যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে।

Spread the love

যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে।  রহস্যময় যৌনরণের আদি সময় কখন, কোন সময় ইহা প্রথম বালক বালিকার হৃদয়ে উদয় হয়, তার সম্যক নিরূপণ অদ্যতক স্থিরীকৃত হয় নাই এবং কখন হবেও  কিনা সন্দেহ। ইতিপূর্বে ইহাই নিশ্চিতরূপে জানা ছিল যে শিশুজীবনে যৌন বিকাশ মোটেই সম্ভবপর নহে; কিন্তু ঐ তথ্য যে প্রকৃত সত্যতাযুক্ত নহে বিশেষ প্রণিধান করলেই তা বুঝা যায়। অনেক শিশুর অতি অল্প বয়সে হঠাৎ লিঙ্গোদ্রেগ দেখা যায়, যে ঘটনাকে আমরা স্থানিক উত্তেজনা হেতু বা কৃমি হেতু বলে বুঝবার চেষ্টা করি। এই ধরণের সাময়িক উত্তেজনাতে কোনও সুখানুভব হয় কিনা, তা বিশ্বতি হেতু, পরবর্তী জীবনে অনেকে সঠিক প্রকাশ করতে না পারলেও অপর অনেক নরনারী তাদের স্ব স্ব শিশুজীবনে উপরোক্ত লিদোদ্রেক যে যথেষ্ট আনন্দের সঞ্চার করেছিল তার নিশ্চিত প্রমাণ দেয়।

ভূয়োদর্শনের ফলে বিশেষজ্ঞগণ পরীক্ষা দ্বারা স্থিরনিশ্চয় করে জানিয়েছেন যে শিশুজীবনেও যৌন উত্তেজনা প্রায়শঃই প্রকাশ পায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে মার্ক, ফসাগরিস, পেরে ( Marc, Penssagrives, Pereg) প্রভৃতি বিখ্যাত পণ্ডিতগণ পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেছিলেন যে ৩৪ বৎসর বয়সেরও অনেক বালক বালিকা হস্তমৈথুন করে থাকে। পণ্ডিত নোৰি (Robie) পরীক্ষা করে দেখেছিলেন যে ৫ হইতে ২৪ বৎসর বয়সের মধ্যে বালকদের এবং ৮ হইতে ১৯ বৎসর বয়সের মধ্যে বালিকাদের, যৌন ক্ষুধার আবির্ভাব হয়। হ্যামিল্টন ভুয়ো  পরীক্ষা দ্বারা দেখেছিলেন যে শতকরা কুড়ি জন বালক ও চৌদ্দ জন বালিকা তাদের ৬ বৎসর বয়ঃক্রমের আগেই যৌন ইন্দ্রিয়ে সুখানুভব করে। অবশ্য সকল শিশুই যৌন উত্তেজনা বা যৌনসুখ অনুভব করে না বা সবাই তাহা অনুভব করার শক্তি থাকে। সুতরাং যৌন উদ্রেক সম্বন্ধে শিশুদের মধ্যে বিভিন্নতা স্পষ্টই ‘প্রতীয়মান হয়। তবে এই বিষয়ের সত্যতা সম্বন্ধে সন্দিহান হইবার কোনও কারণ নাই যে যৌনক্ষণ যাহাদের বেশী বয়সে দেখা, দেয়—বিবাহিত জীবনে দাম্পত্য সুখের তারাই তত বেশী অধিকারী হয়।

 যৌন সুখোন্মেষ, প্রথম বালক বালিকাদের জীবনে দেখা দেয়, তাদের মাতৃস্তন্য পান কালে মাইয়ের বোঁটা ও ওষ্ঠের পরস্পর সান্নিধ্য, স্পর্শ এবং ঘর্ষণ হইতে। নরনারীর ঠোট দুটী যে যৌন উত্তেজনা আনয়নে এক অতি প্রধান সহকারী ইন্দ্রিয়, তাহা নিঃসন্দেহেই প্রকাশ করা যেতে পারে। (যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে)

