বিজয়ী হওয়ার মারাত্মক কতগুলো গল্প প্রত্যেকের জানা দরকার।

বিজয়ী হওয়ার মারাত্মক কতগুলো গল্প প্রত্যেকের জানা দরকার।
কেউ অপরাজেয় নয়। সব প্রতিযোগিতাতেই জয়-পরাজয় রয়েছে। বিতর্কও এর ব্যতিক্রম নয়। একজন উঁচু মানের বিতার্কিকও পরাজয়ের সম্মুখীন হতে পারেন। সেটিকে স্বাভাবিক বলেই মেনে নিতে হবে। নিরঙ্কুশ জয়ের নিশ্চয়তা কোনো প্রতিযোগিতাতেই নেই। তবে নিম্নের ৮টি বিষয় অনুস্বরণ করলে জয় নিশ্চিত করা যায় কিছুটা।একটা কথা না বললেই নয়।সফলতার গল্প কেবল সফল ব্যাক্তিদের মুখেই শোভা পায়।বিষয় গুলো আমাকে ভাল লেগেছে তাই আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। (বিজয়ী হওয়ার মারাত্মক কতগুলো গল্প প্রত্যেকের জানা দরকার। বিজয়ী হওয়ার মারাত্মক কতগুলো গল্প প্রত্যেকের জানা দরকার।)
১. পূর্ণপ্রস্তুতি
২. আত্মবিশ্বাস।
৩. প্রতিপক্ষকে অবজ্ঞা না করা
৪. প্রথমে সহমত, পরে ভিন্নমত
৫. দর্শক সমর্থন।
৬. বাস্তব উদাহরণ
৭, দৃশ্যমানতা
৮. যৌক্তিকতা
পূর্ণ প্রস্তুতি: একটি বিতর্ক দল যত অসাধারণই হোক না কেন পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অবশ্যই বিতর্ক করা উচিত। বিতর্কের বিষয়টি হাতে পাওয়ার পর এর পক্ষ-বিপক্ষ দুদিকের সম্ভাব্য যুক্তিগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। এতে প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য কৌশল সম্পর্কে ধারণা অর্জন সম্ভব হয়। বিষয় সংশ্লিষ্ট বই, জার্নাল বা অন্য কোনো উৎস থাকলে তা সংগ্রহ করে ফেলতে হবে। এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে যেকোনো বিষয়ে দ্রুত তথ্য লাভ সম্ভব। যদি সম্ভব হয় সেই বিষয়ের কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া যেতে পারে তার পরামর্শ নেয়ার জন্য। প্রত্যেক বক্তাই তার বক্তব্যের পরিধি নির্ধারণ করে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন। এতে পুনরাবৃত্তি বা স্ববিরোধী বক্তব্যের আশঙ্কা থাকে না। আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক শুরু হওয়ার মাত্র ৪৫ মিনিট আগে বিষয় দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে এত প্রস্তুতি নেয়ার সময় থাকে না। এসব প্রতিযোগিতায় বিতর্কের ক্ষেত্র আগেই জানিয়ে দেয়া হয়। যেমন—পরিবেশ, জনসংখ্যা, প্রযুক্তি সংস্কৃতি। ক্ষেত্র অনুযায়ী বই এবং অন্যান্য উপকরণ বিতার্কিকগণ সঙ্গে রাখবেন।।
আত্মবিশ্বাস: যেকোনো প্রতিযোগিতায় জয়লাভের জন্য আত্মবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্কেও এটি চাই। একটি বিতর্ক দল প্রতিপক্ষের তুলনায় দুর্বল হতে পারে। তার মানে এই নয় যে, দলটি অবশ্যই পরাজিত হবে। আমরাও জিততে পারি’–এই মনোবল থাকতে হবে। বিতর্ক প্রতিযোগিতা ওয়ানডে ক্রিকেটের মতো। তাৎক্ষণিক দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ, অতীতের রেকর্ড নয়। সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো বড় আসরে কোনো কোনো বিতার্কিক নার্ভাস হয়ে যান। এটি মোটেও কাম্য নয়। আত্মবিশ্বাস থাকলে এই সমস্যা সহজেই দূর করা যায়। তবে এই আত্মবিশ্বাস যেন সীমা অতিক্রম না করে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বিপদের কারণ হতে পারে। আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ একটি দল বিচারকমণ্ডলীর ইতিবাচক মনোযোগ আকর্ষণ করে।
