নেশা খুড়ের ফাঁদে পড়ার গল্প করছিলেন এক পরিচিত মানুষ।

নেশা খুড়ের ফাঁদে পড়ার গল্প করছিলেন এক পরিচিত মানুষ।
একদিন দুপুর আনুমানিক ১২ টার দিকে হবে। বিজয়, তুমি কোথায়? স্যার, আমি এখন বাজার থেকে কেবল বাড়ি আসলাম। ফোনে জিজ্ঞেস করছিলেন আমার এক কলেজের শ্রদ্ধেয় স্যার। আমি তখনো শার্ট পান্ট খুলিনি। স্যার বললেন, দেখ তো তোমাকে একজন খোঁজছে। কিছু দিবে মনে হয়। আমি একটু খুশিই হলাম। কারণ, তথ্যটা যে সে মানুষ থেকে পেলাম না, উনি একজন ইংরেজির প্রভাষক এলাকার মধ্যে ভদ্র, নম্র, জ্ঞানী এবং ধনী ব্যক্তি। উনি আমাকে যথেষ্ট ভালবাসেন। উনার সাথে আমার জীবনের প্রয়োজনে মিশার সুযোগ হয়েছে। উনি আমার অনেক উপকার ও করেছেন অনেক। সেই সুবাধে আমি উনাকে মান্য ও করি অনেক। যাহোক আমি জিজ্ঞাস করলাম কোথায় যাবো,  স্যার? স্যার মোবাইল খানা একজন লোকের হাতে দিয়ে বললেন, কথা বল এই লোকের সাথে। হালো আমি অমুক বলছিলাম রে বা। আমি তার সম্ম্যান রক্ষার্থে নাম টা বললাম না। তোমার জন্য একটা ব্যবস্থা আছে। তুমি আমার সাথে দেখা কর। আমি বললাম কোথায়? সিদ্ধস্বরি জবাব দিলেন। আমি তখনি জামা কাপড় না খুলে আবার চলে আসলাম বাজারের দিকে সিদ্ধস্বরি। এসে দেখলাম যে উচ্চ বংশীয় নাম করা মানুষ। রাজনীতির সাথে খুব ভালভাবে জড়িত। অনেক ক্ষমতা তার। উনি বললেন, আরে বা তোমার আব্বা তো একটা চাকরির কথা বলছিল। তো একটা প্রজেক্ট আসছে আমার হাতে। সেখানে লোক নিয়োগ দিবে। পরে প্রজেক্টি সরকারী হতে পারে। আমি বললাম, তাহলে তো ভালই। এখন আমাকে কি করতে হবে। উনি বললেন আজকেই নেতা গ্রামে আসবে তার কাছ থেকে প্রজেক্টি পাশ করে নিয়ে আসতে হবে। আমি কি করতে পারি। উনি দেখ এই কাজটির জন্য অনেকেই লাইন ধরে আছে। তোমরা আমার চোখের আগে বেকার ঘুরো আমার দেখতে খারাপ লাগে। আমার কথাটা কেমন জানি দাগ কাটলো। কেউ জানার আগে আজকেই নেতার কাছে যেতে হবে। তবে আমি একটু সমস্যায় পড়ছি টাকার। আমার কাছে কাল নাগাদ লাখ খানিক টাকা আসবে। কিন্তু তোমার জন্য আজি আমাকে যেতে হবে। আরো সুন্দর করে  ভুলিয়ে ভালিয়ে বুঝতেই দিল না যে সে মিথ্যা কথা বলছে। আর আমিও অনেক চাকরির জন্য ঘুরাঘুরি করেছি। কোন ফায়দা হয়নি। বুঝেন বেকারের কি অবস্থা। আমি বেশি বুঝাতে গেলে পোষ্ট অনেক বড় হবে। উনি বললেন তোমার ঘুষ দেওয়া লাগবে না। আমি সব ঠিক করেছি। তোমরা আমার খুব কাছের। তবে আজ কিছু টাকা দাও আমি বিল পাশ করে নিয়ে এসে টাকা ফেরত দিবো।  আমি বললাম টাকা ফেরত দিতে হবে না। খরচা যতো লাগে আমি দিবো তবে এখন পারব না। শোন তোমাকে ভালবাসি বিধায় ডেকেছি। তা না হলে কতজন পাশ ঘুরতেছে। আমি বললাম আমার কাছে এখন সামান্য টাকা আছে। কত টাকা আছে? জিজ্ঞাসা করলেন? তা হাজার খানিক হবে। বাচ্চার চিকিৎসার জন্য লাগবে। চাকরিটাও আমার দরকার। ভাবছি। তখন উনি বললেন ওটাতেই হবে। এই যাওয়া আর আসা। থাকা লাগলে নেতার বাসাতেই একটা রাত থাকতে পারব। তুমি তাড়াতাড়ি কর আজি নেতা ফোন দিয়েছে ৫  টার মধ্যে জেতে হবে। তখন ২টা বাজে। আমি চিন্তা করলাম সুযোগটি হাত ছাড়া করা যাবেনা।  যদি হয়? তখন উনাকে অনেক ইনিয়ে বিনিয়ে বললাম ৯ শত টাকা নেন আর ১০০ শত টাকা আমার বাচ্চার ওষুধ কিনার জন্য রাখলাম। আপনে আসেন তার পর চুক্তি হবে কত টাকা লাগবে, না লাগবে না।
এই বলে তাকে ৯০০ টাকা দিলাম আর বললাম দেখেন এটা আপনাকে আমি ঘুষ দিচ্ছিনা। আমার দুমাসের বাচ্চা আছে অসুস্থ। প্রতিদিন ইঞ্জেকশন ৫০০ টাকা করে লাগে।সেখান থেকে টাকা দিলাম। কাজ হলে আপনার চুক্তি অনুযায়ী যা লাগবে তাই দিবো। তুমি আগামি পরশু দিন দেখা করো। তার পর আর পরশুদিন পার হচ্ছেনা। বিল ও পাশ হচ্ছে না। এর ওর খবর নিয়ে জানতে পারলাম এই লোক নেশা করে। এইভাবে অনেক মানুষকে সে ঠকিয়েছে। প্রায় দু-বছর হয়ে গেল। দেখা হলে বলি কাকা আমার চাকরি করা লাগবে না। আমার টাকা টা ফেরত দান। দিবো দিবো করে দু বছর  ধরে। কিন্তু দেয় না। আমিও ছাড়ি না। আমি ভাবতে অবাক হই এই লোকই আবার নেতাদের মঞ্চহে ভাষণ দেয় আজকে আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখবেন।।।।।।।।।।।।।।।।