পিতামাতা বাদ দিয়ে অন্য দেবতার পূজায় ধর্ম হয়না

পিতামাতা বাদ দিয়ে অন্য দেবতার পূজায় ধর্ম হয়না।শিক্ষাগুরু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছাত্রজীবনের গুরত্ব প্রকাশ গিয়ে বলেছেন,“বাল্যকালে মন দিয়া লেখাপড়া শিখিবে। লেখাপড়া শিখিলে সকলে তোমায় ভালবাসিবে। যে লেখাপড়ায় আলস্য করে, কেহ তাহাকে ভালবাসে না।তুমি কখনো আলস্য করিও না। নিত্য যাহা পড়িবে, নিত্য তাহা অভ্যাস করিবে।কল্য অভ্যাস করিব বলিয়া রাখিয়া দিবে না।যাহা রাখিয়া দিবে, আর তাহা অভ্যাস করিতে পারিবে না।

অবোধ বালকেরা সারাদিন খেলিয়া বেড়ায়, লেখা-পড়ায় মন দেয় না।এজন্য তাহারা চিরকাল দুঃখ পায়। যাহারা মন দিয়া লেখাপড়া শিখে, তাহারা চিরকাল সুখে থাকে।

শ্রম না করিলে লেখাপড়া হয় না।যে বালক শ্রম করে, সেই লেখাপড়া শিখিতে পারে।শ্রম কর, তুমিও লেখাপড়া শিখিতে পারিবে।যখন পড়িতে বসিবে, অন্যদিকে মন দিবে না।অন্যদিকে মন দিলে, শীঘ্র অভ্যাস করিতে পারিবে না। অধিক দিন মনে থাকিবে না।পড়া বলিবার সময় ভাল বলিতে পারিবে না।

সদা সত্য কথা বলিবে। যে সত্য কথা বলে, সকলে তাহাকে ভালবাসে। যে মিথ্যা কথা বলে, কেহ তাহাকে ভালবাসে না, সকলে তাহাকে ঘৃণা করে।তুমি কদাচ মিথ্যা কথা বলিও না।পিতামাতাই জীবন্ত দেবতা।যাহাদের দুঃখ কষ্টে লালিত-পালিত, যাহাদের স্নেহ-ভালবাসায় আমরা জীবিত, সেই পিতা-মাতাই পরম দেবতা।তাহাদের বাদ দিয়া অন্য দেবতার পূজায় ধর্ম হয় না। কদাচ পিতামাতার অবাধ্য হইও না।”

ছাত্র জীবন সর্ম্পকে বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “আনন্দের সহিত পড়িতে পড়িতে পড়িবার শক্তি অনাঙিক্ষতভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে; গ্রহণ শক্তি, ধারণাশক্তি, চিন্তাশক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বললাভ করে।

আমাদের ছাত্রগণ যেন শুধুমাত্র বিদ্যা নহে, তাহারা যেন শ্রদ্ধা, যেন নিষ্ঠা, যেন শক্তি লাভ কর; তাহারা যেন অভয় প্রাপ্ত হয়; দ্বিধাবর্জিত হইয়া তাহারা যেন নিজেকে নিজে লাভ করিতে পারে। আমাদের ছাত্রজীবনকে মানসিক ক্ষীণতা থেকে, ভীরুতা থেকে উদ্ধার করিতে হইবে।…………. বিদ্যালাভ করা কেবল বিদ্যালয়ের উপর নির্ভর করে না, সাধারণত ছাত্রদের উপর নির্ভর করে।অনেক ছাত্র বিদ্যালয়ে যায়, এমন কি উপাধিও পায়, অথচ বিদ্যা পায় না।আমি সব পারি, সব পারিব এই আত্মবিশ্বাসের বাণী আমাদের শরীর মন যেন তৎপরতার সঙ্গে লাভ করিতে পার্।”

এভাবে বহু মনীষী বহু কথা বলে গেছেন ছাত্রজীবন সমন্ধে। তাই অধ্যায়ন দিয়ে বাল্যকাল থেকেই জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার অনুশীলন করতে হয়।

ছাত্রজীবন থেকে একটি বিশেষ আদর্শ গ্রহণ করে তাকে সারাজীবন অনুস্বরণ করে চলতে হবে। বাল্যকাল হলো বা ছাত্রজীবন-ই হলো চরিত্র গঠনের শ্রেষ্ঠ সময়।

মানব জীবনকে সফল করে তোলার চাবিকঠি হলো অধ্যবসায়।পড়াশোনার জন্য যেমন সিলেবাস আছে তেমন জীবনকে শ্রেষ্ঠ করার উপায় হলো নিয়মশৃঙ্খলা্।সুশৃঙ্খল মানুষই সুন্দর চিন্তা করতে পারে।মনের উৎকৃষ্ট ব্যায়াম হলো মনের চিন্তার অনুশীলন।শিক্ষা হলো সকল অভ্যাস ও সাফল্যের উৎস্য।

প্রিয় পাঠক শিক্ষকের আদর্শকে নিজের আদর্শ হিসাবে যারা মেনে নিয়েছেন তারাই পরবর্তীকালে খ্যাতি অর্জন করেছেন।শেখ মুজিবর রহমান, পল্লীকবি জসীম উদদীন, স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, ডক্টর মহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ ব্যক্তিদের জীবনী থেকে আমরা সেই শিক্ষাই পাই।বিদ্যাবুদ্ধি জ্ঞান-প্রতিভা যতই থাক না কেন, পরিশ্রম না করলে সব্-ই অর্থহীন।

সেরকম আপনার যতই অর্থ সম্পদ থাকুক না কেন, যতই ধর্ম জ্ঞান থাকুক না কেন, যত বড় ঈমানদারী হোন কেন, যদি পিতা-মাতার সেবা না করেন তাহলে সবই অর্থহীন।so dear visitor আমরা ছাত্রজীবন থেকেই এসকল বিষয় সমন্ধে জ্ঞান অর্জন করবো এবং তা পালনে কার্যকর ভুমিকা রাখবো ইনশাল্লাহ।এরকম আরো পোষ্ট দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে ও উত্তর জানতে আমাদের সাথে কাজ করতে পারেন।link. (পিতামাতা ই পরম দেবতা)

আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে। পিতামাতা ই পরম দেবতা পোষ্ট থেকে বিদায় নিলাম।

(here, there, where, so much, how much, however, no more, only, neither, another etc.)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.