মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ব্যবহারে বাবা-মার সাবধানতা

মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ব্যবহারে বাবা-মার সাবধানতা
সম্ম্যানিত ভিজিটর একটা গল্প দিয়ে শুরু করি।আমার পরিচিত এক পরিবারের গল্প বলছি। যে পরিবারের বাবা মা সচেতন হলেও মুর্খ।মেয়ে কেবল পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ছে। গা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতেঙ্গের পরিবর্তন হচ্ছে তা সে হয়তো বুঝতে শিখেছে।যার জন্যে মনে একটু ভাল লাগা মন্দ লাগা হাসি ঠাট্টা রং তামাশা বিরাজ করছে।এরকম বয়স হলে যা হয়,বন্ধুদের সঙ্গ খোজা, নিজের মনের আনন্দ অন্যের নিকট ভাগ করা ইত্যাদি।বাবা মৃর্খ ।আধুনিক দুনিয়া একটু বেশি সুবিধা পাওয়ার জন্য নিজের কাছেসহ বাড়ীতে একটি মোবাইল রেখেছে।মা মোবাইল চালাতে পারে না।প্রয়োজনে মেয়েকে দিয়ে মোবাইলের যাবতীয় কাজ সেরে নেই মা্।মেয়ে দেখতে শুনতে গোলগাল একটু চমক লাগার মত।সেই জন্য কিছু উঠতি বয়সে ছেলেরা দেখলে মোবা্ইল নাম্বারটা সংগ্রহ করে নিয়ে নেয়।ছেলেরা খুব উৎসাহ সহকারে মোবাইল কল দেয়। মেয়েটিও আনন্দসহকারে কল রিসিভ করে।এভাবে জানা শুনা। তার পর এক সময় ভাবে পরিণত।অনেক কথা এখন আমি আসল কথায় আসি।স্বাভাবিকভাবে গ্রামে একটি অপরিচিত ছেলে ও মেয়ে এক জায়গায় প্রকাশে কথা বলা নিন্দার কাজ।কিন্তু মোবা্ইল থাকায় এ ঝামেলা থেকে অনেটাই মুক্তি পাওয়া যায়।একদিন রাত আনুমানকি ১.৩০ মিনিটে ঐ মেয়ের বাবা মা গোপনে মেয়েকে খোজছে। অথ্যাৎ মেয়ে রাতে ছেলের ফোনে বাহিরে আসতে বলছে, সে সেই মত বাবা মার অলক্ষে তার নিজ ঘর থেকে বাহিরে চলে আসছে।একদিকে বাবা-মা ও নিকট আত্মীয়রা খোজাখোজি শুরু করছে।প্রথমে নিকটে তারপর একটু দুরে। তার পর সন্দেহ জনক স্থানে কানাকানি ও মোবাইল। এভাবে আস্তে আস্তে বিষয়টি গভীর আকার ধারণ করে।বাবা মা ও নিকট আত্মীয়রা তো চিন্তায় দিশেহারা। (মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ব্যবহারে বাবা-মার সাবধানতা)
পাশের বাড়ীর এক ভাবীর বাহিরের দরজায় কে যেন ডাকছে ধীরে ধীরে ভাবী,ভাবী ও ভাবী।ভাবী বিষয়েটি বুঝতে পেরে দরজা খুলে মেয়েটাকে বাড়ীর ভিতরে নেই।মেয়েটি ঐসময় আধো কাদো আধো ভিজা অবস্থায় থরথর করে কাঁপছে।ভাবী যখন তাকে জিজ্ঞাসা করলো তুর এ অবস্থা কেন?মেয়েটি ভয়ে সত্য কথা বলে দেয় যে, তাকে অমুখ গ্রামের অমুখ ছেলে ফোন দিয়ে বাহিরে আসতে বলছিল। তাই সে বাহিরে গিয়েছিল ছেলেটির সঙ্গে দেখা করার জন্য।
আমার প্রশ্ন হলো এতোটুকু মেয়ের এতো কিছু কি বুঝা সম্ভব যে বাহিরে গেলে কি ঘটতে পারে।যেমন বাবা-মার চিন্তা ঘুম হারাম। লোকলজ্জার ব্যাপার। ছেলেটি তো অবশ্যই ধুরন্দর তা না হলে ওকে রাতে বের হবার মত সাহস পেল কোথা থেকে। ঐ ক্লাস ফাইভ বুঝতে পারেনি যে তার দুর্বলতার সুযোগে তাকে ব্যবহার করে সে পালিয়ে যাবে।অথবা তার সাথে একাধিক দুষ্কারি থাকতে পারে।যারা তাকে ইচ্ছেমত ব্যাবহার করে সর্বনাশ করতে পারে।ও বুঝতে পারেনি যে এটা তার ছলনা বা প্রলভোন এরকম সে আরো মেয়ের সঙ্গে করেছে বা করতে পারে। আসলে ঐ ক্লা্স ফাইভ মেয়ে কৌতুহলবশত আবেগ তারণায় এতো রকম ভুল করেছ।তারপর আপনারা তো জানেন এখনো মেয়ে সন্তান বাবার কাছে বোঝাস্বরুপ।বাবা-মা চাই যত তাড়াতাড়ি মেয়েকে বিদায় করলে বাঁচি।এদিকে মেয়েরা চাই যদি কারো সাথে ভালবাসার সর্ম্পক করে অল্প টাকায় বা টাকা ছাড়াই কারো ঘাড়ে জড়িয়ে পড়তে পারলে ভালই হয়।এদিক বিবেচনা করে মায়েরাও মেয়েদের সাহস দিয়ে থাকে। মোবাইল কথা বলার বুদ্ধি দিয়ে থাকেন।অনেক সময় মেয়েকে ফাঁদ হিসাবে ব্যবহার করে ছেলেদের ধরার জন্য।বেশি কথা বলে ফেললাম। কি প্রিয় পাঠক, আমি কি ভুল বললাম।।এরকম ঘটনা আমাদের সমাজে অহরহ ঘটছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই বাবা-মাকে আরো সচেতন হতে হবে। আর এধরনের মন মানশিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমার আলোচনার বিষয় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বাবা-মার সাবধানতা or মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ব্যবহারে বাবা-মার সাবধানতা। নিচের বিষয়গুলো পড়লে আপনার নিকট বিষয়টি আরো সহজ হবে।
