সনদের ফটোকপি সত্যায়িত, স্বাক্ষর এবং সিল নিয়ে যত সমস্যা।

সনদের ফটোকপি সত্যায়িত স্বাক্ষর এবং সিল নিয়ে যত সমস্যা। আপনারা জানেন যেকোন চাকরির আবেদন করতে গেলে সনদ গুলো প্রথম শ্রেণীর গ্রাজুয়েট দ্বারা সত্যায়িত করতে হয়।এর উপর কত গুলো বাস্তব সত্য কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে চাই।আসলে এখন আর আমার কাগজ পত্র সত্যায়িত করার দরকার নাই।কিন্তু তারপরও এই লেখা পোষ্ট করার আগে কিছু কাগজপত্র সত্যায়িত করতে গিয়েছিলাম উপজেলায়।এখানে কি ঘটেছিল এবং অতীত জীবনের সত্যায়িত সিল নিয়ে ঘটে যাওয়া কিছু অবিশ্বস্য তথ্য তুলে ধরতে চাই।তার আগে একটা প্রশংসা না করলেই নয়।আমাকে একটি সম্মানীত ব্যক্তির কিছু ভুমিকা খুব ভাল লেগেছে।সম্ম্যানিত ব্যক্তিটি হলেন আমাদের উপজেলা ENO SIR. আপনারা সবাই চিনেন নামটা বললাম না।তিনার অনেকগুলো প্রশংসনীয় পদক্ষেপের মধ্যে একটি পদক্ষেপ সর্ম্পকে আমি আপনাদের জানাতে চাই।সম্প্রীতি 17/12/19 পর্যন্ত ফ্রি ফিলান্সিং শেখানোর জন্য একটি পোষ্ট তিনার ফেসবুক আইডিতে আমরা দেখতে পাই।আমরা আত্রাই উপজেলার একবারে পম্চিম শেষ প্রান্তে বাস করি। বছরেও যায় না উপজেলার ধারে কাছে।নোটিশ বোর্ড তো দেখা দুরে থাক।ENO সাহেবেরে পোষ্ট দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। কারণ এ পোষ্টের মাধ্যমে আমার মত শত শত যুবক যুবতী ভাই বোনেরা এরকম একটি কাজে অংশগ্রহণ বা আবেদন করার সুযোগ পেল।বিশেষ করে আমি খুবি আনন্দিত হয়েছি।টিকতে পারি না পারি কিন্তু আবেদন করার সুযোগ পেলাম।কারণ এই সেক্টরে আমি 2012 সাল থেকে কাজ করে আসছি। কিন্তু্ এখন পর্যন্ত ভাল কিছুর মুখ দেখতে পাইনি। কারণ এক্ষেত্রে ভাল কোন গাইড বা পথপ্রদর্শক আমি পাইনি।পাড়া গ্রাম থেকে পাওয়া সম্ভবও না।ENO সাহেবের পোষ্টটি দেখে আমার মনে একটু আশার সঞ্চার হলো যে আমাদের উপজেলায়ও ফিলান্সিং এর ব্যবস্থা আছে। যেখান থেকে হয়তো কিছু নির্দেশনা পাওয়া সম্ভব।