অসীম যৌনসুখ হেতুই চুম্বনের ব্যাকুলতা, তার জন্যই ওস্পর্শকাকা। কিন্তু ওষ্ঠস্পর্শ হতে যৌনসুখ উন্মেষ হয়, শিশুজীবনে মাতৃপানকালে মাইএর বোঁটায় ও শিশুর ওষ্ঠের পরস্পর ঘর্ষণে। অনেক সময় শিশুরা বুড়ো আঙ্গুল চুষতে থাকে। এত ভীষণ ব্যাকুলতার সঙ্গে অনেক শিশু বৃদ্ধ অঙ্গুলি চুষে যে দিকে তাহতে নিবৃত্ত করা যায় না এবং করিলেও সেই শিশুর পক্ষে তাহা পরম ক্লেশদায়ক হয়। (যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে)

এই বৃদ্ধ অঙ্গুলী চুষবার প্রবৃত্তিই পরবর্তী জীবনে হস্তমৈথুনের রূপান্তর মাত্র। মুখ ও ওষ্ঠের পর, ওহুদেশ, শিশুর যৌনসুখ অনুভবের সহায়ক হয়। অনেক পণ্ডিতের মতে শিশুর বাহে ও প্রস্রাব করার সময়ে তার যৌনসুখানুভূতি জন্মে। হ্যামিল্টন বলেন, যে শতকরা ২১ জন নর ও ১৬  নারী তাদের শিশুকালে,  প্রস্রাব সময়ে যৌন আনন্দ অনুভব করেছিল। যাই হৌক, পণ্ডিতপ্রবর ফয়েভ, ও অস্কার ফিচার (0skar Pfitster) ইহা বার বার পরীক্ষার প্রকাশ করেছেন যে শিশুদের মধ্যেও প্রেম উন্মেষের সুস্পষ্টলক্ষণাবলী দেখা যায়।

অপর আর এক রকম বিধানে শিশুর মধ্যে যৌন আনন্দ দেখা দেয়—ইংরাজীতে তার নাম Algolagni. ইহার বাংলাতে এই অর্থ হয় যে যন্ত্রণার মধ্যে সুখানুভূতি’—সে যন্ত্রণা নিজেই ভোগ করুক, বা অন্যের হতে দেখুক, বা হতে অঙ্গের যন্ত্রণা বিধান করুক, সেই যন্ত্রণার দৃশ্যে বা অনুভূতিতে তার মধ্যে যৌনসুখ আসে। শিশুরা যন্ত্রণাপূর্ণ ক্রীড়া ভালবাসে। নিজেদের উপর নানা অত্যাচার করে এক অভিনব সুখ বোধ করে; বালিকাদের পরস্পর সজোরে চুল টানাটানি খেলায় অতি মধুর সুগাবেশ জন্মে; দিবাভাগে মারধোরপূর্ণ স্বপ্ন দর্শনে তার মনে এক অব্যক্ত সুখানুভূতি আসে ; জীবনান্তকর ঘটনা প্রবণে তাহার পরম পরিতৃপ্তি লাভ হয় ; বালক তার জননেন্দ্রিয়ের উপর বারংবার আঘাত করে অতৃপ্ত সূখবোধ করে; কখনও দড়ি দ্বারা দৃঢ়ভাবে সেটাকে বেঁধে রাখতে চায়। এই সকল অতি সত্য ব্যাপারগুলির বিশ্লেষণ দ্বারা ইহা স্থির নিশ্চয় হয়েছে যে শিশুকালেই বালক বালিকার যৌনসুখ উন্মেষ হয়ে থাকে। এই স্থানে একটা ঘটনা জানান অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে একটী ১ বৎসরের বালিকা তার clitoris কে দড়ি দ্বারা এত শক্ত করে বেঁধেছিল যে অস্ত্র চিকিৎসার সাহায্য নিতে হয়। (যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে)

 কিন্তু তাহলেও ঐ বয়সে যৌন উদ্রেকের উহাও একটী প্রমাণ। হ্যামিল্টন বলেন যে তার পরীক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৪৯ জন পুরুষ ও ৬৮ জন রমণী, অশ্বকে যন্ত্রণা দেওয়ার মধ্যে কোনও সুখ অনুভব করেন নাই, কিন্তু শতকরা ৩০ জন নরনারী নিজেরা কষ্ট অনুভবের মধ্যে সুখের স্পর্শ পান। যৌন বিজ্ঞানের মধ্যে এমি শত শত অভিনব ও অত্যাশ্চর্য তথ্যাদি আমরা জানতে পারি, যাহা স্বাভাবিক জ্ঞানের কাছে অতি হাস্যজনক ও অবিশ্বাস্য বলে প্রতীয়মান হবে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলির সত্যতায় সন্ধিহান হইবার বিন্দুমাত্র কারণ নাই। (যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে)