ইন্টারনেট প্রযুক্তির সঙ্গে এখন আমরা গ্রাম ও শহরের সকলেই পরিচিত বললে বেশী বলা হবে না। ইচ্ছামত ইন্টারনেট ব্যাবহারের মাধ্যমে নেট বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবার নাম চ্যাট করা সেটা এখন গ্রামের সেল ফোন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরাও জেনে গেছে । খুব সহজেই টিন-এজ ছাত্র ছাত্রীরা যে কোন বিষয়ে জানার জন্য ইয়াহু, গুগল, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদির সাহায্যে প্রয়োজনে অনেক তথ্য জেনে নিতে পারে। এই সুযোগ নানা সাইটের বিজ্ঞাপনের চমক থেকে কিংবা বন্ধুদের সাহায্যে যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক নেট বন্ধু তৈরী করে ফেলে । এসব বন্ধুদের মধ্যে খারাপ কেউ থাকলে তাদের পাল্লায় পড়ে অনেকের সর্বনাশ হয়ে যায়। অনেকে স্বল্প পরিচিতকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে দেয় যা ঠিক নয়; অনেক ক্ষেত্রেই এ ছবি কাট পেষ্ট করে ওয়েব সাইটে অপব্যবহার হতে দেখা যায় । ইন্টারনেটে, ফোনে এসএমএস চালাচালি করে টিন-এজ ছেলে-মেয়েদের এমন বন্ধু হয়ে যায় যে, বন্ধুদের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক তৈরীর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতারিত হবার খবর পাওয়া যায় । অধিক সময় ইন্টারনেট ব্যবহার টিন-এজ ছেলে-মেয়ে শুধু নয় অনেক সময় বড়দের মাঝেও এক ধরনের অতিআসক্তি দেখা যায়। যার পরবর্তী ফল ভাল হয় না ।তাই আমিসহ সকল অভিভাবক, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সামাজিক সচেতনতা জাগ্রত করতে হবে। ফেসবুক, মোবাইল ফোনে এস এম এস বা এম এম এস পাঠানো একটি ফ্যাশন। আগের দিনের চিঠির পরিবর্তে আমাদের ছেলে-মেয়েরা এস এম এস বা এম এম এস পাঠানো সহজ বলে তারই ব্যবহার ও প্রয়োগ করে থাকে মাত্রারিক্ত এগুলো করার ফলে এক সময় ওরা কুৎসিত জোক্স আদান প্রদানে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। সারাদিন জোকস নিয়ে মেতে থাকে যা লেখাপড়ার মারাত্বক ব্যঘাত সৃষ্টি করে। আমাদের টিন-এজ ছেলে-মেয়েরা মাত্রারিক্ত ফোন ব্যবহার শুরু করলে তাদেরকে এর কুফল গুলো সম্পর্কে বুঝিয়ে বলা এবং এ সম্পর্কে প্রমাণিত তথ্য প্রদান করা জরুরী। যা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ থাকতে সহায়তা দেবে ।দয়া করে ভুল গুলো ধরিয়ে দিলে আমার লেখার বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।আপনারা অপনাদের মতামত আমার ওয়েবসাইটে বা ফেসবুকে এমনকি মোবাইলে জানাতে পারেন।
মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বাবা-মার সাবধানতা শিরোনামে লেখাটি পড়ে যদি আপনাদের ভাল লাগে তাহলে দয়া করে আপনার গুরত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করে একটি রেসপন্স দান করবেন।শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন লেখা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
যেকোন প্রশ্ন করতে ও জানাতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
(মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির ব্যবহারে বাবা-মার সাবধানতা)