নবজাতক শিশুর বাবার মার ১১ টি করনীয় ।

সম্ম্যানিত ভাই ও বন্ধুগ্ণ আজকের আলোচ্য বিষয় হলো একটি নবজাতক  শিশুর বাবার মার ১১ টি করনীয় । একটি নবজাতক যখন পৃথিবীতে আসে তখন তার জন্য অভিভাবক হিসাবে বেশ কিছু করণীয় আছে। এই করণীয়গুলোর বেশিরভাগ আমাদের সমাজের মানুষেরা জানেন ই না। আজকে আমি ১১ টি করনীয়  সম্পর্কে কোরআন হাদীসের আলোকে আলোচনা করব ইনশাল্লাহ।

আমার ধারণা এই ১১ টি  করণীয়  এর মধ্যে ১০ টি করণীয় সম্পর্কে আমাদের সমাজের মানুষেরা জানেই না। তাই বলছি আজকের আলোচ্য বিষয়টি খুব গুরত্বপুর্ণ।  আমরা একটি শিশুর জন্মের পর অনেক কিছু করে থাকি যেগুলো কোরআন হাদীসের আলোকে সঠিক নয়।এমন কি এগুলো কোরআন হাদীসের আলোকে নিষিদ্ধ আছে।  প্রিয় পাঠক হয়তো আপনারা ধারণা করতে পারেন আমি তো বিয়েই করিনি। আমার তো কোন সন্তান নাই।আমার জন্য এই পোষ্ট দরকার নাই।  এই ধারণা কিন্তু ভুল। কারণ আমরা সকলেই অভিভাবক।কেউ বাবা, কেউ মা, কেউ দাদা, কেউ কাকা, নানা, নানী, বড় ভাই, ভাতিজা ইত্যাদি। কোন না কোনভাবে আমরা সকলে অভিভাবক।  সুতারাং আপনারা এই গুরত্বপুর্ণ পোষ্ট টি কোনভাবে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আপনে ভবিষ্যতে তো বাবা হতে পারেন। বা হবেন ইনশাল্লাহ।

একজন অনাগত শিশু পৃথিবীতে আসবে, এই অনাগত শিশুর জন্য কোরআন হাদীসের আলোকে আমাদের করণীয় কি কি তা জানবো ইনশাল্লাহ। প্রিয় পাঠক আমরা যে ১১ টি আমল আপনাদের সামনে তুলে ধরবো তা বিভিন্ন হাদীস ঘেটে বা ইন্টারনেটের সাহায্য বের করেছি।  আমলগুলো নিম্নরূপঃ

১। শয়তানের হাত থেকে বাঁচার জন্য জন্মের আগে এবং পরে দুটি কাজ বা আমল । সন্তান দুনিয়াতে আসার আগে যে আমল সহী বোখারীর আলোকে,, بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا  । উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা। অর্থাৎঃ- আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে তুমি যা দান করবে (মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে) তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখ।

২।  সন্তান জন্মগ্রহণের পরে আমাদের আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে নিতে হবে। যদি আমল ভুলে যান তাহলে দ্বিতীয় আমল করার আল্লাহ সুযোগ রেখেছেন। অথবা দুটিই পালন করলেন। মরিয়ম এর মা যে দুআ টি করেছেন সুরা আল ইমরান এ । আমি বাংলায় লিখে দিলাম, “ আল্লাহ  আপনে এই শিশুকে  শয়তানের আক্রমণ থেকে হেফাজত করুন, এবং তার বংশধর থেকে যারা আসবে তাদের সবাইকে আপনে হেফাজত করুন। “

৩। সন্তান জন্মগ্রহণের সু-সংবাদ  কানে আসার পরে আলহামদুলিল্লাহ্‌ পাঠ করবো। আল্লাহ র শোকরিয়া আদায় করবো।

৪। নবজাতক শিশু দুনিয়াতে আসার পর তার কানে আযান দেওয়া।

৫। পিতা সন্তানের জন্য কল্যাণের দুআ করা। বরকতের দুআ করা।

৬। তাহনিক করা। তাহনিক হলো শিশুর জন্মের পরে খেজুর চিবায়া তার মুখে দেওয়া জাতে বাচ্চা রসটা চুষে নিতে পারে। মায়ের শাল দুধ তো থাকবেই।

৭। সন্তানের জন্য একটি সুন্দর নাম বাচাই করা। ( সন্তানের জন্মের ৭ দিন  পরের আমল যেগুলো )

৮। আকীকা করা। আকিকা একটি গুরত্বপুর্ণ আমল। তবে আকিকা সর্ব্বোচ সুন্নাত। ফরজ নয়। আকিকা শব্দের অর্থ কাটা । সাত নম্বার দিনে আকিকা করা ভালো।

৯। বাচ্চার মাথার চুল কাটা এবং বাচ্চার চুলের ওজনের সমান রুপা বা রুপার মুল্যের টাকা আল্লাহ র রাস্তায় দান করা।

১০। সন্তান জন্মের পরে জাফরানের কালী বা রং দিয়ে মাথায় লাগিয়ে দেওয়া। (হালাকা মাথা কালার করা।)

১১। খতনা করা বা মুসলমানী করা।  খতনা সাত তম দিনে করা  ভাল। ছেলে মেয়ে উভয়ের খতনা করা জায়েজ আছে। তবে আমাদের দেশের দেহের গঠন অনুযায়ী মেয়েদের করা জরুরি না। খতনা করলে অনেক ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায় ।

প্রিয় পাঠক আমরা মোট ১১ টি নিয়ম দেখলাম একজন শিশুর জন্য যা তার  পিতামাতা বা অভিভাবকের পালন করা একান্ত জ্রুরি। এখানেই শেষ করছি আজকের শিরোনাম নবজাতক  শিশুর বাবার মার ১ টি করনীয় ।

নিচের গুরত্ব পুর্ণ লিংকগুলো দেখে আসতে পারেন।

What is the need for a student’s teaching method?

মাথা ব্যথার বিভিন্ন কারণ ও সমাধান। (প্রথম পর্ব)

আব্বাস উদ্দীনের অনুরোধে নজরুলের লেখা ইসলামি গান।

Contact-form

আমার সর্ম্পকে

মুশফিক আর কদিন ব্যাটিং করতে না পারলে মরে যাবে

Privacy Policy, Who we are? Who we are?

সন্তান দের যে আমল গুলো শেখাতে হবে।

স্ট্রোক মানুষ করে কেন?স্ট্রোকের নানা কারণ

Spread the love