কিন্তু শিশুদের যৌনপ্রীতি প্রথমেই কাহার কাহার প্রতি দেখা দেয় ইহা স্থির করাও এক বিষম সমস্যার বিষয়। মহামতি ফ্রয়েড, এইখানে Edipus complex নীতির আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁর মতে, শিশুর অত্যল্প বয়স হতেই নিকটাত্মীয়ের উপরই তার গভীর যৌনপ্রেম উদ্ভব হয় এবং তাহা কেবলমাত্র অতি কঠোর আইন দ্বারা বা অতি কঠিনভাবে দমন করা যেতে পারে। ওয়েষ্টার মার্ক পূর্বে কিন্তু এই মতটার বিপক্ষেই মত দিয়েছিলেন তাঁর মতে মানবের মনে এই ভাবের ভালবাসার প্রতি সাধারণ ঘৃণাই জন্মে থাকে কিন্তু বিখ্যাত ফ্রয়েড, তাঁর মতটা দৃঢ়ভাবে প্রচার করলেন “There is from infancy a strong natural instinct to incest.’ (যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে)

লেক ইলিস, এই উভয় প্রকার বিরোধী মতের সামঞ্জস্য আনয়ন করেছিলেন । তাঁর মতে—আত্মীয়দের উপরেই (এবং তারা সর্বদা একত্রে থাকলে), যৌনক্ষুধার প্রথম বিকাশ হয় ইহা সত্য ; হ্যামিল্টন দেখিয়াছেন শতকরা ১৪ জনের এইরূপ আত্মীয়ের প্রতি যৌন ইচ্ছা জেগেছিল, শতকরা ১০ জন মাতার উপরই এই ইচ্ছা অনুভব করেছিল, শতকরা ২৮ জন তাদের ভগ্নীর উপর কামবাসনানল প্রজ্জ্বলিত হওয়া বুঝতে পেরেছিল; ৭ জন স্ত্রীলোক তাদের পিতার উপর এবং ৫ জন তাদের ভ্রাতার উপর যৌন আকর্ষণ অনুভব করেছিল; কিন্তু এই যৌনক্ষুধার উন্মেষ মোটেই খুব দৃঢ় নয় এবং যখনই আকর্ষণের কোনও নূতন ব্যক্তিকে তার পরে তারা সাজে পায় তখনই এই যৌনক্ষুধা। তাদের দিকেই অগ্রসর হয়।

বালক বালিকাদের মধ্যে হস্তমৈথুনের প্রবৃত্তি দ্বারাও তাদের মধ্যে যৌন প্রবৃত্তির উন্মেষের পরিচয় পাওয়া যায়। হস্তদ্বারা বা যে কোনও জিনিষের দ্বারা নরনাঙ্গীর মধ্যে জননেন্দ্রিয়ের উত্তেজনা আনয়নের নামই হচ্ছে ‘হস্তমৈথুন। তা ছাড়া খেলাধূলার মাকে, এবং এমন কি জননেন্দ্রিয়ের উপর হঠাৎ বাদির চাপ পড়লেও ঐ ভাবের উত্তেজনা আসে। হস্ত বা আঙ্গুল দ্বারা কননেন্দ্রিয়ের উত্তেজনা বালকরা যত বেশী আনে, বালিকারা তত বেশী নহে।” বালিকাদের নিদেশ হঠাৎ স্পৃষ্ট হওয়ায় তার একপ্রকার সুখাবেশ অনুভব করে। তার পরে ঐ সুখ অনুভবের জন্য তারা অন্য দ্রব্যের সাহায্যে নিদেশ ঘর্ষণ করতে চায় এবং এমন কি কোনও দ্রব্য পাওয়া না গেলে, তাদের  দুটার দৃঢ়ভাবে চাপনেও তারা ঐ ভাবের উত্তেজনা অনুভব করে থাকে।(যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে)

