বাড়ীতেই করতে হবে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ।

বাড়ীতেই করতে হবে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লোকডাউন বা বিদ্যালয়ের ছুটির কোন বিকল্প নাই। কিন্তু বিদ্যালয় ছুটি থাকার ফলে জাতির যে শিক্ষা ক্ষেত্রে কি ধরনের ক্ষতি হচ্ছে তা চোখে হাত বুলিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আর সেই ক্ষতির পরিমাণ সামান্য হলেও পুষিয়ে নেওয়ার নিমিত্তে  আমাদের বাড়িতেই বিদ্যালয়ের প্রাজ্ঞন তৈরি করতে হবে।


অর্থনেতিক ক্ষতি হলে এক সময় পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।  কিন্তু একটা জাতি শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়লে তা আর কোনভাবেই পুরণ করা সম্ভব নয়। একটা বছরে ছাত্র ছাত্রীরা শুধু বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার মাধ্যমে জীবনের অনেক গুরত্বপুর্ণ শিক্ষা অর্জন করে থাকে।

 যদিও বাংলাদেশের  শিক্ষা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা। তবুও বিদ্যালয় ছাত্র ছাত্রীদের একটা প্রাণের খোরাক। শুধু বিদ্যালয়ে আশা যাওয়ার মাধ্যমে একটা ছাত্র ছাত্রী যেমন সময় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে  তেমনি বাবা মাও সন্তানকে  সময় মত স্কুলে পাঠানোর কাজে দায়িত্ববান থাকেন।

 এতে  সন্তানের প্রতি অভিভাবকের বিশেষ একটা যত্নের টান থাকে। এছাড়া একটা শিক্ষার্থী স্কুলে গিয়ে তার ভাল লাগা শিক্ষককে আয়ত্ব করা পড়া শুনাবে এতে শিক্ষক তাকে আদর করবে, ভাল বাসবে, বাহবা দিবে। তার মনটা খুশিতে ভরে উঠবে।

এই আনন্দের কারণে সে পরের দিন আরো আগ্রহসহকারে  পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। এই ভাল ছাত্রের ভাল পড়া ও ভালবাসা দেখে অন্য ছাত্র ছাত্রীরা ভাল হওয়ার আগ্রহ মনের ভিতর যোগাবে।

 শিক্ষকদের সাথে উঠা বসা ভাষা শিক্ষা, ভুল হলে বকা খেয়ে কিংবা আদরের সাথে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া। স্কুলে গিয়ে ভাল লাগা বন্ধুর সাথে মনের কথাগুলো বলা। কখন স্কুল খুলবে কখন আমার ভাল লাগা বন্ধুটা আসবে কত্ত কথা  আমার মনের মধ্যে জমে আছে সব খুলে বলবো।

কিংবা কোন বিশেষ পাঠ হয়তো আয়ত্ব করতে পারেনি, বন্ধুটা আস-লে তার সাহায্য নিয়ে পড়া তৈরি করবে । এছাড়া দুষ্টু বন্ধদের সাথে বিভিন্ন রকম দুষ্টামি, বিভিন্ন রকম খেলা ধুলা, ক্লাস ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানো ইত্যাদি এবং এই ধরনের অপরাধ থেকে শাসনের মাধ্যমে শিক্ষা নেওয়া।

এতো গেল পাঠ্য পুস্তুকের বাহিরের কথা। এখান থেকে যত ধরনের জ্ঞান অর্জনের বিষয় আছে তা থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।


এবার আসা যাক পাঠ্য পুস্তুকের কথায়। আমি ছোট শ্রেণী থেকেই বিষয় টি তুলে ধরি। সাধারণত প্রথম শ্রেণীতে মুখে মুখে বা গল্পে গল্পে ছবি দেখে পড়া শিখে, তারপর অক্ষর জ্ঞান এবং শব্দ তৈরি শিখে। শব্দ তৈরি শিখলেই দ্বিতীয় শ্রেণীতে বাংলা এবং ইংরেজি পড়তে পারে। গণিত বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাই।