এই ফ্রি ফিলান্সিং এর ট্রেনিং এ অংশগ্রহণের জন্য আগে আবেদন করতে হবে।ভাইভা পরিক্ষায় যারা টিকবে তারা ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করতে পারবে।আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সত্যায়িত করতে প্রথমে গেলাম উপজেলা কৃষি অফিসারের নিকট।কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর জানতে পারলাম স্যার কম্পিউটারে কাজ করছে।এখন বাস্ত অমুখ অমুখ স্যারের নিকট যাও।আমি আর ভয়ে কিছু বললাম না। কারণ রাজশাহী কলেজে প্রীভিয়াস পরিক্ষা দেওয়ার সময় কিছু কাগজ সত্যয়িত করার জন্য গিয়েছিলাম আমার দর্শন বিভাগের এক স্যারের নিকট।অবশ্য আমি নিয়মিত ছাত্র ছিলাম। প্রাইভেট শিক্ষার্থী ছিলাম।পরিচয় দিয়ে স্যারকে বললাম স্যার আমার কিছু কাগজ সত্যয়িত করতে হবে।দয়া করে সত্যয়িত করে দিলে খুব উপকৃত হতাম।স্যার বললেন পারবেন না।উপায়অন্ত না পেয়ে স্যারকে অনুরোধ করলাম।কিন্তু স্যার তাতে আরো ক্ষেপে গেল।আমাকে খুব খারাপ লাগলো।ফিরে এসে পরের দিন একটা মস্তবড় কাগজ কম্পো্জ করে খামে ভরে অফিসে দিয়ে আসলাম।যার সারমর্ম হলো এরকম অনেক সত্যয়িত সিল প্রত্যেকের বাড়ী বাড়ী আছে।অবশ্য আমি বুঝতে পারিনি যে স্যার ঐ সময় কম্পিউটারে কাজ করার জন্য মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল।কারণ কম্পিউটার টা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।তাই আমি উপজেলা কৃষি স্যারকে আর অনুরোধ করলাম না।গেলাম পশু অফিসে গিয়ে দেখি স্যার মিটিং এ আছেন। সেখান থেকে গেলাম অন্য অফিসে গিয়ে শুনলাম স্যার নওগাঁ গিয়েছে।সেখান থেকে গেলাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। এক প্রাইমারী শিক্ষকের সাহায়্যে গেলাম স্যারের নিকট। স্যার বললেন যত টুকু লাগবে ততটুকু সত্যয়িত করে নাও। বেশি কাগজ সত্যয়িত করতে পারবো না।আমি এক জায়গায় যাবো্।অনেক কথা। শেষে সত্যয়িত করে নিয়ে মহা খুশিতে চলে আসলাম যুবউন্নয়ন অফিসে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য।এদিকে আমার খুব তাড়া ছিল কারণ সময়মতো না পৌছালে আমার ছাত্রছাত্রীর পরিক্ষার পড়ার ক্ষতি হবে।আমার জীবনের প্রথম ডিগ্রী পাশের পর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ চাকরির একটি আবেদন করেছিলাম।আবেদন যাচাই বাচাই পর সবার প্রবেশ পত্র আসে কিন্তু আমার প্রবেশপত্র এলো না।আমাকে পরামর্শ দিলেন এক সম্ম্যানিত সুধীজন যে, তুমি জেলা শিক্ষা অফিসে যাও।জেলা শিক্ষা অফিসে গেলাম।নোটিশ বোর্ড দেখলাম।নাগরিকত্ব সনদ সত্যয়িত করা নাই তাই আমার প্রবেশ পত্র বাতিল করা হয়েছে।আমি আবার জানালাম আমার সেই সুধীজনকে।তিনি বললেন যে অফিসের টেলিফোন নাম্বার টা নাও। আমাকে নাম্বারটা দাও। কিন্তু কাকে বলবো, কে দিবে নাম্বার?অবশেষে সেই সুধিজনের একটু পরিচয় দেওয়ায় নাম্বারটা দিল। কিন্তু স্যার তো নাই অফিসে।নাম্বারটা আমার সুধীজনকে দিলাম কিছুক্ষণের মধ্যে টেলিফোন বেজে উঠলো।স্যারও চলে আসলেন। পরিচয় দিয়ে বললেন আপনার সামনে একটা ছেলে আছে দেখেন। খুব গরিব চড় এলাকার।নদী ভেঙ্গে সব চড়ে পরিণত হয়েছে।যদি পারেন ওর প্রবেশপ্রত্র দান।স্যার বললেন আরো আগে আসলে হতো।এখন আর হবে না।যাহোক আমি অনেক কৃতজ্ঞ সেই সুধিজনের প্রতি।তিনি এখনো আমাকে অনেক সাহায্য করে থাকেন।এর মধ্যে আমি জেলা ষিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলার সাহস পেয়ে গেলাম।বললাম স্যার নাগরিকত্ব সনদ সত্যয়িত করবে কে?স্যার বললেন কেন প্রথম শ্রেণীর গ্রাজুয়েট।আমি বললাম আমার গ্রাম, ইউনিয়ন এমনকি আশপাশের কোন ইউনিয়নেও তো আমি প্রথম শ্রেণীর গ্রাজুয়েট খো্ঁজে পাবো না।একমাত্র উপজেলা ছাড়া।আর নাগরিকত্ব সনদের একমাত্র চেয়ারম্যান সাহেবই ভাল জানেন আমার সমন্ধে।আমি ভাল না খারাপ, কোন রাষ্ট্রদ্রোহী মামালার সঙ্গে জড়িত কি না তা একমাত্র আমার ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান সাহেব ভাল জানেন। আর তিনিই তো আমার সব কিছু জেনে এই নাগরিকত্ব সনদ দিয়েছে।এটা আবার অপরিচিত গ্রাজুয়েট কি করে আমাকে সত্যয়িত করবে?আরো বললাম যদি আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব যদি একদিকে চেয়ারম্যান আবার একজন প্রথম শ্রেণীর গ্রাজুয়েট হন তাহলে নতুন করে নাগরিকত্ব সনদ সত্যয়িত করার দরকার কি?যাহোক অনেক কথা। শেষে জেলা শিক্ষা অফিসার বললেন দেখেন আপনার সাথে আমার তো কোন শুত্রুতা নাই। যা হবার হয়েছে। সামনেবার অবার চেষ্টা করো।তার পরের বার আর কাগজ সত্যয়িত চাইনি।পরে বার বার প্রবেশপত্র এসেছে কিন্তু টিকতে পারিনি।এই হলো সত্যয়িত সিল স্বাক্ষর এর সামান্য কাহিনী।আরো ঘটনা আছে সময় পেলে কোন এক পোস্টে তুলে ধরবো ইনশাল্লাহ।পরিশেষে সব ভাল মানুষের ভালগুলো যেন মানুষের মন জয় করতে পারে এই আশা কামনা করে সনদের ফটোকপি সত্যায়িত স্বাক্ষর এবং সিল নিয়ে যত সমস্যা লেখাটি এখানে শেষ করছি। সনদের ফটোকপি সনদের ফটোকপি সনদের ফটোকপি শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন লেখা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
যেকোন প্রশ্ন করতে ও জানাতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ফেসবুক পেজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

2 thoughts on “সনদের ফটোকপি সত্যায়িত, স্বাক্ষর এবং সিল নিয়ে যত সমস্যা।

Comments are closed.

%d bloggers like this: