যুগে যুগে নারীদের বিভিন্ন ধর্মমতে শোচনীয় অবস্থান

দুনিয়ার অন্যান্য ধর্মমhttps://www.bdpnpc.com/ত ও মতাদর্শের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের এ সমান মর্যাদা কোনভাবেই স্বীকৃত নয়।

ইয়াহুদী ধর্মে নারীকে পুরুষের প্রতারক’ বলে অভিহিত করে হয়েছে। ওল্ড টেস্টামেন্ট (আদি পুস্তক)-এ হযরত আদম ও হাওয়ার জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ব্যাপারটিকে এভাবে পেশ করা হয়েছে।

তখন সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে ডাকিয়া কহিলেন, তুমি কোথায়? তিনি কহিলেন, আমি উদ্যানে, তোমার রব শুনিয়া ভীত হইলাম। কারণ আমি উলঙ্গ, তাই আপনাকে লুকাইয়াছি। তিনি কহিলেন, তুমি যে উলঙ্গ উহা তোমাকে কে বলিল? যে বৃক্ষের ফল ভোজন করিতে তোমাকে নিষেধ করিয়াছিলাম, তুমি কি তাহার ফল ভোজন করিয়াছ? তাহাতে আদম কহিলেন, তুমি আমার সঙ্গিনী করিয়া যে স্ত্রী দিয়াছ, সে আমাকে ঐ বৃক্ষের ফল দিয়াছিল, তাই খাইয়াছি। তখন সদাপ্রভু ঈশ্বর নারীকে কহিলেন, তুমি এ কি করিলে? নারী কহিলেন, সর্প আমাকে ভুলাইয়াছিল, তাই খাইয়াছি। (আদি পুস্তক-মানব জাতির পাপের পতন ১০-১১ ক্ষেত্র)

এর অর্থ এই হয় যে, বেহেশত থেকে বহিষ্কৃত হওয়া আদম তথা মানব জাতির পক্ষে অভিশাপ বিশেষ এবং এ অভিশাপের মূল কারণ হচ্ছে নারী—আদমের স্ত্রী। এজন্যে স্ত্রীলোক সে সমাজে চিরলাঞ্ছিতা এবং জাতীয় অভিশাপ, ধ্বংস ও পতনে কারণ। এজন্যে পুরুষ সব সময়ই নারীর উপর প্রভুত্ব করার স্বাভাবিক অধিকারী। এ অধিকার আদমকে হাওয়া বিবি কর্তৃক নিষিদ্ধ ফল খাওয়ানোর শাস্তি বিশেষ এবং যদ্দিন নারী বেঁচে থাকবে, ততদিনই এ শাস্তি তাকে ভোগ করতে হবে । | ইয়াহুদী সমাজে নারীকে ক্রীতদাসী না হলেও চাকরানীব পর্যায় নামিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে বাপ নিজ কন্যাকে নগদ মূল্যে বিক্রয় করতে পারত, মেয়ে কখনো পিতার সম্পত্তি থেকে মীরাস লাভ করত না, করত কেবল তখন, যখন পিতার কোন পুত্র সন্তানই থাকত না।

| প্রাচীনকালে হিন্দু পণ্ডিতরা মনে করতেন, মানুষ পারিবারিক জীবন বর্জন না করলে জ্ঞান অর্জনে সমর্থ হতে পারে না। মনু’র বিধানে পিতা স্বামী ও সন্তানের কাছ থেকে কোন কিছু পাওয়ার মত কোন অধিকার নারীর জন্যে নেই। স্বামীর”. মৃত্যু হলে তাকে চির বৈধব্যের জীবন যাপন করতে হয়।জীবনে কোন স্বাদ-আনন্দ-আহ্লাদ-উৎসবে অংশ গ্রহণ তার পক্ষে চির নিষিদ্ধ। নেড়ে মাথা, সাদা বস্ত্র পরিহিতা অবস্থায় আতপ চালের ভাত ও নিরামিষ খেয়ে জীবন যাপন করতে হয় তাকে।

প্রাচীন হিন্দু ভারতীয় শাস্ত্রে বলা হয়েছেঃ

মত্য, নরক, বিষ, সর্প, আগুন-এর কোনটিই নারী অপেক্ষা খারাপ ও মারাত্মক নয়। যুবতী নারীকে দেবতার উদ্দেশ্যে—দেবতার সন্তুষ্টির জন্যে কিংবা বৃষ্টি অথবা ধন-দৌলত লাভের জন্যে বলিদান করা হত। একটি বিশেষ গাছের সামনে এভাবে একটি নারীকে পেশ করা ছিল তদানীন্তন ভারতের স্থায়ী রীতি। স্বামীর মৃত্যুর সাথে সহমৃত্যু বরণ বা সতীদাহ রীতিও পালন করতে হতো অনেক হিন্দু নারীকে।

