শিক্ষার মান উন্নত করতে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকের ভুমিকা।

শিক্ষার মান উন্নত করতে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকের ভুমিকা।
শিক্ষার মান উন্নত করতে শিক্ষকের ভুমিকাই সর্বাধিক অগ্রগণ্য।অভিভাবকদের সচেতন করার দায়িত্বও শিক্ষকদের।শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষককে আন্তরিক হতে হবে।শিক্ষক দরদী মন নিয়ে শিক্ষা দান করতে হবে।শিক্ষককেই সমাজের পরিবর্তনের লক্ষে কাজ করতে হব।সমাজের বর্তমান যে নৈতিক অবক্ষয় তার পিছনে শিক্ষকও কিছুটা দায়ী।আর এই অবক্ষয় দুর করার জন্য শিক্ষককে কাজ করতে হবে।এতো কিছু দায়িত্ব যখন শিক্ষকদের, তখন অবশ্যই শিক্ষকদের অনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।
এখন আসি অভিভাবকের কথায়; অভিভাবকদের সাথে শিক্ষকদের সমন্বয় করা দরকার।শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের ভুমিকা সর্বাধিক গুরত্বপুর্ণ।প্রতিটি অভিভাবক অন্তত সপ্তাহে একদিন শিক্ষকদের সম্ম্যানের সহিত ছাত্রদের বিষয়ে জানতে চাবেন। শুধু নিজের সন্তানকে সন্তান মনে করলে হবে না।বিদ্যলয়ের প্রত্যেকটি ছাত্রকে সমান চোখে দেখা উচিত।নিজের ছাত্রকে তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ছাত্রকেও জানতে হবে।শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার সন্তানের-রি পরোক্ষভাবে উপকার হবে।নিজের সন্তানকে শুধু সন্তান মনে করে আমরা একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে যায়।কেন আমার সন্তান রোল ১ করল না।কেন অমুকের ছাত্র ১ করল। এতে শিক্ষকগণ কিছুটা বিরম্বণার স্বীকার হন।তবে এক্ষেত্রে যদি শিক্ষকদের কোন ত্রুটি বা হাত থাকে তাহলে এ লজ্জাজনক কাজ থেকে সরে আসায় ভাল।পাড়াগ্রামের বিদ্যালয়ে একটি খুব সত্য ঘটনা ঘটে যেটা না বললেই নয়। সেটা হলো একজন শিক্ষককের শিক্ষাগত যোগ্য যেখানে ডিগ্রী পাশ নিম্নে।সেখানে একজন সভাপতি হন নিরক্ষর লোক।বুঝেন শিক্ষার মান কিভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।আবার কিছু বিষয়ে জটিলতা থাকার কারণে দেখা যায় কমিটি বিদ্যালয়ে কোন আসে না। বিদ্যালয়ের ভালমন্দ খোঁজ নেয় না।মাস অন্তর একটা সই কোনভাবে করলে হলো।আসলে গ্রাম অঞ্চলের অভিভাবকগণ সন্তানের শিক্ষার বিষয়ে যথাযথ সচেতনতা দেখান না।
যদি তাদেরকে বিদ্যালয়ে আহবান করা হয় তো তেমন সাড়া পাওয়া যায় না্।অভিভাবকদের প্রতি শিক্ষকদের কোন ধরনের গাফলতি থাকলে তা অবশ্যই খারাপ লাগবে।সেক্ষেত্রে একজন অভিভাবক সাড়া না দিতে পারে।কিন্তু শিক্ষককের কি সে ধরনের আচারণ করা কি ঠিক? এখন প্রশ্ন উঠতে পারে কেন শিক্ষকগণ এ ধরনের আচারণ করবেন?তার বড় বড় উদাহারণ থেকে একটা ছোট্র নমুনা পেশ করি। সেটা হলো শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো।একজন শিক্ষক ক্লাসের সকল ছাত্রকে সমান চোখে দেখতে ত্রুটি থাকতে পারে।কিন্তু তার কাছে প্রাইভেট পড়া ছাত্রদের প্রতি সু-নজর দিতে কখনো ভুল করবেন না।সুতারাং লক্ষ করেন কেন একজন শিক্ষকের সাথে অভিভাবকের মনোমালিন্য হতে পারে?
আর একটা গুরত্বপুর্ণ বিষয় তাহলো পরিক্ষার ক্ষেত্রে বার বার নতুন নতুন পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে বা নিয়ম চালু হলে তাতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।যাহোক এর উপর আমি আজ বিশেষ কিছু বলতে চাই না।কারণ এটা একটা বিস্তারিত বিষয়। এর উপর লিখতে গেলে পোষ্টি বড় হয়ে যাবে।এর পর আসি ছাত্রদের ভুমিকার ব্যাপারে; লেখাপড়া বিষয়ে কোন সমস্যা দেখা গেলে তা অবশ্যই শিক্ষকদের জানাতে হবে।শিক্ষকগণ বিষয়টি নিয়ে সুরাহা না করলে অভিভাবক বা কমিটিকে জানাতে হবে।দুর্বল ছাত্র বন্ধুদের প্রতি কখনো খারাপ আচারণ করা যাবে না্।তারা যাতে ভাল হয় সেদিকে সাহায্য করতে হবে।শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক যাতে সুবিধামত পড়াতে পারেন সে বিষয়ে শিক্ষককে সহযোগিতা করতে হবে।প্রতিদিনের পড়া প্রতি দিন ক্লাসে শেষ করতে হবে। কোচিং নির্ভরশীলতা মনোভাব দূর করতে হবে।কিন্তু পরিস্থিতি সবটা উল্টা।বিদ্যুৎ নাই বলে পড়া হয় না।প্রাইভেট পড়তে দেই না বলে পড়া হয় না।তাহলে যখন বিদ্যুৎ ছিল না, প্রাইভেট ছিল না, তখন কিভাবে ভাল ছাত্ররা পড়ছে? সুতারাং আমোদের এধরনের মন মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।আমাদের শিক্ষার মান উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে হবে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।সুষ্ঠশিক্ষানীতি প্রনয়ন করতে হবে।শিক্ষা বিষয়ে প্রতিবার বেশি বাজেট বরাদ্দ করতে হবে।শিক্ষকদের ছাত্র শাসনের ব্যাপারে বিশেষ নিয়মে আবদ্ধ করা যাবে না। সেজন্য শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।এস এস সি পাশ মাষ্টার নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।শিক্ষকদের কোমলমতি মন নিয়ে ভালবাসা দিয়ে যত্নসহকারে পড়াতে হবে।পাশাপাশি অভিভাবকদের শিক্ষকদের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে।সবকিছু মিলিয়ে প্রসাশনিক দিক থেকে তৃণমুল পর্যন্ত শিক্ষা ব্যাবস্থা ঢেলে সাজালে আমাদের শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব। বিশেষ কিছু বিষয়ে শত আইন প্রণয়নের পরেও সমাধান না হওয়ায় একটু সন্দেহ রেখেই বলতে হয় শিক্ষার উন্নয়ন এগিয়ে চলছে।
আমাদের এরকম আরো শিক্ষামুলক পোষ্ট দেখতে এখানে ক্লিক করুন্।
ফেসবুক পেজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে ও জানতে আমাদের সাইটে থাকুন। (লিংক)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.