কিন্তু যারা শিশু অবস্থায় উক্ত কোনও প্রকারের যৌন উত্তেজনা অনুভব করে না, তারাও পরবর্তী বয়সে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ যৌন উত্তেজনা অনুভব করে থাকে। এই উত্তেজনা কখনও বা ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দর্শনে কখনও বা বিনা স্বপ্নেও ঘটে থাকে। বালকরা যৌন উত্তেজনা হলে ঘুম থেকে আপনা হতেই জাগরিত হয়ে পড়ে, কিন্তু বালিকাদিকে ঐ অবস্থায়  জাগিয়ে না দিলে হয় না। বালক বালিকাদের মধ্যে নিদ্রার মধ্যে যৌন উত্তেজনার এই তারতম্য লক্ষ্য করেই মহাপণ্ডিত ইলি, acora a “The greater sexual activity of the male, the greater sexual quiescene of the female’ কিন্তু ইহা যেন কেহ মনে না করেন যে পুরুষদের যৌনাকাঙ্ক্ষা বেশী ও স্ত্রীলোকদের কম।

আমেরিকার নোবি (Robie) বহু গবেষণার পর দেখেছিলেন যে এমন নর বা নারী পাওয়া যায় না, যারা তাদের ৮ বৎসর বয়সের পূর্বে হস্তমৈথুনের দ্বারা যৌন উত্তেজনা বা এমন কি আপনা হতেই যৌন উত্তেজনা কিছু না কিছু অনুভব করেছিলেন। ডাঃ কারিন ডেভিল, একহাজার আমেরিকার কলেজ রমণীর মধ্যে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন যে তাদের মধ্যে শতকরা ৬০ জন প্রকৃতভাবে হস্তমৈথুন করেছিল। অবিবাহিতা কলেজ রমণীদের মধ্যে পরীক্ষায় দেখা যায় যে শতকরা ৪৬ জন তাদের ৩ হইতে ১০ বৎসর বয়সের মধ্যে হস্তমৈথুন করেছিল; শতকরা ২২ জন তাদের ১১ বৎসর হতে ১৫ বৎসর বয়সের মধ্যে, শতকরা ১৯ জন তাদের ১৬ হইতে ২২ বৎসর বয়সের মধ্যে এবং শতকরা ১৫ জন তাদের ২৩ হইতে ২৯ বৎসরের মধ্যে হস্তমৈথুনে রত হয়েছিল। যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে।

নানাবিধ পরীক্ষায় ইহাও স্থিরীকৃত হয়েছে যে বালিকারা বালকদের চাইতেও অতি শিশু বয়সে এই কাৰ্যে রত হয় কিন্তু বেশী বয়সের সময় বালকরাই বালিকাদের চাইতে বেশী এই কাজ করে, কিন্তু আবার পরিণত বয়সে বালিকাদেৱই এই কাৰ্যে সংখ্যাধীক্য ঘটে থাকে। ডাঃ হামিল্টনও একশত জন উচ্চবংশ জাত পুরুষ এবং একশত জন উচ্চবংশীয় নারীর মধ্যে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন যে তাদের মধ্যে ৯৭ জন পুরুষ ও ৭৪ জন স্ত্রীলোক এক সময়ে যখন হৌক হস্তমৈথুন করেছিলেন। আমাদের ভারতবর্ষে এই ভাবের উচ্চাঙ্গের যৌনবিজ্ঞানের পরীক্ষা ও অনুশীলনের একান্ত অভাব বশতঃ এইস্থানে ভারতীয় নরনারীর তালিকা দেওয়া সম্ভবপর নহে। হস্তমৈথুন সম্বন্ধে আমি অন্যত্র বিস্তৃত বর্ণনা করিব।  