 এরপর তৃতীয় শ্রেণীতে ৬ টি বই। প্রতিটি বইয়ের সাথে পরের ক্লাসের সম্পর্ক  আছে। প্রথম শ্রেণীতে যেমন অক্ষর জ্ঞান না হলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ছাত্র ছাত্রী এক রকম বিপদে পড়ে যায়। এমন কি লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যায়। কেউ কেউ প্রতিবন্ধির মত আচারণ করে। কারণ পড়ার কথা মনে হলে তাদের সামনে একটা বিশাল বোঝা এসে দাঁড়ায়। ভয়েই তারা প্রতিবন্ধির মত আচারণ করে।

 সে রকম তৃতীয় শ্রেণীতে ৬টি বই। তিনটি বই – ই ঠিক মত আয়ত্ব করতে পারেনি। তাহলে ৬ টি বই কিভাবে পড়বে ছাত্র ছাত্রীরা। তৃতীয় শ্রেণীতে গণিত যদি ঠিক মত না শিখে তাহলে চতুর্থ শ্রেণীতে বড় বড় ভাগ, গুণ ও কথার অংক করতে পারবে কিভাবে ?

 এক কথায় এভাবে জীবনের বড় বড় ডিগ্রী অর্জন করতে গেলেও পুর্ববর্তী ক্লাসের সিলেবাস সম্পুর্ণ বা পড়ে শেষ করতে হয়। আমার জানা মতে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এরকম-ই।

সুতারাং আমরা এক শ্রেণী পড়া বাদ দিয়ে অন্য শ্রেণীতে জীবনেও ভাল করতে পারবো না। কিন্তু করোনার কারণে তো জীবন থেকে  _  না পড়েই এক বছর কেটে গেল। এখন তো আমাকে পরবর্তী শ্রেণীতে  না উঠে উপায় নাই।

 আর এই করোনা কবে নাগাত মানুষের পিছু ছাড়বে তা তো আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এবং আমাকে ভাল ছাত্র হতে হলে অবশ্যই সিলেবাস শেষ করতে হবে। কিন্তু বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে আমার সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারের তো দোষ দিতে পারছি না। কারণ তারা তো যতদূর সম্ভব জনগণের মংগলার্থে কাজ করে চলছে। হয়তো পরিকল্পনা গ্রহণে ভুল থাকতে পারে কিংবা দেরি হতে পারে। তার মধ্যে যে কিছু স্বার্থলোভী  পশু – সুলভ জানোয়ার থাকবে না তা তো বলা যায় না।

 আপনারা তো জানেন আলোর নিচে অন্ধকার। আসল কথায় আসা যাক। এতো কিছুর মধ্যে দিয়েও আমাকে ভাল ছাত্র হতে হবে। সিলেবাস শেষ করতে হবে। তা না হলে প্রত্যেকটি ছাত্র প্রতিবন্ধি হয়ে যাবে।

 একটা জাতি যদি শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধি হয় তাহলে পুরো দেশ প্রতিবন্ধিতিতে পরিণত হবে। ইতি মধ্যে অনেকের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। অনেকে অবসর থেকে বিভিন্ন কর্মে যোগদান করেছে লেখা পড়া বাদ দিয়ে।

 তাহলে উপায় কি জাতিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে? উপায় অনেক থাকতে পারে। আমার মতে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে বিদ্যালয়ে পরিণত করতে হবে। তাই বলছিলাম এই মহা দুর্জোগে  বাড়িতেই করতে হবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বা বাড়ীতেই করতে হবে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ। বাড়ীতেই করতে হবে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ। বাড়ীতেই করতে হবে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ।

নিচের গুরত্ব পুর্ণ লিংকগুলো দেখে আসতে পারেন।

জ্ঞানশক্তি অর্জনই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

পড়াশোনা, চাকরি, সংসার পাশাপাশি ফিলান্সিং।

Contact-form

বাড়ীতেই করতে হবে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ ।

আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

Spread the love