বান্দাই খাড়া ডেপুটি স্পিকার বয়তুল্লাহ সেতুর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান।

বান্দাই খাড়া ডেপুটি স্পিকার বয়তুল্লাহ সেতুর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান।

অন্যবদ্য সৃষ্টির স্বীকৃতি অন্যবদ্য-ই হওয়া উচিত।সৃষ্ট উপকরণ থেকে উপকৃত হলে তার স্বীকৃতি যেমন অন্তরে অনভুত হয় তেমনি তা সৃষ্টকারককে জানালে সেও আত্মতৃপ্ত হন।আর
বান্দাই খাড়া ডেপুটি স্পিকার বয়তুল্লাহ সেতুর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান।
অন্যবদ্য সৃষ্টির স্বীকৃতি অন্যবদ্য-ই হওয়া উচিত।সৃষ্ট উপকরণ থেকে উপকৃত হলে তার স্বীকৃতি যেমন অন্তরে অনভুত হয় তেমনি তা সৃষ্টকারককে জানালে সেও আত্মতৃপ্ত হন।আর সে স্বীকৃতি যদি হয় গোটা জাতির ক্ষেত্রে তাহলে তো সেটা ঋণের ব্যাপার।সে রকমই একটি স্বীকৃতির বিষয় নিয়ে লিখতে বসেছি।প্রিয় পাঠক আমার লেখা শিক্ষা ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত বিষয় যা আমার স্বীকৃতির সাথে জড়িত। স্বীকৃতির বিষয়টি হলো আমাদের যমুনা ব্রীজ বান্দাই খাড়া ডেপুটি স্পীকার বয়তুল্লাহ সেতু।বান্দাই খাড়া ব্রীজের অবদান প্রসঙ্গে লিখে আমার পক্ষে মানসম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরা সম্ভব নয়।তবে আমার সাইট টি যেহেতু শিক্ষাবিষয়ক, তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে এর সামান্য অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করব আজ।তার আগে একটা গল্প বলি শুনেন।আমাদের বান্দাই খাড়া ব্রীজ হওয়ার বেশ আগে নদীর এই পার থেকে ঐপার যন্ত্র দিয়ে মেপে দেখছে।আমি বুঝতে না পেরে এক বয়স্ক লোককে জিজ্ঞাসা করলাম ঐখানে কি করছে? ঐ বয়স্ক লোক উত্তর দিল, “আমিও তোমার মত ছোট থেকে শুধু মাপতে দেখেছি, কিন্তু বাস্তবে দেখা হল না।” আমি বুঝতে পারলাম সেখানে ব্রীজ হবে তাই মাপ জোখ করছে।আমি মনে মনে ভাবলাম হয়তো আমিও বুড়ো হবো কিন্তু ব্রীজের মাপজোখ শেষ হবে না।আফশোসটা সবার মত আমা্রও থেকে গেল।তাহলে বুঝন আত্রাই নদীর উপর বান্দাই খাড়া বয়তুল্লাহ সেতু (ব্রীজটি) সবার প্রাণের দাবি ছিল।এই দাবি পুরণে হয়তো সবার প্রাণপণ চেষ্টা ছিল।কিন্তু বাস্তবে যারা রুপদান করলেন তাদের স্বীকতি সরুপ কৃতজ্ঞতা জানাই আমিও আমার শুভাকাঙ্খীর পক্ষ থেকে।সেই মহান ব্যাক্তিদর গুনকীর্তনও করবো ইনশাল্লাহ নিচের দিকে।আসল কথায় আসা যাক।আমাদের চারটি থানার একটি পাশাপাশি রাজধানী বাজার বান্দাই খাড়া।এই বাজারের সাথে অত্যান্ত নিবিড়ভাবে জড়িত আত্রাই থানাবাসীর কিছু অংশ, মান্দা থানাবাসীর কিছু অংশ, রাণীনগর থানাবাসীর কিছু অংশ এবং বাগমারা থানাবাসীর কিছু অংশ।সর্বোপরি গোটা নওগাঁ, রাজশাহী জেলার এমন কি বাংলাদেশের সকল মানুষ পরোক্ষভাবে এ বাজারে সাথে জড়িত।এরকম একটি বাজারের পাশে নওগাঁ জেলা থেকে বিছন্নকারী একটি নদী অবস্থিত।এই নদীটির নাম “আত্রাই নদী।” আপনারা জানেন আত্রাই নদী একটি আর্ন্তজাতিক নদী।এই নদীর উপর বান্দাই খাড়া বাজার এর পাশে একটি ব্রীজ কতখানি অবদান রেখেছে তা অতীতের দুঃখের কথা তুলে ধরলে বুঝতে আরো সহজ হবে।(বান্দাই খাড়া ডেপুটি স্পিকার বয়তুল্লাহ সেতুর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান।)
যেহেতু আমি শিক্ষা বিষয়ক অবদানের কথা্ তুলে ধরার চেষ্টা করছিলাম, তাই আগে শিক্ষা সংক্রান্ত অবদান প্রসংঙ্গে লিখলাম।আমাদের বান্দাই খাড়াতে সকল ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যমান। যেমন এখানে আছে কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়,মাদ্রাসা, প্রাইমারী বিদ্যালয়, বেসরকারী বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয়।এছাড়া এটা অত্র এলাকার মধ্যে একটি বড় বাজার। এখানে প্রতি সপ্তাহে দু দিন বিশাল হাট বসে।যার বিস্তৃতি গোটা বাংলাদেশ জুড়ে। এই বাজারে সঙ্গে নদীর উত্তর পাশের এলাকার সকল জেলাবাসী অতপ্রোতভাবে জড়িত।নদীর উত্তর পাশের মানুষের একটি কলমের প্রয়োজন হলেও এই বাজারে আসতে হয়।তাছাড় সকল বিদ্যালয় এখানে হওয়ায় নদীর উত্তর পাশ থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রী এখানে পড়তে আসে।বিশেষ করে মিরাট, হামিদ পুর, ধনপাড়া, মেরিয়া, ডাঙ্গ্ পাড়া, মিঠাপুর, জালালাবাদ ইত্যাদি এলাকার কলেজ, স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী এই নদী পার হয়ে পড়তে আসে।নদী পার হতে একটু দেরি হলে অনেক ছাত্রছাত্রীর ক্লাস ধরতে পারে না।তাছাড়া নদীর ঘাট থেকে উত্তর দিকে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে কোন ঘরবাড়ী, গাছপালা কিছু নেই।এই টুকের মধ্যে একা একটি ছাত্র বা ছাত্রী নদীর ঘাটে আসা ভয়ের ব্যাপার।আরো বিপদের ব্যাপার যদি এই রাস্তায় একবার আসে আর যদি ঝড় বৃষ্টি শুরু হয় তাহলে কোন দিকে যাওয়া সম্ভব নয়।এই নদীর ঘাটে এক সময় একটি মানুষ বজ্রপাতে আহত হয়েছিল। আমার মনে কেউ মারাও গিয়েছিল।কারণ নদীর ঘাটে নদীর ঐপারে থাকা নৌকার আসার অপেক্ষায় থাকতে হয়।বন্যার সময় নদীটি প্রায় আড়াই কিলোমিটার হয়ে যায়।প্রতি পারে নৌকাভর্তি মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হত।ছোট কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের যথাসময়ে স্কুল ধরার জন্য সকাল সকাল বাড়ী থেকে বের হতে হত।কারণ যদি এক পার মিস করে তাহলে ঐ দিনের অর্ধেক ক্লাস শেষ।এছাড়া একটু রাত গভীর হলে নদীর পারে আর মাঝি থাকে না।তাহলে বিপদে অসুখে জরুরি প্রয়োজনে আমাদের কতই না দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা আমার বর্ণনায় তুলে ধরতে পারবো না। (বান্দাই খাড়া ডেপুটি স্পিকার বয়তুল্লাহ সেতুর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান।