অনেক সমাজে নারীকে সকল পাপ, অন্যায় ও অপবিত্রতার কেন্দ্র বা উৎস বলে ঘৃণা করা হত। তারা বলত, এখনকার নারীরা কি বিবি হাওয়ার সন্তান নয়? আর হাওয়া বিবি কি আদমকে আল্লাহর নাফরমানীর কাজে উদ্বুদ্ধ করেনি?-পাপের কাজকে তার সামনে আকর্ষণীয় করে তোলেনি? ধোকা দিয়ে পাপে লিপ্ত করেনি? আর মানব জাতিকে এই পাপ-পংকিল দুনিয়ার আগমনের জন্যে সেই কি দায়ী নয়? সত্যি কথা এই যে, হাওয়া বিবিই হচ্ছে শয়তান প্রবেশের দ্বারপথ, আল্লাহর আনুগত্য ভঙ্গ করার কাজ সেই সর্বপ্রথম শুরু করেছে। এ কারণে তারই কন্যা বর্তমানের এ নারী সমাজেরও অনুরূপ পাপ কাজেরই উদগাতা হওয়া স্বাভাবিক। তাই নারীরা হচ্ছে শয়তানের বাহন, নারীরা হচ্ছে এমন বিষধর। সাপ, যা পুরুষকে দংশন করতে কখনো কসুর করেনি।এসব মতের কারণে দুনিয়ার বিভিন্ন সমাজ ও সভ্যতায় নারী জাতির মর্মান্তিক অবস্থা দেখা গিয়েছে। এথেন্সবাসীরা হচ্ছে সভ্যতা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য প্রাচীনতম জাতি। কিন্তু সেখানে নারীকে পরিত্যক্ত দ্রব্য-সামগ্রীর মত মনে করা হত। হাটে-বাজারে প্রকাশ্যভাবে নারীর বেচা-কেনা হত। শয়তান অপেক্ষাও অধিক ঘৃণিত ছিল সেখানে নারী। ঘরের কাজকর্ম করা এবং সন্তান প্রসব ও লালন-পালন ছাড়া অন্য কোন মানবীয় অধিকারই তাদের ছিল না। স্পার্টাতে আইনত একাধিক স্ত্রী গ্রহণ নিষিদ্ধ থাকলেও কার্যত প্রায় প্রত্যেক পুরুষই একাধিক স্ত্রী রাখতো। এমনকি নারীও একাধিক পুরুষের যোন ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে সেখানে বাধ্য হত। সমাজের কেবল নিম্নস্তরের মেয়েরাই নয়, সম্রান্ত ঘরের মেয়েরা-বৌ’রা পর্যন্ত এ জঘন্য কাজে লিপ্ত থাকতো। রুমানিয়ায়ও এর রেওয়াজ ছিলো ব্যাপকভাবে। শাসন কর্তৃপক্ষ দেশের সব প্রজা-সাধারণের জন্য একাধিক বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু মাজের কোন লোক—পাদ্রী-পুরোহিত কিংবা সমাজ-নেতা কেউই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলেনি।

ইয়াহুদী সমাজে নারীদের অবস্থা ছিল আরো মারাত্মক। মদীনার ‘ফিতুম’ নামক এক ইয়াহুদী। বাদশাহ আইন জারী করেছিলঃ “যে মেয়েকেই বিয়ে দেওয়া হবে, স্বামীর ঘরে যাওয়ার আগে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে এক রাত্রি যাপন করতে হবে।” (১ – 17, 2_aoll)১১ , +6969)

খৃস্টধর্মেতে নারীকে চরম লাঞ্ছনার নিম্নতম পংকে নিমজ্জিত করে দেয়া হয়েছে। পোলিশ লিখিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে; নারীকে চুপচাপ থেকে পূর্ণ আনুগত্য সহকারে শিক্ষালাভ করতে হবে। নারীকে শিক্ষাদানের আমি অনুমতি দেই না, বরং সে চুপচাপ থাকবে। কেননা আদমকে প্রথম সৃষ্টি করা হয়েছে, তার পরে হাওয়াকে। আদম প্রথমে ধোকা খায় নি, নারীই ধোঁকা খেয়ে গুনাহে লিপ্ত হয়েছে।

