মাস শেষে ছাত্রের বেতন আমার কাছে পারিশ্রমিক না, “উপহার”।

মাস শেষে ছাত্রের বেতন আমার কাছে পারিশ্রমিক না, “উপহারের মত”।

সম্ম্যানিত পাঠক আমি কোন সরকারী শিক্ষক নয়।আমি এক জন শিক্ষিত বেকার।জীবন জীবিকার জন্য অনেক কিছু করেছি।এখনো কিছু করছি বাঁচার  তাগিদে।যদিও রিজিকের মালিক আল্লাহ। তারপরও কিছু সময় নিজের অবস্থান সমন্ধে ভেবে অন্যের সমালোচনা দেখে নিজেকে কষ্ট লাগে। ঈমানের দুর্বলতা হেতু শেষ ভরসা রিজিকের মালিক আল্লাহ বলে শান্তনা নিয়ে বসে থাকি।আমি যে কথা বলছিলাম, “মাস শেষে ছাত্রের বেতন আমার কাছে পারিশ্রমিক না উপহার।”
শ্রদ্ধেয় পাঠক আমি একজন প্রাইভেট টিচার।টিউশনি/ কোচিং করে আমার সংসার চালায়। এই সংসারে যেমন আছে আয়ের ব্যাপার, তেমনি আছে ব্যায়ের ব্যাপার। যেমন আছে সুখের বিষয়, তেমনি আছে দঃখের বিষয়। আমার ছাত্রের বেতন আমার কাছে কেন পারিশ্রমিক নয়, “উপহারের মত”। তা নিম্নে খোলসা করছি।
১. আমি যতক্ষণ ছাত্রছাত্রীদের পড়ায় ততক্ষণ আমার সময় ভাল কাটে।দুঃচিন্তামুক্ত  হাসি আলাপের মাধ্যমে।
২. এভাবে পুরো মাস শেষে যখন ছাত্রছাত্রী বেতন দেয় তখন আমার আনন্দটা আরো বেড়ে যায়। কারণ এই বেতন থেকে আমি পরিশোধ করবো গোটা মাসের দুঃখ। যার মধ্যে থাকবে আমার খাবার, ওষুধ, পোশাক, টক ঝাল মিষ্টি বিভিন্ন বাকী। যা পরিশোধ করতে পারলে নিজের মনকে একটু খুশি মনে হয়।
৩. আত্মীয়তা রক্ষা, সামাজিকতা, উৎসব, অনুষ্ঠান, দাওয়াত, বেড়াতে যাওয়া তাছাড়া ধর্মীয় ব্যাপার তো আছে।( দান খয়রাত)!


শ্রদ্ধ্যেয় পাঠক, আমার কিন্তু অর্থ আয়ের দ্বিতীয় কোন উৎস্ নাই। আমি এই প্রাইভেট টিউশনি/কোচিং করে এতোসব কিছু পরিচালনা করি।
তাছাড়া কাজ শেষে কাজ শেষে যখন বাড়ী ফিরি তখন অপেক্ষায় থাকে ছোট্র বাচ্চা।অপেক্ষায় থাকে অসুস্থ বাবা,মা। অবশ্য বাবার জন্য তেমন কিছু করতে পারি না।কিন্তু বাবা মা তার নিজের সুখের চাইতে সন্তানের সুখ বেশি কামনা করে। আমি যদি এই ছোট্র বাচ্চাটাকে বাজার থেকে ফিরে কিছু দিতে না পারি তাহলে বাচ্চার বাজারের ব্যাগ টেনে নেওয়ার স্বার্থকতা কোথায়।

সে তো আমার বাজারের ব্যাগ বহন না করতেও পারে। তাহলে কোন রহস্য লুকিয়ে বলে, “বাবা ব্যাগটা আমাকে দাও”। যে এখনো বাবাকে মা বলে আবার মাকেও বাবা বলে। আর এই ছোট্র বাচ্চার অজানা রহস্যের সাধ পুরনে জোগান দেয় আল্লাহ আমাকে এই ছাত্র ছাত্রীর বেতনের মাধ্যমে। আবার বছরের বিভিন্ন উৎসব আনন্দে নতুন পোশাক নিজের জন্য কিনা।

অপরের জন্য কিনে খুশি করা সেটাও পরম পাওয়া। এই সকল পাওয়ার পিছনে আল্লাহ আমাকে মাধ্যম করে দিয়েছে তা হলো বেশির ভাগ আমার ছাত্র/ছাত্রীর বেতন। যা আমার একদিকে রিজিক অন্যদিকে আনন্দের খোরাক।

তাই বলছিলাম ছাত্র- ছাত্রীর বেতন আমার কাছে পারিশ্রমিক না,” উপহার।” ধন্যবাদ সবাইকে । মনের আবেগে বিষয়গুলো তুলে ধরলাম।আমার সাইটটি মুলত শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।সেরকম একটি পোষ্ট দেখতে ক্লিক করুন এখানে। আমার ফেসবুক পেজ ।

%d bloggers like this: