পড়াশোনা, চাকরি, সংসার পাশাপাশি ফিলান্সিং।

পড়াশোনা, চাকরি, সংসার পাশাপাশি ফিলান্সিংDear visitors সঠিক সিন্ধান্তের অভাবে অনেকে ঠকে শিখেছেন। এটা করবো সেটা করবো, শেষে কোনটাই হয় না। মাঝখানে জীবন থেকে অনেক গুরত্বপুর্ণ সময় নষ্ট হয়। (পড়াশোনা, চাকরি, সংসার পাশাপাশি ফিলান্সিং।)
আমি যা বলছিলাম পড়াশোনা, চাকরি এবং সংসার করতে করতে ফিলান্সিং সম্ভব কি না? চিরন্তন সত্য কথা দুটি এক সাথে করতে গেলে একটি একটু ক্ষতি হবেই। কারণ একাধিক কাজ এক সাথে করতে গেলে কোন কাজ-ই নির্ভুল হয় না। (পড়াশোনা, চাকরি, সংসার পাশাপাশি ফিলান্সিং।)
চাকরি করতে করতে ফিলান্সিং করা উচিত নয়। আর পড়াশোনার পাশাপাশি ফিলান্সিং করা এটা আরো বোকামি। এতে ফিলান্সিং তো হবেই না, বরং ফিলান্সিং এর প্রতি তার ভুল ধারণা জন্মাবে। তবে হ্যাঁ এর বিশেষ ক্ষেত্র আছে, যেগুলো কেউ অনুস্বরণ করতে পারে। যেমন এই লাইনে যারা পড়াশোনা করে।আমি কাউকে ফিলান্সিং করতে নিষেধ করছিনা। লেখা পড়ার ক্ষতি করে বাংলাদেশের মত বিশেষ করে পাড়াগ্রামে ফিলান্সিং করা তো দুরে থাক স্বপ্ন দেখাও পাপ। কারণ বিদ্যুৎ প্রবলেম, নেট প্রবলেম ইত্যাদি।আপনে হয় তো কেবল কম্পিউটারে বসেছেন এমন সময় বিদ্যুৎ চলে গেল। গোটা দিন আর বিদ্যুৎ না আসতেও পারে। অথচ আপনার প্রজেক্টটা আজকে জমা দেওয়ার দিন। আপনে প্রতিদিন সময় পান না ব্লগিং করার জন্য। হয়তো ছুটির বসবেন বলে, অনেক কাজ জমিয়ে রেখেছেন। কিন্তু ছুটির দিন আপনার বিদ্যুৎ নাই। তাহলে কেমন লাগবে? ভেবে দেখুন ফিলাইন্সং বিষয়টি কত জটিল। আমি বিস্তারিত বলতে পারছি না। একটু করে আঁচ দিয়ে যাচ্ছি মাত্র।
তবে হাইস্কুল তো বাদ-ই দিলাম! যদি একটা ইন্টারমেডিয়েড পরিক্ষার্থীকে/ পাস কোন ছাত্রকে এই লাইনে এনে দেন তবে তার বড় হওয়া তো দূরে থাক স্বপ্ন দেখাই তার জন্যে পাপ হয়ে দাঁড়বে। এখন প্রশ্ন হলো কেন আমি পড়াশোনার পাশাপাশি ফিলান্সিং করতে পারবো না? এই উত্তর দেওয়ার আগে আমি চাকরিজীবি প্রসংগে দুটি কথা বলি। আপনে একজন ব্যাংকার বা ব্যাংক কর্মকর্তা, আপনি যদি একটু স্বাধীনভাবে চলার জন্য ব্যাংক এর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ফিলান্সিং এ আসেন তবে ভুল করবেন। ভুল সিন্ধান্ত নিবেন না। কারণ আপনার দক্ষতা হিসাব নিকাশে। হিসাব নিকাশের দক্ষতা দিয়ে ফিলান্সিং এর জগৎ চলবে না। তেমনি এক জন ছাত্রের নিদিষ্ট সিলেবাস আছে। যা একজন ছাত্রকে নিদিষ্ট নিয়ম মেনে সময়ের শেষ করতে হয়। যেখানে একজন ছাত্র এতো প্রাইভেট টিউশনি কোচিং তারপর ও তার সিলেবাস শেষ করতে পারে না। সেখানে একজন ছাত্র কিভাবে ফিলান্সিং জগতের বিশাল ক্ষেত্র রপ্ত করে এসে লেখাপড়া শিখবে? মাঝখানে আম-ছালা দুটিই যাবে। আমি আশা করি আপনারা বুঝতে পারছেন কেন একজন ছাত্র লেখাপড়া করতে করতে ফিলান্সিং পারবে না। (পড়াশোনা)
