পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়
পড়শোনায় মনোযোগ  লাগে না। কিন্তু বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে, গেম খেলতে ফেসবুক চালাতে ঘন্টার পর চলে গেলেও মনোযোগ এর অভাব হয়না। কিন্তু পড়তে বসলে মনোযোগ  কোথায় হারিয়ে যায়।জানালা দিয়ে পালিয়ে জায়। কেন? সমস্য আমাদের একই জায়গায়। আর সেটা হলো পড়তে বসলে আমাদের মনের মধ্যে চলে আসে যত বাজে চিন্তা। মনোযোগ  যেন কোথায় গায়েব হয়ে যায়, কে জানে?

পড়াশোনায় মনোযোগী  থাকলে যে পড়া একবার পড়লে হয়ে যায়, অমনোযোগী  হলে সে পড়া ১০০ বার পড়েও আর হয় না।।এ সমস্যার প্রধান উপস্বর্গ হলো পড়তে যেন কিছুতেই মন বসে না। পড়তে হবে তারপরও। এ সমস্যার সমাধানের জন্য কিছু নিয়ম অনুসরণ করে দেখেন ভাল ফলাফল পাবেন।

তার আগে জানা যাক কেন পড়তে বসে না মন।  গবেষকদের মতে “পড়ায় মন না বসার প্রধান কারণ অস্থিরতা”।স্থির হয়ে নিজেকে বার বার প্রশ্ন করুন, ভাবুন,আপনে কেন পড়তে বসতে পারছেন না। কে চায় যে নিজের ক্ষতি হোক। এই সময় আপনার সহপাঠীরা পড়তে বসেছে। আপনে কেন পিছিয়ে পড়বেন। চলুন আমরা কত গুলো বিষয় অনুসরন দেখি।যে গুলো অনুসরণ করলে আমরা লেখা পড়ায় মনোযোগী হতে পারবো।

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়

১. পড়াশোনার সময় বেছে নেওয়া;

সেই সময় পড়তে বসবেন যখন আপনার পড়তে মনোযোগ  বেশি থাকবে। একটানা বেশিক্ষণ পড়লে মনোযোগ  ক্ষমতা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। ফলে শেষের দিকে পড়া মনে কম থাকবে। দুনিয়ার মানুষ যেমন বিচিত্র, তেমনি বিচিত্র মানুষের মতিষ্ক। বিকাল ৩-৬ টা এর মধ্যে যদি আপনাকে পড়তে ভাল লাগে তাহলে আপনে এই সময়টা পড়তে পারেন।

পড়তে পড়তে বিরক্তবোধ হলে দাঁড়িয়ে পড়তে পারেন। এক গবেষনায় প্রমাণ করেছেন যে বসে পড়ার চাইতে দাড়িয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা পরিক্ষায় ভাল ফলাফল করতে সক্ষম বেশি হয়েছে। একে অপরের সাথে পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করলেও পড়াশোনা ভাল মনে থাকে।পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়

২. ব্রেনের বিশ্রাম;
আজকাল অনেকে পড়তে পড়তে বা পড়ার ফাঁকে বিশ্রামের জন্য ফেসবুকে বা গেম খেলতে ঢুকে পড়ে। তাতে ব্রেনের কোন বিশ্রাম হয় না। তার চেয়ে ব্রেনের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সেরকম এক টুকরো চকলেট মুখে পুরে দিতে পারি।পছন্দের গান শুনতে পারি। বন্ধুদের সাথে কথা বলতে পারি। এতে করে মাথা কিছূটা খালি হবে এবং পড়শোনায় মনোযোগ  ফিরে পাবে।

৩. ব্যায়াম;

এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শারীরিক পরিশ্রম বা খেলাধুলা মানুষের মানুষিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। ব্যায়াম বা খেলাধুলার ফলে শরীরের হরমোন এর প্রকাশ ঘটে কিছু অন্যভাবে। আর স্বাভাবিভাবে তার সুপ্রভাব পড়ে মনোযোগে। এতে পড়াশোনা করা সহজ হবে।ভাল ফলাফল করা সহজ হবে ছাত্রছত্রীর।


৪. মতিষ্কের খাবার;

গবেষনায় দেখা গেছে কাজ করার সময় চুইংগাম খেলে কাজ সহজ হয়।।

তবে তা যেন অবশ্যই চিনি মুক্ত হয়। নানা রকমের বাদাম, আখরোড, দেশি ফল, শাকসবজি, সামদ্রিক মাছ,গ্রীন টি। এসব খাবার শরীর এবং মতিষ্কের জন্য খুবি উপকারী।

পড়াশোনার মাঝে পাকা টমেটো বা টমেটোর জুস খাওয়া যেতে পারে।প্রধান খাবারের ফাঁকে দুধ, ডিম, দেশি-ফল, মিনারেল এবং আয়রন জাতীয় খাবার খাওয়া অভ্যাস করা যেতে পারে। জার্মানির অনেক স্কুলে মনোযোগ  বাড়ানোর জন্য ছাত্রছাত্রীদের আপেল খেতে দেওয়া হয়। তাই বাচ্চাদের প্রতিদিন দু একটা করে আপেল খাবার দেওয়া যেতে পারে।

৫.বিরতি দিয়ে পড়বেন;

গবেষণায় দেখেছেন যে, সাধারণত একজন মানুষ একটানা ৪০ মিনিট এর বেশি সময় মনোযোগ  দিয়ে পড়তে পারে না। তাই পড়ার মাঝে মাঝে ৫-১০ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার পড়া শুরু করবেন।

কিন্তু বিরতির সময় টিভি বা কম্পিউটার চালু করবেন না বা বসবেন না। তাহলে ৫ মিনিটের জায়গায় দু ঘন্টা লেগে যাবে। পড়তে পড়তে মন যখন উদ্দেশ্যহীন ভাবে  উড়ে বেড়াবে তখন বসে না থেকে দাঁড়িয়ে পড়ুন। তবে ঘরের বাহিরে যাবেন না।।

৬. ঘুমিয়ে নিন;

অনেকক্ষণ ধরে পড়লে মতিষ্কের উপর চাপ পড়ে। ফলে মতিষ্ক আর কাজ করতে চাই না। তখন কিছুটা সময় ঘুমিয়ে নিলে মতিষ্ক সতেজতা ফিরে পাই। একজন মানুষকে দিনে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হয়।এভাবে সামান্য একটু ঘুম থেকে উঠে আবার পড়া শুরু করুন। দেখবেন এভাবে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে গেলে অবশ্যই আপনে লেখা পড়ায় মনোযোগী হতে পারবেন।

সম্মনিত পাঠক শিক্ষাসংক্রান্ত যেকোন প্রশ্ন করতে ক্লিক করুনে এখানে।

আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে।