বিজ্ঞান বিবেক ও ধর্ম কোনটার ব্যবহারে টিকবে মনুষত্ব।

বিজ্ঞান বিবেক ও ধর্ম শিরোনামে জাকারিয়া চৌধুরীর সাহেবের একটা লেখা দেখলাম।লেখাটা বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রত্রিকায় খোলা কলাম নামক পাতায় লেখা। লেখাটি আমাকে ভাল লেগেছে।উনার লেখার যে বিশাল পরিধি তা থেকে সারসংক্ষেপ তুলতে গেলে ভুল হতে পারে।তাই আমি উনার লেখার এক অংশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সেটা তুলে ধরছি।

আবেদনটা আসলে বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে দরকার।আশা করি বিস্তারিত পড়বেন। আমিও জাকারিয়া সাহেবের লেখা প্রথমে বুঝতে পারিনি। কিন্তু যতই পড়লাম ততই বিষয়টি পরিষ্কার হতে লাগল।

বাস্তব অবস্থা কেমন: ছোট ছোট নরম তুলতুলে দুটি কুকুর ছানা বাজারে কোন জায়গায় ঘুমিয়ে ছিল।ক্লাস তৃতীয় শ্রেণী পড়ুয়া এক ছাত্র এসে একটি ইটের বড় কোণা ছুরে মারল বাচ্চার দিকে।কুকুরের বাচ্চা দুট অনেক জোড়ে চিৎকার করতে লাগল।আমি দৌড়ে এসে দেখি একটি বাচ্চার মাথায় ইটের কোনা লেগে সাদা চামড়া বের হয়ে গেছে। ঐ তৃতীয় শ্রেণী পড়ুয়ার ছাত্র এর সাথে আরো দু একজন ইট মারার জন্য প্রস্তুত। আমি তাদের বুঝালাম বাবা তোমরা কুকুরের বাচ্চা গুলোকে মেরো না। ওরা কষ্ট পাচ্ছে।

আবার অন্যদিকে একটা মারাত্মক খবর শুনেন্। এক চার/পাঁচ বছরের ছেলে পাড়ার পায়ে হাটা রাস্তা বেয়ে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ একটা কুকুর এসে ঐ ছেলের পেটে কামুর ধরে মাথা ঝিকে ঝিকে টেনে ছিড়ছে তার চামড়া।কি দুর্বিষহ অবস্থা।ছেলের পেটের ভুড়ি প্রায় বের হয়ে গেছে এমন।তারপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ তো গেল সামান্য ঘটনা, রিফাত মুন্নির মত আরো ঘটছে কতশত ঘটনা মিডিয়ার আড়ালে।

জনাব জাকারিয়া সাহেব তার গল্পে বুঝাতে চেয়েছেন কিভাবে মানুষ তার মনুষত্ব হারিয়ে ফেলছে তা দেখানোর চেষ্টা করছে কোরআনের আয়াতের আলোকে। পাশাপাশি একটা প্রস্তাব রেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি।প্রস্তাবটি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

জাকারিয়া সাহেব বলেন,“ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নিত্যনতুন সামগ্রী উদ্ভাবন করে জীবনকে সুশোভিত করতে পারে,ব্যবসার সুযোগ ও ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করতে পারে।কিন্তু পারে না বিবেক দান করতে,প্রেম,প্রীতিও ভালবাসা সঞ্চার করতে, ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট পরিচালনার সঠিক নিয়মনীতি নির্ধারন করতে।সে জন্য যে জ্ঞান ও ভাবাবেগের দরকার তা ক্রমে ক্রমে লোপ পাচ্ছে আমাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও চর্চা থেকে।

আল্লাহর উক্তি, তিনি মানুষকে জ্ঞান দান করেন প্রেরণার মাধ্যমে।এখনকার মানবসভ্যতা আল্লাহর ভালবাসা ও প্রেরণা থেকে বঞ্চিত।বঞ্চিত হব না কেন আমরা, আল্লাহকে গ্রাহ্য করি না আর।তবু বলব আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সমাজকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন নৈতিকতা ও মানবিকতার জ্ঞানে উদ্দীপ্ত ও আলোকিত করে প্রতিটি শিশুকে স্কুলজীবনের শুরু থেকে পাঠদান করা।আর সেই প্রয়োজনে প্রাথমিক থেকে শুরু করে প্রতিটি স্কুলে এজন্য আলাদা ক্লাস চালু করা।অন্যান্য পাঠক্রমের সাথে এ বিষয়ে ও পাস করা বাধ্যতামুলক করা। শুধু জেলে ‍পুলিশের ভয় দেখিয়ে অপরাধ রোধ করা যাবে না, যদি না অপরাধপ্রবণতা মন থেকে উপড়ে ফেলা যায়।শৈশব থেকে বেড়ে ওঠার কালে যে মূল্যবোধ জন্মায় মানুষের মনে তা-ই প্রতিফলিত হয় পরবর্তিকালে তার আচার-আচারণে।

অতএব আমাদের সময় যদি পরিবর্তন নাও আসে, অন্তত ভবিষৎ প্রজন্ম যাতে নৈতিকতা ও মানবিকতার রোধ নিয়ে জীবন যাপন করে সমাজে সুখ শান্তিতে বসবাস করতে পারে।কার ধর্ম কি তা বিচার্য নয়, কেননা সব ধর্মের আর্বিভাব ঘটেছে মানুষকে এ ব্যাপারে জ্ঞানদানের জন্য।ধর্মে যা আছে আমাদের সমাজে তা শুধু আনুষ্ঠানিকতা ও স্বার্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসাবে।আমার প্রস্তাবের ব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।জানিনা শেষ পর্যন্ত তার গোচরীভূত হবে কিনা!আমার বিশ্বাস তার নজরে এলে তিনি তা গুরত্বসহকারে বিবেচনা করবেন।কেননা তিনি একজন ডায়নামিক সরকার প্রধান।

প্রিয় পাঠক বিষয়টি আমাকে ভাল লাগে বিধায় আপনাদের মাধ্যমে প্রধানসহ সর্ব স্তরের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে তুলে ধরলাম।

এই রকম শিক্ষাসংক্রান্ত পোষ্ট দেখতে ক্লিক করুন এখানে।    

আমাদের সাইটে যে কোন প্রশ্ন ও উত্তর জানতে ও জানাতে ভিজিট করুন।প্রশ্ন করার লিংক।

বিজ্ঞান বিবেক ও ধর্ম কোনটার ব্যবহারে টিকবে মনুষত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.