জনৈক পাদ্রীর মতে নারী হচ্ছে শয়তানের প্রবেশস্থল। তারা আল্লাহর মান-মর্যাদার প্রতিবন্ধক, আল্লাহর প্রতিরূপ, মানুষের পক্ষে তারা বিপজ্জনক। পাদ্রী সন্তান বলেছেনঃ নারী সব অন্যায়ের মূল, তার থেকে দূরে থাকাই বাঞ্ছনীয়। নারী হচ্ছে পুরুষের মনে লালসা উদ্রেককারী, ঘরে ও সমাজে যত অশান্তির সৃষ্টি হয়, সব তারই কারণে। এমন কি, নারী কেবল দেহসর্বস্ব, না তার প্রাণ বলতে কিছু আছে, এ প্রশ্নের মীমাংসার জন্যে পঞ্চম খৃষ্টাব্দে বড় বড় খৃস্টান পাদ্রীদের এক কনফারেন্স বসেছিল মাকুন’ নামের এক জায়গায়।

ইংরেজদের দেশে ১৮০৫ সন পর্যন্ত আইন ছিল যে, পুরুষ তার স্ত্রীকে বিক্রয় করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এক একটি স্ত্রীর দাম ধরা হয়েছিল অর্ধশিলিং। এক ইটালীয়ান স্বামী তার স্ত্রীকে কিস্তি হিসেবে আদায় যোগ্য মূল্যে বিক্রয় করেছিল। পরে ক্রয়কারী যখন কিস্তি বাবদ টাকা দিতে অস্বীকার করে, তখন বিক্রয়কারী স্বামী তাকে হত্যা করে।

অষ্টাদশ খৃস্টাব্দের শেষভাগে ফরাসী পার্লামেন্টে মানুষের দাস প্রথার বিরুদ্ধে যে আইন পাস হয়, তার মধ্যে নারীকে গণ্য করা হয় নি। কেননা অবিবাহিতা নারী সম্পর্কে কোন কিছু করা যেতো না। তাদের অনুমতি ছাড়া ।

 ৫৮৬ খৃস্টাব্দে ফ্রান্সে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে বহু চিন্তা-ভাবনা আলোচনা-গবেষণা ও তর্ক-বিতর্কের পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, নারী জন্তু নয়—মানুষ। তবে সে এমন মানুষ যে, পুরুষের কাজে নিরন্তর সেবারত হয়ে থাকাই তার কর্তব্য। কিন্তু তাই বলে তাকে শয়তানের বাহন পরিবার ও পারিবারিক জীবন

অন্যায়ের উৎস ও কেন্দ্র এবং তার সাথে সম্পর্ক রাখা অনুচিত প্রভৃতি ধরনের যেসব কথা বলা হয়, তার প্রতিবাদ বা প্রত্যাহার করা হয়নি। কেননা এগুলো ছিল তার স্থির ও মজ্জাগত আকীদা।

المرأة بين البيت و المجمع ص ۷۶)

গ্রীকদের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা কি ছিল, তা তাদের একটা কথা থেকেই স্পষ্ট বােঝা যায়। সেখানে বলা হতঃ আগুনে জ্বলে গেলে ও সাপে দংশন করলে তার প্রতিবিধান সম্ভব; কিন্তু নারীর দুস্কৃতির পাতাবান অসম্ভব।

পারস্যের মাজদাক’ আন্দোলনের মুলেও নারীর প্রতি তীব্র ঘৃণা পুঞ্জিভূত ছিল। এ আন্দোলনের প্রভাবাধীন সমাজে নারী পুরুষের লালসা পরিতৃপ্তির হাতিয়ার হয়ে রয়েছে। তাদের মতে দুনিয়ার সব অনিষ্টের মূল উৎস হচ্ছে দুটি—একটি নারী, আর দ্বিতীয়টি ধন-সম্পদ। প্রাচীন ভারতে নারীর অবস্থা অন্যান্য সমাজের তুলনায় অধিক নিকৃষ্ট ছিল। প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত আইন রচয়িতা মনু মহারাজ নারী সম্পর্কে বলেছেনঃ

নারী-নাবালেগ হোক, যুবতী হোক, আর বৃদ্ধা হোক—নিজ ঘরেও স্বাধীনভাবে কোন কাজ করতে পারবে না।’ মিথ্যা কথা বলা নারীর স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য। মিথ্যা বলা, চিন্তা না করে কাজ করা, ধোঁকা-প্রতারণা, নির্বুদ্ধিতা, লােভ, পংকিলতা, নির্দয়তা—এ হচ্ছে নারীর স্বভাবগত দোষ।

ইউরোপে এক শতাব্দীকাল পূর্বেও পুরুষগণ নারীদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালাত। পুরুষের অত্যাচার বন্ধ করার মত কোন আইন সেখানে ছিল না। নারী ছিল পুরুষের গােলাম। নারী সেখানে নিজ ইচ্ছায় কোন কাজ করতে পারত না। নিজে উপার্জন করেও নিজের জন্যে তা ব্যয় করতে পারত