নরনারীর মধ্যে প্রথম যৌনউন্মেষের ইতিহাস অবগত হইবার আগে, বিভিন্ন জনপদের মধ্যে, বিভিন্ন রীতিনীতি ও জীবন যাত্রার প্রণালী, এবং বিভিন্ন শিক্ষাদীক্ষা ও সভ্যতার মাঝে, উহার বিভিন্নতাও লক্ষ্য করা উচিত। নিউ গিনা (New Guinea) প্রদেশে ট্রন্থিয়াণ্ডা দ্বীপের বালকবালিকাদের মধ্যে যৌন স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে প্রদত্ত হয়। সেই দেশের শিশুদের মধ্যে যৌন সম্বন্ধীয় প্রচুর গবেষণা আমরা মালিনোক্ষর বন্যজীবনে যৌনতত্ব’ নামক পুস্তকে  (Malinowske’s–Sexual life of Savages ) caeco পাব। সেদেশে শিশুদের সমক্ষেই পিতামাতা সহবাস ক্রিয়া সম্পাদন করে থাকে; শিশুদের সমক্ষেই রতিবিষয়ক চর্চা ও কথাবার্তা চালাইবার কোনও বাধা তথায় নাই–কেবল এইটাই তথাকার প্রধান লক্ষণীয় বিষয় যে শিশুরা যাহা দেখিল বা যাহা শুনিল কদাপি তাহার সম্বন্ধে তাহার যেন কোথাও কিছু না বলে। (যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে।)

বালিকারাও তাদের সঙ্গে থাকে। তথায় গিয়া বালিকাদের সমক্ষেই পুরুষ সাথীরা উলঙ্গ হয়ে মৎস্যশীকারে রত হয়—এবং তাই তথাকার বালিকাদের কাছে পুংজননেন্দ্রিয়ের দৃশ্যটা অতি স্বাভাবিক হয়ে থাকে। অতি অল্প বয়স হতেই তারা যৌন সম্বন্ধীয় উপদেশ লাভ করে এবং অতি শিশুকাল হতেই তারা যৌনসম্পৰ্কীয় ক্রীড়াতে রত হয়।

এই সব যৌনক্রীড়ায় তাদের হাত ও মুখ সাধারণতঃ যৌনসুখ আনয়নের সহায় হয়ে থাকে। সেদেশের বালিকারা সাধারণতঃ ৪৫ বৎসর ‘বয়স থেকে যৌনক্রীড়ায় রত হয় এবং ৬ হইতে ৮ বৎসর বয়সের মধ্যেই তাদের প্রকৃত যৌনজীবন আরম্ভ হয়; কিন্তু সেদেশের বালকরা যৌনজীবন লাভ করে তাদের ১০ হইতে ১২ বৎসর বয়সের মধ্যে। বালিকারা একত্রে মিলে নানাপ্রকার যৌন ধরণের খেলায় মত্ত হয়-তাতে সে দেশে কেউ কোনও বাধা দেয় না বা কোনও কুফলও ফলে না। (যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে।)

কিন্তু সেই দেশেরই উত্তরে অল্পদূরে অবস্থিত Admiralty islands বাসীদের জীবন যাত্রার মধ্যে এই যৌনশিক্ষা ও যৌন উন্মেষের কতই না বিভিন্নতা ! মার্গারেট মিড, বলেন (See Growing up in New Guinea ) যে সে দেশে যৌনধর্মটাকে অতীব ঘৃণার চক্ষে দেখা হয়, এবং ঐ সমস্ত বিষয়কে অতি তীব্র ভাবে দমন করার প্রবল চেষ্টা লক্ষিত হয়। তথায় হস্তমৈথুন ইত্যাদি প্রায়শই দেখা যায় না এবং বিবাহিত নারীরাও সহবাস সুখ অনুরোধ না করায় পুরুষ সঙ্গকে পরিহার করে। | আবার সামোয় দেশে আর একরকম যৌন উন্মেষ দেখা যায়।

তথায় ছেলেমেয়েরা অল্প বয়স হতেই পরস্পরের সান্নিধ্য হতে দূরে থাকে কিন্তু যৌন সম্বন্ধে সে দেশে কারো নিকট গোপন কিছুই থাকে না; ফলে বালক বালিকা অতি শিশুকাল হতেই যৌন ব্যপারগুলি হৃদয়ঙ্গম করে ফেলে। সে দেশে প্রায় প্রত্যেক বালিকাই ৬৭ বৎসর বয়সের সময় হস্তমৈথুন করে, এবং বালকগণ সাধারণতঃ দলবদ্ধ হয়ে ঐ কাৰ্য্যে রত হয় এবং তারা পুংমৈথুনের ও বশীভূত হয়ে পড়ে। (See coming of Age in Samoa by Margaret Mead ). (যৌনচিন্তার আদি বিকাশ যেভাবে ঘটে।)