এই সেতুটি হওয়ার পর মানুষ এখন চব্বিশঘন্টা আসা যাওয়া করতে পারে।আমার ছোট ভাইয়েরা ঢাকা থেকে নওগাঁ।নওগাঁ থেকে বাড়ী রাত ১ টা ৩টা যেকোন সময় আসতে পারে। অথচ সেই সময় ৯ টা বাজলে বাড়ী আসার কথা কল্পনাও করতে পারেনি।এরকম কত বিরম্বনার গল্প আছে বলে শেষ করা যাবে না।আমি যেদিন এই ব্রিজের ছবি তুলছিলাম সেদিন প্রায় ১০০টি ভ্যানগাড়ি এই ব্রীজের উপর দাড়িয়ে ছিল।সেখান থেকে তারা প্রতি দিন শত শত টাকা আয় করে। এটা কেবল দ্রুত যোগাযোগ এর মাধ্যম এই ব্রীজের দ্বারাই সম্ভব হয়েছে।এছাড়া ব্যবসা ব্যাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা স্থানীয় উন্নয়ন সব কিছু এই ব্রীজের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।এহেন অতি প্রয়োজনীয় সেতু যিনি আমাদের মাঝে উপহার দিলেন তিনি হলেন আত্রাই, রাণীনগরের প্রিয় মানুষ উত্তরবঙ্গের খ্যাতিমান ব্যক্তি জনাব; মোঃ ইসরাফিল আলম (এম,পি) সভাপতি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।একমাত্র এই যোগ্য ব্যাক্তির দ্বারাই এই কাজটি আল্লাহ সম্পর্ণ করেছেন।ব্রীজের দুই দিকের রাস্তার বেহাল দশা থেকে উত্তরণের কাজ চলছিল দেখে অনেক ভাল লাগছিল।আশা করি প্রতিবারের চেয়ে এবার কাজ খুব মুজবুত হবে।পাশাপাশি রাস্তার দুইপাশে চারারোপন করলে আরো ভাল লাগবে।তাছাড়া মাঝে মাঝে বসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করলে এক সময় এই জায়গাটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।
যাহোক সেই মহান ব্যক্তির ভবিষৎ বার বার উজ্জল হোক এই আশা ব্যক্ত করে বান্দাই খাড়া বয়তুল্লাহ সেতুর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান লেখা এখানে শেষ করছি।ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।আমি একজন ক্ষুদ্রে ব্লগার মাত্র।আমি কোন রাজনীতি করি না।তবে আমার লেখনির মাধ্যমে যা কিছু ভাল এবং শিক্ষা সংক্রান্ত তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন লেখা দেখতে এখানে ক্লিক করুন। যেকোন প্রশ্ন করতে ও জানাতে এখানে ক্লিক করুন।আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

2 thoughts on “বান্দাই খাড়া ডেপুটি স্পিকার বয়তুল্লাহ সেতুর শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান।

  1. তথ্যবহুল শিক্ষামূলক পোস্ট।

Comments are closed.