প্রতিপক্ষকে অবজ্ঞা না করা: চীনের বিখ্যাত যুদ্ধ বিশ্লেষক Sun Tzu বলেছিলেন, নিজের দুর্বলতা ও প্রতিপক্ষের শক্তিকে জানো। নিজের শক্তি না জানলেও চলে, জানতে হয় দুর্বলতা। শক্তিশালী বিতর্ক দলগুলোর মাঝে প্রতিপক্ষকে অবজ্ঞা করার মনোভাব মাঝে মাঝে কাজ করে। এটি আত্মঘাতী প্রবণতা। তুলনামূলকভাবে দুর্বল দলও জয়ী হতে পারে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এমন ঘটনা বিরল নয়। প্রতিপক্ষকে তাচ্ছিল্য করার মনোভাব বিচারকমণ্ডলীকেও বিরক্ত করে। প্রায়ই দেখা যাচ্ছে কোনো বিতার্কিক যখন বক্তব্য রাখছেন। প্রতিপক্ষের বক্তাগণ তা মন দিয়ে না শুনে নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। এটি করা উচিত নয়। এতে প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কোনো যুক্তি তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিপক্ষকে সম্মান করলে নিজেদের কোনো ক্ষতি হয় না।
প্রথমে সহমত, পরে ভিন্নমত: বিতর্ক মানে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়। যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বিরোধিতা করতে হবে। এমন নয় যে প্রতিপক্ষের সব যুক্তিরই বিরোধিতা করতে হবে। প্রতিপক্ষ দল নব্য এখানে পর অন্যপক্ষ যদি বলে যে, প্রতিপক্ষের বক্তব্যের এই অংশটুকুর সঙ্গে তারা একমত; কিন্তু পরবর্তী অংশের এই দুর্বলতার কারণে তারা ভিন্নমত পোষণ করছে, তবে সেই দলটি সম্পর্কে বিচারক এবং দর্শক শ্রোতার ইতিবাচক ধারণা জন্মে। প্রতিপক্ষের সব বক্তব্যই উড়িয়ে দিতে হবে, তাদের সব যুক্তিই দুর্বল—এমন মনোভাব পোষণ করা চলবে না। যেমন জনসংখ্যা বিস্ফোরণই বাংলাদেশের মূল সমস্যা—এই বিষয়ে পক্ষ দল জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভয়াবহ দিকগুলো তুলে ধরল। বিপক্ষ দল যদি বলে, জনসংখ্যার আধিক্য কোনো সমস্যাই নয়, তবে তাদের বক্তব্য খুব দুর্বল হয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে বিপক্ষ দল বলতে পারে, অধিক জনসংখ্যাজনিত পক্ষ দলের উদ্বেগকে তারা সমর্থন করেন। অতিরিক্ত জনসংখ্যা অবশ্যই একটি সমস্যা, তবে মূল সমস্যা নয়। মূল সমস্যা দারিদ্র্য বা দুর্নীতি বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এভাবে যেকোনো একটিকে মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বিপক্ষ দল বিতর্ক করতে পারেন। অর্থাৎ বিরোধিতা হচ্ছে মূল সমস্যা কোনটি তা নিয়ে। এভাবে বিরোধিতার ক্ষেত্রটি অত্যন্ত যৌক্তিক ভাবে চিহ্নিত করতে হবে। (বিজয়ী হওয়ার মারাত্মক কতগুলো গল্প প্রত্যেকের জানা দরকার।)