তাই আমি একজন ক্ষুদে ব্লগার হিসাবে বাবা, মা, অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ রাখবো। আপনার সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন। নেশার মতো ফিলান্সিং জগতে এসে তারা যেন সময় নষ্ট না করে।
সংসার জীবনে অনেকেই বিশেষ করে মহিলারা ফিলান্সিং এগুতে পারে। বর্তমানে বেশ মন ভোলানো বিজ্ঞপ্তি দেখা যাচ্ছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে অমুক মহিলা ভাল করলো। অমুখ গৃহিণী লক্ষ টাকা ইনকাম করলো ইত্যাদি। বাস্তবে গিয়ে দেখেন এর আসল রুপ কি? আপনি যদি কখনো ধারণা করে থাকেন আমি তো অন্য কাজ করি ফিলান্সিং থেকে আমার বেশি আয়ের দরকার নাই। তাহলে আপনার ধারনা পুরোটাই ভুল। আপনে অল্প দক্ষ হয়ে সামান্য আয় ও করতে পারবেন না। বরং আয় এতো অল্প হবে যে ফিলান্সিং থেকে আপনার আগ্রহ হারিয়ে যাবে। আপনে ইচ্ছামতো ফিলান্সিং এ কাজ করতে পারবেন না। আপনে যদি কোন কাজে যুক্ত হয়ে থাকেন তাহলে কাজটি নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। আর এভাবে আবার একটা কাজ ধরতে হবে। যেটা একটি নিদিষ্ট নিয়ম মত করলে আপনার আয় বেড়ে যাবে। সর্বশেষ বিষয়টি হলো এ-রকম যে, যদি আপনে ফিলান্সিং জগতে আসেন তাহলে এই জগতে জন্য উপযুক্ত হয়ে নিবির ভাবে মনোনিবেশ করতে হবে। যেটা একজন ছাত্রের পক্ষে, চাকরি জীবির পক্ষে,গৃহীনির কখনো সম্ভব নয়। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সময়, ভাল বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা, নিরবিচ্ছন্ন নেট কানেকশান তারপর ভাবেন আমি যোগ্য কি না?
তাই আমি বিশেষ করে ছাত্র ভাইদের অনুরোধ করব টাকা আয়ের আশায় লেখা পড়া করতে করতে কেউ ফিলান্সিং জগতে প্রবেশ করবেন না। ফিলান্সিং শুরুর আগে আপনাকে অবশ্য ই কিছু পুর্ব প্রস্তুতি নিতে হবে। যেটার উপর একটা পোষ্ট ভবিষতে দিবো ইনশাল্লাহ। আমাদের সাইট মুলত শিক্ষামলক। এরকম আরো পোষ্ট দেখতে ক্লিক করুন এখানে।
যে কোন প্রশ্ন জানতে ও প্রশ্ন করতে ক্লিক করুন এখানে।
আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে। ধন্যবাদ সবাইকে পড়াশোনা,চাকরি, সংসার পাশাপাশি অনলাইনে ইনকাম/ফিলান্সিং আলোচনার পোষ্ট থেকে বিদায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.