। মেয়েরা পিতামাতার সম্পত্তির মত ছিল। তাদের বিক্রয় করে দেয়া হত। নিজেদের পছন্দসই বিয়ে করার কোন অধিকার ছিল না তাদের।

প্রাচীন আরব সমাজেও নারীর অবস্থা কিছুমাত্র ভাল ছিল না। তথায় নারীকে অত্যন্ত লজ্জার বস্তু বলে মনে করা হত। কন্যা-সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে পিতামাতা উভয়ই যারপর নাই অসন্তুষ্ট হত। পিতা। কন্যা-সন্তানকে জীবন্ত প্রােথিত করে ফেলত। আর জীবিত রাখলেও তাকে মানববাচিত কোন অধিকারই দেয়া হত না। নারী যতদিন জীবিত থাকত, ততদিন স্বামীর দাসী হয়ে থাকত। আর স্বামী। মরে গেলে তার উত্তরাধিকারীরাই অন্যান্য বিষয় সম্পত্তির সাথে তাদেরও একচ্ছত্র মালিক হয়ে বসত। সৎমা-পিতার স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী বানানাে সে সমাজে কোন লজ্জা বা আপত্তির কাজ ছিল না। বরং তার ব্যাপক প্রচলন ছিল সেখানে। আল্লামা আবূ বকর আবুল জাসসাস লিখেছেনঃ

وقد كا نكاه اماة الأب مستفیضاشايا في الجاهلية – (احکام القران)

নামে প্রাচীন কালের লাঞ্ছনার গহবর থেকে উদ্ধার : নিক্ষেপ করেছে। নারী স্বাধীনতার নামে তাকে লাগামহীন চা আজ সভ্যতা, সংস্কৃতি ও শিল্পের নামে নারীর লজ্জা-শরম প্রকাশ্য বাজারে নগণ্য পণ্যের মত ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে। পন শিল্পে অগ্রগতি ও বিকাশ সাধনের মােহনীয় নামে নারী সমাজ

জাহিলিয়াতের যুগে পিতার স্ত্রী-সন্মা বিয়ে করার ব্যাপক প্রচলন ছিল।

সঙ্গে কোন মীরাস পাওয়া একেবারেই অবম্ভব ছিল। আধুনিক সভ্যতা নারীমুক্তির ব লাঞ্চনার গহবর থেকে উদ্ধার করে নারী স্বাধীনতার অপর এক গভীর বিবরে ৯ কাজীনতার নামে তাকে লাগামহীন জন্তু জানোয়ার পর্যায়ে নামিয়ে দিয়েছে।

এ শিল্পের নামে নারীর লজ্জা-শরম-আবরু ও পবিত্রতার মহামূল্য সম্পদকে পণ্যের মত ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে। পুরুষরা চিন্তার আধুনিকতা উচ্ছলতা  সাধনের মোহনীয় নামে নারী সমাজকে উদ্বুদ্ধ করে ঘরের বাইরে নিয়ে এসেছে এবং ক্লাবে, নাচের আসরে বা অভিনয় মঞ্চে পৌছিয়ে নিজেদের পাশবিক লালসার ইন্ধন বানিয়ে নিয়েছে। বস্তুত আধুনিক সভ্যতা নারীর নারীত্বের সমাধির উপর লালসা চরিতার্থতার সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করেছে। এ সভ্যতা প্রকৃতপক্ষে নারীকে দেয়নি কিছুই, যদিও তার সব অমূল্য সম্পদই সে হরণ করে নিয়েছে নির্মমভাবে।

বিশ্বনবীর আবির্ভাবকালে দুনিয়ার সব সমাজেই নারীর অবস্থা প্রায় অনুরূপই ছিল। রাসূলে করীম (স) এসে মানবতার মুক্তি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে বিপ্লবী বাণী শুনিয়েছেন, তাতে যুগান্তকালের পংকিলতা ও পাশবিকতা দূরীভূত হতে শুরু হয়। নারীর প্রতি জুলুম ও অমানুষিক ব্যবহারের প্রবণতা নিঃশেষ হয়ে গেল । মানব সামজে তার সম্মান ও যথাযযাগ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হলো। জীবনক্ষেত্রে তার গুরুত্ব যেমন স্বীকৃত হয়, তেমনি তার যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদাও পুরাপুরি বহাল হল না। মানবতার পর্যায়ে পুরুষদের সমান বলে গণ্য হল । অধিকার ও দায়িত্বের গুরুত্বের দিক দিয়েও কোন পার্থক্য থাকল না এদের মধ্যে। নারী ও পুরুষ উভয়ই যে বাস্তবিকই ভাই ও বোন, এরূপ সাম্য ও সমতা স্বীকৃত না হলে তা বাস্তবে কখনই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

                                                            সংগৃহীত