বাস্তব উদাহরণ: বিতার্কিকের বক্তব্যে তত্ত্ব, তথ্য, উপাত্ত, বিশ্লেষণ নিশ্চয়ই থাকবে। কিন্তু একদম নিরেট বা যান্ত্রিক বিতর্ক যেন না হয় সেজন্য প্রতিদিনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে উদাহরণ দিতে হবে। ২০০৮ সালে দেশে যখন জরুরি অবস্থা জারি ছিল, তখন অনেক বিত্তবান ব্যবসায়ী ঋণখেলাপি এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই সময়ে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতায় বিতর্কের বিষয় ছিল, দারিদ্র্যই দুর্নীতির কারণ’ । বিপক্ষ দলের একজন বিতার্কিক সেই সময়ের উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, দুর্নীতির কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এখন জেল খাটছেন। তারা কি কেউ দরিদ্র? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর সেদিন পক্ষ দল দিতে পারেনি। এভাবে একটি চাক্ষুষ উদাহরণ দেখিয়ে বিপক্ষ দল তাদের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল।
দৃশ্যমানতা: বিতর্ক শুধু শব্দ শব্দ খেলা নয়। একটি সুন্দর স্ক্রিপ্ট চমৎকারভাবে পড়ে ফেললেই বিতর্ক হয় না। যে বিষয়ে বিতার্কিক বিতর্ক করছেন তার প্রতিটি অনুষঙ্গকে বিচারক ও দর্শকদের কাছে জীবন্ত করে তুলতে হবে। ধরা যাক একটি বিতর্কের বিষয়-বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলা একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ছাপিয়ে পক্ষ দলকে বিশ্বের সম্ভাবনা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর কথা বলতে হবে, যে স্থানগুলো সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবে। বলতে হবে সেই পরবর্তী প্রজন্মের কথা যারা নিঃশ্বাস নেয়ার জন বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাবে না। এভাবে আগামী দিনের ভয়ঙ্কর চিত্রটি মূর্ত করে তুলতে হবে। তবেই পক্ষ দলের বক্তব্যের ও যুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। (বিজয়ী হওয়ার মারাত্মক কতগুলো গল্প প্রত্যেকের জানা দরকার।)
যৌক্তিকতা: বিতর্কের প্রাণ যুক্তি। একজন বিতার্কিকের বক্তব্য যত গোছালো ও পরিশীলিতই হোক না কেন তা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি যুক্তি না থাকে। অপ্রয়োজনীয় শব্দ ও বাক্যের ব্যবহারে যেন সময় নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একজন বিতার্কিক যদি যুক্তিহীন বক্তব্য দিয়ে যেতে থাকেন তবে শুধু তার সম্পর্কে নয়, তার দল সম্পর্কেও বিচারকদের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়। এভাবেই একজন বিতার্কিক সর্বোচ্চ সাফল্য পেতে পারেন। অনেক সময় পাঁচ মিনিটে কী বলবেন, কতটুকু বলবেন এ বিষয়ে বিতার্কিক সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেন যখন তার কাছে এ বিষয়ের উপর প্রচুর Materials থাকে। তখন যৌক্তিকতার ভিত্তিতে সার অংশগুলো নিয়ে তার বলার পরিধি নির্ধারণ করতে হবে। এভাবে বিতার্কিকের বক্তব্যে পরিমিতিরোধও বজায় থাকে। | উল্লিখিত আটটি টিপস মাথায় রেখে বিতর্ক করলে নিচ্ছিদ্র বিতর্ক করা সম্ভব। তবে একটি-দুটি পরাজয়ে মুচড়ে পড়ার কোনো কারণ নেই। জয়পরাজয় প্রতিযোগিতার অঙ্গ। আবেগী না হয়ে এক্ষেত্রেও যৌক্তিক আচরণ করতে হবে। এটিই বিতর্কের শিক্ষা।
বিজয়ী হওয়ার মারাত্মক কতগুলো গল্প প্রত্যেকের জানা দরকার।
শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন লেখা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
যেকোন প্রশ্ন করতে ও জানাতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.