সুতরাং কখন হতে যে মানব জীবনে আদি যৌন বীজ প্রোথিত হয় তা বলা খুবই শক্ত। গ্রীকদের ইতিহাসে দেখা যায় যে তারা সাহিত্যে দেবতাদের মধ্যেও হস্তমৈথুনের আরোপ করেছে। নির্জনে যৌনক্ষুধার অবসান করা তৎকাৰীন পণ্ডিত দার্শনিকদের মধ্যেও গর্বের বিষয় ছিল। রোমে যৌন ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামান খুব তুচ্ছ ও অকিঞ্চিৎকর ব্যাপার বলে গণ্য হোত এবং তৎকালীন খ্রীষ্টান পাদরিদের মধ্যে সহস্র রকম যৌন বিকাশ ও যৌন ক্রিয়া অহরহ প্রকাশমান থাকত।

আমাদের দেশে অনেক সময় শিশুদের মধ্যে যৌন সুখ বোধ হবার কয়েকটা কারণ দেখা যায়। অনেক সময় শিশু সন্তানকে আদরের কালে মেহময়ী মাতা অতি আদর সোহাগের সঙ্গে  শিশুদের জননেন্দ্রিয়ে ফর্পন করে। এই স্পর্শ হতেই উক্ত শিশুরা একটা সুখ শিহরণের অনুভূতি প্রথম বুঝতে পারে। তারপরে অকারণে অনেক সময়, জ্ঞানে অজ্ঞানে তারা নিজেরাই নিজেদের স্ব এ অননেন্দ্রিয়ে হত্যার্পণ দ্বারা ইন্দ্রিয়সুখ অনুভব করার চেষ্টা করে। ঐ ভাবেই তাদের শিশুজীবন হতেই একটা যৌন অনুভূতির সঞ্চার ক্রমশঃ দেখা দেয় এবং পরবর্তী জীবনে তাহাই হস্তমৈথুন ইত্যাদি নামে অভিহিত হয়।

আবার ঝি, চাকর, দাই ইত্যাদির সহযোগীতায় শিশুদের মধ্যে। প্রায়শঃই যৌন বোধের প্রথম উন্মেষ হয়ে থাকে। কুব্ধ ও ক্রন্দনশীল শিশুকে শান্ত করতে অপারক হয়ে অন্যান্য বহু চেষ্টার পর তারা এক অভিনব উপায় আবিস্কার করে। শিশুদের জননেজিয়ে হস্তস্পর্শন বা ঘর্ষণ দ্বারা তাদিকে এমন একটা সুখ শিহরণের আস্বাদন দেওয়া হয় যে তারা অবিলম্বে শান্তমুত্তি অবলম্বন করে। এইরূপ করতে করতেই তাদের মধ্যে জননেন্দ্রিয়ে হত্যার্পণ করবার দুর্ণিবার অভ্যাস দৃঢ়ীভূত হয় এবং পরবর্তী জীবনে ইহাই আবার দিকে হন্তমৈথুনের পথে চালিত করে।

 নিচের গুরত্ব পুর্ণ লিংকগুলো দেখে আসতে পারেন।

যৌন আকর্ষণ-যৌনমোহ, ব্যাধি ও প্রতিকার।

What is the need for a student’s teaching method? 

ছাত্র ছাত্রীর শিক্ষাদান পদ্ধতি কেমন হওয়া দরকার?

 সাধারণ জ্ঞানের পরিধি ও তথ‌্য সমন্ধে কিছু সহজ কৌশল।

 মজিব শতবর্ষ উপলক্ষে এক বেকারের সামান্য আয়োজন ও অনুরোধ।

 মুশফিক আর কদিন ব্যাটিং করতে না পারলে মরে যাবে’

এসো ঘরে বসে পড়া শিখি আরবি, বাংলা, ইংরেজি। 

Who we are?  খুব গুরত্বপূর্ণ মনকাড়া সর্বদা পালনীয় কতগু

মাথা ব্যথার বিভিন্ন কারণ ও সমাধান। (প্রথম পর্ব) 

মান্না দে সাহেবের পরিচয় ও জনপ্রিয় গান সমূহ। 

মহানবী (সা.) এর জীবনী পড়ে মুসলিম হওয়া এক 

আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে।

পরিসংখ্যানের জনগুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক।

নারী ও পুরুষের যৌন অক্ষমতা ও সমস্যার সমাধান।

মজার মজার জোকস