্জনকে যদি শিক্ষার উদ্দেশ্য বলে অভিহিত করা হয় তবে এদেশে কতজন শিক্ষিত মানুষ রয়েছেন বলা শক্ত।

অ্যাকাডেমিক ডিগ্রিধারী শিক্ষিত মানুষের অভাব নেই। কিন্তু স্পষ্ট করে নিজেকে তুলে ধরা বা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করা—এ বৈশিষ্ট্য খুব বেশি মানুষের নেই। অথচ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো স্তরেই শিক্ষার এ প্রাথমিক উদ্দেশ্য অর্জনের কোনো উপায় রাখা হয়নি। তাই বলে এই যোগ্যতা অর্জন অসম্ভব এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। 

শিক্ষার উপরোক্ত উদ্দেশ্য অর্জনে বিতর্ক সহায়ক। মানুষ মাত্রই তর্ক করে। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষ তর্ক করে এসেছে। নিজের কত কর্মের পক্ষে কারণ তুলে ধরা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি কখনো তর্ক করেননি। বাঙালিদের মধ্যে তো আরও পাওয়া যাবে না।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে, সামাজিক ও রাজনৈতিক আকারে তর্কই সবচেয়ে দৃশ্যমান বস্তু। বাঙালি তর্কপ্রিয় জাতি বলেই সম্ভবত টেলিভিশনে টকশো এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। এই তর্কের কথা আমরা বলছি না, বলছি বিতর্কের কথা।তর্ক নয়, বিতর্কই আমাদের লক্ষ্য। তর্কের সঙ্গে আবেগ, একগুঁয়েমি ও অন্ধবিশ্বাস জড়িত। কখনো কখনো পেশীশক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে তর্কের পরিণতিতে। তর্ক আর কুতর্কে জড়িয়ে পড়ার অসংখ্য নজির রয়েছে আমাদের সমাজে। সেই অর্থহীন তর্কের সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে।

বিতর্ক শিল্প হিসেবে নবীন হলেও শিক্ষিত ও সচেতন সমাজের কাছে এ শিল্প যথেষ্ট সমাদৃত। বিতর্কে তর্ক থাকে, তবে সে তর্ক যুক্তিসিদ্ধ ও কার্যকারণ সংশ্লিষ্ট । বিতর্কে অন্ধ বিশ্বাস বা কুসংস্কারের কোনো ঠাই নেই। বিতর্কে উত্তেজনা থাকে। সে উত্তেজনা পরিশীলিত। আক্রমণ থাকে আক্রমণ শিল্পিত। বিতর্কে দ্বন্দ্ব থাকলেও তা পরমতসহিষ্ণু ও উদার হতে শেখায়। সমাজে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক ।

শক্তিমান মতপার্থক্য একটি সমাজের প্রাণশক্তির পরিচায়ক। বির্তকে মতপার্থক্য চিহ্নিত হয় যুক্তি দ্বারা। এটি অত্যন্ত আশার কথা যে বিভি, পি, প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিতর্কের চর্চা হচ্ছে। বিতর্ক প্রতিযোগিতা এখন এক সংঘবদ্ধ রূপ পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন নিয়ম জেনে ও মেনে এই এক অংশগ্রহণ করেন এবং সাফল্য অর্জন করেন সেটিই কাম্য। তবে প্রতিযোগিতার মঞ্চে জয়লাভই বিতার্কিকের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।

জীবনের মধ্যেও বিতার্কিককে জয়ী হওয়া চাই। সেই জয়ের পরশ প্রতিনিয়ত যুক্তির অনুশীলন। মননে ও ব্যক্তিত্নে যুক্তিবাদী ও বিতার্কিকের চূড়ান্ত অর্জন, জয়-পরাজয় নয়। বিতর্কের জন্য বিতর্ক নয়, এমন এক সমাজ নির্মাণের জন্য বিক বিতর্ক করবেন যেখানে জোর নয়, যুক্তি বিজয়ী হয়। যেখানে জোৱেৱ বুজি নয়, যুক্তির জোর প্রতিষ্ঠিত হয় ।

সত্যিই উপরোক্ত যুক্তিগুলো মানান সই তাই আপনাদের বিনোদনের জন্য শেয়ার করলাম। আশা করি ভালমন্দ মতামত প্রকাশের মাধ্যমে অভিমত ব্যক্ত করবেন।

একজন কৃষকের দার্শনিক হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আপনারা ইচ্ছা করলে যে কোন বই গুগল থেকে খোঁজে নিতে পারন আপনার সুবিধা মত।

শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন লেখা দেখতে চলে আসুন এখানে।

মান্না দে সাহেবের পরিচয় ও জনপ্রিয় গান সমূহ। নিষিদ্ধ বইয়ের গল্প পড়তে ফ্রি ডাউনলোড করুন।


Mostafa Dewan

I can work with SEO, (off-page SEO) Link building, Facebook marketer, content writing, content rewrite, word press install, blog comment, backlink creation, article submission, blog post, etc. Any product or business I can reach millions of people through my work skills I understand the mentality of the customer. I am a very attractive and effective web content writer to promote any business. I work with full responsibility of a large organization able to work with self-direction and motivation. I find peace in the middle of my work. Thank you by Mostafa Dewan bdpnpc 01736265696 .

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error

দয়া করে শেয়ার করবেন।

RSS
Follow by Email