শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক।

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনা আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে ক্ষমতারমহে মানুষ ভুল করে ফেলে।এটা তার বাস্তব প্রমাণ।সে তো বোকা যে, কাউকে খুশি করার জন্য কিংবা নিজে কোন বিশেষ শক্তির অধিকারী হয়ে তার অপব্যবহার করে।এধরনের বোকামী ছাত্র রাজনীতি না থাকাই ভাল।বুয়েটের শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার যে ভয়াবহ বর্ণনা বা তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ হয়েছে, তা দেশজুড়ে নাড়া দিয়েছে।
জাতীয় জীবনে ছাত্র রাজনীতির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কবি নজরুলের ‘আমরা শক্তি আমরা বল—আমরা ছাত্রদল’-এর মধ্যেও ছাত্র রাজনীতির বীজ লুকায়িত। আমাদের মহান জয় আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সমাজ যে ভূমিকা পালন করেছে সচেতন লোকমাত্রেই স্বীকার করতে হবে। কিন্তু অধুনা জাতীয় রাজনীতি যে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নোংরামি তথা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে কলুষিত হয়েছে তারই প্রত্যক্ষ প্রভাবে ছাত্র রাজনীতি অনেকাংশে তথাকথিত রাজনীতিতেই পরিণত হয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতেও প্রবেশ করেছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মারামারি, কাটাকাটি ইত্যাদি। ছাত্র রাজনীতির এহেন পরিস্থিতি দেশ ও জাতিকে ক্রমান্বয়ে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের অতল গহবরে। সন্ত্রাস একটি সামাজিক ব্যাধি, ভাইরাস জীবাণর মতোই এটি চারিদিকে সংক্রমিত হয়। একটি মেধাবী সুবোধ ছাত্র কলমের পরিবর্তে তুলে নিচ্ছে অত্র। সন্ত্রাসের কারণে প্রতি বছর অনেক ছাত্রের তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, আবার অনেকে চিরদিনের জন্য বরণ করছে পঙ্গুত্ব। শুধু ছাত্ররাই নয়, শিক্ষকসহ অনেকেই সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশের মার্কেটগুলো থেকে সন্ত্রাসীরা প্রচুর চাঁদা আদায় করছে। অস্ত্রের ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিভিন্ন সংগঠনের ছাত্ররা মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করেছে, শিক্ষাঙ্গনকে বানিয়েছে রণাঙ্গন। বিশ্বাসই হতে চায় না যে, যে ছাত্ররা এক সময় দেশরক্ষার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, আজ তাদের হাতের অস্ত্র দেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু কেন?
রাতারাতি বড় হওয়ার আকাংকা, হীন স্বার্থের মানসে। ‘ সরকার ও কতিপয় রাজনৈতিক দল কর্তৃক সন্ত্রাসকে উৎসাহ প্রদান ” ইত্যাদি ছাত্র রাজনীতিতে সন্ত্রাসের জন্ম দেয়। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে ছাত্র রাজনীতি বিলুপ্ত করা দরকার। | ছাত্ররা জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ন্তা, তাই তাদেরকে অবশ্যই সন্ত্রাসমুক্ত থাকতে হবে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ছাত্রদের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থানীতিকে ঢেলে সাজাতে হবে। তাই সকল প্রকার সন্ত্রাস ও দূষিত চিন্তা বিলুপ্ত হয়ে আমাদের সোনার বাংলায় টিকসই ও সুন্দর ছাত্র রাজনীতি অব্যাহত থাকক—এটিই সকলের কাম্য। (শিক্ষাঙ্গনে) (শিক্ষাঙ্গনে)[wp_ad_camp_1]
শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন লেখা দেখতে এখানে ক্লিক করুন
যেকোন প্রশ্ন করতে ও জানাতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।