সমাজে প্রচলিত একটা মিথ্যা বাক্য।

শেষ ভাল যার সব ভাল তার।

কথাটি সমাজে বহুল প্রচলিত থাকলেও তা সঠিক নয়। আমি একটা উদাহারণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই। ধরুন একজন লোক সারা জীবন পাপ কাজ করে করে মারা গেল খুব ভালভাবে। সে কোন দিন অসুখে ভোগল না। বিছানায় পড়ে থাকল না। হঠাৎ একদিন মারা গেল। এখন প্রশ্ন হল এই লোকটির শেষ ভাল। তাহলে কি তার সব ভাল? সব যদি ভাল হয় তাহলে সাধারণ মানুষ খুব কষ্ট পাবে। ন্যায় নীতি বলে কিছু থাকবে না। হাদিস কোরআন আল্লাহর বাণীকে মানুষ ভুল বুঝবে। সুতারাং এদিক থেকে কথাটি ডাহা মিথ্যা। এটা একটা মিথ্যা সাময়িক শান্তনার বাণী মাত্র। বাস্তবে এর কোন মিল নাই। আবার ধরুন একটা লোক সারা জীবন ধরে খুব সহজ সরল ধার্মিক জীবন অতিবাহিত করল। সে সারা জীবন কারো অন্যায় করল না। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করলো। কিন্তু মারা যাওয়ার আগে লোকটির খুব কষ্ট হল। এমনটি হয় না তাতো নয়। বরং বহুত উদাহারণ আছে ভাল মানুষ মারা যাওয়ার আগে অনেক কষ্ট পায়। এর তো শেষ খারাপ। তাহলে এর সারা কি জীবন খারাপ? এ রকম হলে মানুষ ভাল কাজ করা ছেড়ে দিবে। ন্যায় নিতি সমাজ থেকে উঠে যাবে। সমাজে অশান্তি দেখা দিবে। সুতারাং “শেষ ভাল জার সব ভাল তার”; কথাটি মিথ্যা। আমাকে একটা শিক্ষক যুক্তি দেখিয়ে ছিলেন যে, একটা ছাত্র সারা বছর ভালভাবে লেখাপড়া করেনি। পরিক্ষার সময় নকল করে পাশ করলো৷ তার মানে ছেলেটির সমস্ত বছর ভাল গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো লেখা পড়ার করার উদ্দেশ্য কি? লেখা পড়ার উদ্দেশ্য যদি পাশ করা হয় তাহলে ত তার জীবনের বিকাশ ঘটবে না। যার জীবনের বিকাশ ঘটলো না সে তো অন্ধকারে পড়ে রইল। তার আবার ভাল কি?

সুতারাং আমরা আবিধানিক অর্থে এটা নিশ্চিত প্রমাণ করলাম যে শেষ ভাল যার সব ভাল তার কথাটি ডাহা মিথ্যা। এটা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত একটা শব্দ।